অবশেষে গ্রেফতার বারুইপুরের সিপিএম নেতা লাহেক আলি। হিংসায় উস্কানি দেওয়া সহ ২০টি গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : অবশেষে গ্রেফতার হলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বারুইপুরের সিপিএম নেতা লাহেক আলি । সূর্যপুরে কিশোরীর ধর্ষণ-খুনের পরবর্তী সময়ে সংঘটিত হিংসায় ও এক নিরীহ যুবককে পিটিয়ে মারার ঘটনায় ওই সিপিএম নেতার ভূমিকা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন উঠছিল । বিজেপির তরফে একটি এফ আই আর দায়েরও করা হয় ।
উঠছিল গ্রেফতারের দাবি । অবশেষে রবিবার (১২ জুলাই) রাতে বারুইপুরের বাড়ি থেকেই গ্রেফতার করা হয় লাহেক আলিকে। তার বিরুদ্ধে গণপিটুনি, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ ছড়ানো, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, সরকারি কর্মচারীদের কাজে বাধা দান, মারধর-সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার( BNS) ২০টি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে বলে জানা গেছে ।
Baruipur PS Case No. 1388/26 dated 12.07.26 U/S 61(2)/103(2)/55/189(2)/190/191(2)192/196/353(1)(c)/353(2)/299/121(1)/121(2), 132; 115(2)/117(4)324(2)/324(6)/329(3)/351 of BNS read with 3 of PDPP Act 1984 & 9 of MPO Act 1972 & 150/151/153/174 of Indian Railways Act, 1989.
গত রবিবার বারুইপুরের সুর্যপুরের একটি পুকুর থেকে ১২ বছরের একটি মেয়ের বস্তাবন্দি মৃতদেহ উদ্ধারের পরই ব্যাপক হিংসা ছড়ায় এলাকায় । পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর হামলা হয় । পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর হয় । চেষ্টা হয় রেললাইন উপড়ে ফেলার । সেই হিংসার সময় ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল নামে এক টোটো চালক যুবককে বাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে প্রকাশ্য রাস্তায় নৃশংসভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয় । হিংসার সময় কোথাও কোথাও সিপিএম নেতা লাহেক আলিকে দেখাও গেছে বলে অভিযোগ ।
খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, এই হিংসায় পিছন থেকে যারা উসকানি দিয়েছিল তাদের মধ্যে রয়েছে ভোটে হেরে যাওয়া (তৃণমূল) ও একটা আসনে জেতা দল (সিপিএম) এবং চরমপন্থী ও দেশবিরোধীরা । এর পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিপিএমের সুজন চক্রবর্তী,লাহেক আলি, মোনালিসা সিনহা ও সইফুদ্দিন মন্ডলের বিরুদ্ধে বারুইপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বারুইপুর বিজেপির ৪ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি অরুণ প্রধান । বিজেপির অভিযোগ, সূর্যপুরের ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়া ও জনসমক্ষে প্ররোচনামূলক মন্তব্য করা হয়েছে। মিথ্যা খবর প্রচার করে এলাকায় দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা হয়েছে ।
পুলিশ ধৃত সিপিএম নেতার লাহেক আলির বিরুদ্ধে বিএনএস- এর ২০টি ধারায় মামলা রুজু করেছে।
অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, গণপিটুনিতে খুন, প্ররোচনা দেওয়া, বেআইনি সমাবেশ, দাঙ্গা, প্রাণঘাতী অস্ত্র নিয়ে আসা, উস্কানি দেওয়া, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা-বিদ্বেষ ছড়ানো, জনসাধারণের সম্পত্তি নষ্ট করা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা, সরকারি কর্মচারীকে কাজে বাধা, সরকারি কর্মচারীর উপর হামলা, অপরাধমূলক ভয় দেখানো, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা, সংরক্ষিত সম্পত্তি নষ্ট করা, অবৈধ কাজ করা, রেলের সম্পত্তির ক্ষতি করা, রেলকর্মীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা প্রভৃতি । লাহেক আলির বিরুদ্ধে রেলওয়ে অ্যাক্টেও মামলা দায়ের হয়েছে।
প্রসঙ্গত,লাহেক আলি হলেন সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য । এবারের বিধানসভার ভোটে বারুইপুর পশ্চিমে সিপিএম প্রার্থীও হয়েছিলেন তিনি । গত সপ্তাহের সোমবার প্রসেনজিৎ বিশ্বাস নামে এক ১৭ বছরের কিশোরকে বারুইপুর পালপাড়া ব্যাংক সংলগ্ন এলাকায় গলাকেটে খুনের ঘটনার জন্যেও লাহেক আলির উস্কানিকেই দায়ী করা হয়েছিল।