মহাষ্টমীতে কৃষ্ণনগরে বামেদের বুকস্টলে ভাঙচুর!

একদিকে দুর্গাপুজোর মহাষ্টমী। চারদিকে উৎসবের আবহ। আর অষ্টমীর সন্ধ্যাতেই নদিয়ার কৃষ্ণনগর সদর শহরের প্রাণকেন্দ্র পোস্ট অফিস মোড়ে বামেদের বুকস্টল ঘিরে তুমুল উত্তেজনা। অভিযোগ, আরএসপির বুকস্টলে ভাঙচুর চালিয়েছে নিজেদের হিন্দুত্ববাদী বলে দাবি করা কয়েকজন যুবক। পরিস্থিতি সামাল দিতে ছুটে আসে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার পুলিশ। কিন্তু ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছতেই শুরু হয় বাম সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের বাগ্‌বিতণ্ডা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নামানো হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কমব্যাট ফোর্স।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

আরএসপির অভিযোগ, বুকস্টলে সুভাষচন্দ্র বসু, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এবং অন্যান্য কবি-লেখকের বই বিক্রি করা হচ্ছিল। তাদের দাবি, মা সরস্বতীর ছবিও ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধীদের অভিযোগ, বই বিক্রির আড়ালে চলছিল অপপ্রচার। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানায় অভিযোগও দায়ের করেছে আরএসপি।

মহাষ্টমীর সন্ধ্যা। কৃষ্ণনগর সদর শহরের পোস্ট অফিস মোড়। সেখানেই আরএসপি তথা বামফ্রন্টের বুকস্টলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত বলে অভিযোগ। বামফ্রন্টের সমর্থকদের দাবি, তাঁদের বুকস্টলে বিভিন্ন কবি-লেখকের বই বিক্রি করা হচ্ছিল। সেই বই বিক্রিকে কেন্দ্র করেই কয়েকজন যুবক আপত্তি জানায় এবং পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আরএসপির অভিযোগ, শুধু বাগ্‌বিতণ্ডাতেই বিষয়টি থেমে থাকেনি। বুকস্টলে ভাঙচুর চালানো হয়। এমনকি মা সরস্বতীকে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন বাম সমর্থকেরা। ঘটনার খবর দেওয়া হয় কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ প্রশাসন। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা শুরু হয়। কিন্তু পুলিশকে সামনে রেখেই বামফ্রন্টের সমর্থকদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা তৈরি হয় বলে অভিযোগ। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে নামানো হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কমব্যাট ফোর্স।

বই বিক্রির আড়ালে অপপ্রচার চালানোর যে অভিযোগ উঠেছে, তার ভিত্তি কী?বিরোধীদের অভিযোগ, বুকস্টলে বই বিক্রির নামে অপপ্রচার চালানো হচ্ছিল। কিন্তু সেই অভিযোগের নির্দিষ্ট ভিত্তি কী, কোন বইয়ের কোন বক্তব্য নিয়ে আপত্তি ছিল, কিংবা কী ধরনের প্রচারের অভিযোগ তোলা হয়েছে সেই তথ্য সামনে আসা জরুরি। কারণ, কোনও বইয়ের বিষয়বস্তু নিয়ে আপত্তি থাকতেই পারে। কোনও রাজনৈতিক সংগঠনের মতাদর্শের সঙ্গে অন্য কোনও সংগঠনের মতাদর্শের মিল নাও থাকতে পারে। কিন্তু সেই আপত্তি জানানোরও নির্দিষ্ট গণতান্ত্রিক পদ্ধতি রয়েছে।

কোনও বইয়ের বক্তব্য ভুল মনে হলে তার সমালোচনা করা যায়। কোনও প্রচার আপত্তিকর মনে হলে পাল্টা বক্তব্য দেওয়া যায়। প্রয়োজনে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো যায়। কিন্তু অভিযোগ সত্য হোক বা মিথ্যা, তার নিষ্পত্তি হওয়া উচিত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে। কোনও বুকস্টল ভাঙচুর করে বা বই বিক্রি বন্ধ করতে বলপ্রয়োগ করে নয়। আর এখানেই কৃষ্ণনগরের ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কারণ, অভিযোগের নিষ্পত্তির আগেই যদি রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়তে থাকে, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এলাকার শান্তি এবং মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা।

আরএসপি তথা বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন, সেই অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে? অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে কি? বুকস্টলে ভাঙচুর এবং মা সরস্বতীকে ছুড়ে ফেলার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে পুলিশ কী তথ্য পেয়েছে? এই ঘটনায় অভিযোগের তীর পদ্মশিবিরের দিকে। তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। একদিকে আরএসপির অভিযোগ, তাঁদের বুকস্টলে ভাঙচুর চালানো হয়েছে এবং মা সরস্বতীকে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধীদের অভিযোগ, বই বিক্রির নামে অপপ্রচার চলছিল। এই দুই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য তদন্ত জরুরি।