ফাঁসিই বহাল, ‘কম যন্ত্রণার’ পদ্ধতির আর্জি খারিজ সুপ্রিম কোর্টে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : দেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে আপাতত ফাঁসিই বহাল থাকছে। ফাঁসির বদলে প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশন, গুলি, বিদ্যুৎপ্রবাহ বা গ্যাসের মাধ্যমে তুলনায় কম যন্ত্রণাদায়ক পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আর্জি খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ এই আবেদন খারিজ করে জানিয়ে দিয়েছে, ফাঁসির সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে এখনই নতুন করে প্রশ্ন তোলার যথেষ্ট কারণ নেই।
আইনজীবী ঋষি মালহোত্রার দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায় দাবি করা হয়েছিল, ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিধান অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হোক। তাঁর যুক্তি ছিল, সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে জীবনের অধিকারের পাশাপাশি মর্যাদাপূর্ণ মৃত্যুর অধিকারও স্বীকৃত হওয়া উচিত। সেই কারণে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এমন পদ্ধতি বেছে নেওয়া প্রয়োজন, যাতে দণ্ডিত ব্যক্তির যন্ত্রণা এবং অমানবিকতার মাত্রা সর্বনিম্ন থাকে।
আবেদনকারীর দাবি, ফাঁসির পর প্রায় ৪০ মিনিট পর্যন্ত মৃত্যুর ঘোষণা করতে সময় লাগতে পারে। তার তুলনায় প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশন বা গুলি চালানোর মতো পদ্ধতিতে কয়েক মিনিটের মধ্যেই মৃত্যু হতে পারে। রাষ্ট্রসংঘের একটি প্রস্তাবের কথাও আদালতে তুলে ধরা হয়, যেখানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে সর্বনিম্ন যন্ত্রণাদায়ক পদ্ধতি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
তবে সুপ্রিম কোর্ট আগের তিনটি রায়ের পুনর্বিবেচনার জন্য বিষয়টি বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানোর আবেদনও খারিজ করেছে। বেঞ্চের মতে, বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানোর মতো পর্যাপ্ত ভিত্তি এই মামলায় পাওয়া যায়নি।
তবে এখানেই বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়ে গেল— এমনটাও বলেনি শীর্ষ আদালত। রায়ে স্পষ্ট করা হয়েছে, ভবিষ্যতে বিকল্প পদ্ধতি নিয়ে নতুন, শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক, চিকিৎসাবিজ্ঞানভিত্তিক বা বাস্তব তথ্যপ্রমাণ সামনে এলে বিষয়টি ফের সাংবিধানিক পরীক্ষার আওতায় আসতে পারে। অর্থাৎ গবেষণায় যদি প্রমাণিত হয় যে বর্তমানে প্রচলিত ফাঁসির পদ্ধতির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বদলে গিয়েছে, তা হলে ভবিষ্যতে আদালত নতুন করে বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।
কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে বিকল্প পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞ কমিটিও গঠন করতে পারে বলে জানিয়েছে আদালত।
আপাতত ভারতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি হিসেবে ফাঁসিই বজায় থাকল। তবে ভবিষ্যতে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ও বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে এই দীর্ঘদিনের পদ্ধতি বদলের দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেনি সুপ্রিম কোর্ট।