বেজায় ফেঁসাদে বারাসতের এক পরিবার!

স্বাগতা চন্দ্র, নিজস্ব সংবাদদাতা: এসআইআর চালু হতেই কতকির যে পর্দা ফাঁস হল তার ইয়ত্তা নেই। এসআইআর মন্ত্রে ভুতুড়ে ভোটার থেকে অবৈধ ভোটারদের জারিজুরি ফাঁস হওয়ার ঘটনা নজরে এল। এমনকি অনেক ভোটারই জানতে পারলেন তাঁদের আত্মগোপন করে থাকা সন্তানদের কথা। যা জেনে অনেকেই ভিড়মি খেলেন। এই যেমন বারাসতে এক পরিবার পড়েছেন বেজায় ফেঁসাদে। পরিবারে সদস্য সংখ্যা পাঁচ। কিন্তু বাড়িতে এসআইআর ফর্ম এল সাত সাতটি। অতিরিক্ত দুটি কার। তা জানতে গিয়েই রীতিমতো চক্ষু চড়ক গেছে। ওই পরিবার কর্তা জানেনই না তাঁর আরও দুই সন্তান রয়েছে। এদিকে দুই সন্তানের কথা জানতে পরে পরিবারের মধ্যে বেঁধে গেছে কলহ। আসল কারণ জানতে ওই ব্য়ক্তিকে ছুটতে হল প্রশাসনের দরজায়। বিডিওর কাছে অভিযোগও দায়ের করতে হল তাঁকে।

উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ দক্ষিন বিধানসভার ১৯১ নম্বর পার্টের বাসিন্দা রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস। তার তিন সন্তান। সব মিলিয়ে ৫ জনের পরিবার। এস আই আর ফর্ম আসার কথা ছিল পাঁচ জনের। কিন্তু বিএলও সাত জনের ফর্ম নিয়ে যায় তাঁর বাড়িতে। ফর্ম দেখে রবীন্দ্রনাথবাবু জানতে পারেন তার পাঁচ সন্তান। যা দেখে রীতিমতো থ রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস। তিন সন্তান থেকে বেড়ে পাঁচসন্তান কী করে হল। কোথা থেকেই বা এল ভুতুড়ে সন্তান। এসআইআর না হলে তিনি ভুতুড়ে সন্তানদের কথা জানতেই পারতেন না। এদিকে সত্যি জানতে তিনি দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন। রবীন্দ্রনাথবাবু জানতে পারেন রাজু বিশ্বাস ও বিশু বিশ্বাস নামে দুই জন তাঁকে বাবা দেখিয়ে ভোট করেছে। বিষয়টি জানতে গাইঘাটা বিডিও-র আছে অভিযোগ দায়ের কররে রাজু ও বিশু-র নাম বাদ দেওয়ার দাবি করেছেন। রবীন্দ্রনাথ বাবুর দাবি, তিনি রাজু ও বিশুকে চেনেন না। তাদের এলাকায় এই দুই জনের বাড়িও না। বিষয়টি ক্ষতিয়ে সেখার অশ্বাস দিয়েছেন গাইঘাটার বিডিও নীলাদ্রি সরকার। বিষয়টি সামনে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপিকে আক্রমণ করেছেন বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সব্যসাচী ভট্ট। তিনি বলেন, এটা কি ভাবে হল সেইটা নির্বাচন কমিশন বলতে পারবেন, ওই এলাকার বিধায়ক বিজেপির এবং পঞ্চায়েত সদস্যও বিজেপির। তারা বলতে পারবেন কি ভাবে হল। তৃণমূল নেতা বলছেন বিজেপি কি ছেড়ে দেবে তাই পাল্টা দিতে ছাড়েন নি বনগাঁ দক্ষিনে বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদার। তিনি বলেন, বাংলায় দীর্ঘদিন তৃণমূল ক্ষমতায় রয়েছে। তৃণমূলের সে দাদাল গুলো বিভিন্ন অফিসের সামনে থাকে তারা টাকার বিনিময়ে ভুয়ো বাবা এই ভোট গুলি করেছিল। এবার এস আই আর হওয়ার ফলে সে গুলি ধরা পড়ছে।

বুঝতে পারছেন গল্পের গরু কীভাবে গাছে উঠেছে। রবীন্দ্রনাথ বাবুর দাবি ভগ্যিস এসআইআর হল তাই তিনি জানতে পারলেন তাঁর দুই ভুতুড়ে সন্তানের কথা। না হলে তিনি জানতেই পারতেন না রাজু বিশ্বাস ও বিশু বিশ্বাস নামে দুই কাগুজে সন্তানের কথা। ভাবুন একবার কী বিপদ। এভাবে জালিয়াতি করে কতদিন ধরে ভোট দিচ্ছে ভুতুড়ে ভোটাররা। আর টেরই পাচ্ছে না প্রশাসন। না কি সব জেনেও না জানার ভান করছে সকলে।