লোকসভাতেও ভাঙন, স্পিকারের কাছে চিঠি ২০জন তৃণমূল সাংসদের! তৃণমূলের সংসদীয় নেতৃত্ব নিয়ে নতুন সমীকরণ।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : বিধানসভার পরিষদীয় দলের পর এ বার লোকসভাতেও বড় ভাঙনের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে একটি চিঠি জমা দিয়েছেন দলের সাংসদদের একাংশের। সূত্রের দাবি, আপাতত ২০ জন সাংসদের স্বাক্ষর-সহ সেই চিঠি জমা পড়েছে। ওই সাংসদদের নেতৃত্বে রয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। এর ফলে তৃণমূলের সংসদীয় নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে।
দলীয় সূত্রে খবর, বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছিল। এর আগে পরিষদীয় দলে বড়সড় ভাঙনের জেরে দলের বহু বিধায়ক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সংসদীয় দলেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
রবিবার দিল্লিতে তৃণমূলের একাধিক সাংসদের একটি বৈঠক হয় বলে জানা গিয়েছে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, অসিত মাল, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, আবু তাহের খান, সুখেন্দু শেখর রায়, শর্মিলা সরকার-সহ আরও কয়েক জন সাংসদ। বৈঠকের পর থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছিল যে, সংসদীয় ক্ষেত্রে বড় কোনও পদক্ষেপ করা হতে পারে।
সোমবার সেই জল্পনাই আরও জোরালো হয়। স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া চিঠিতে সংশ্লিষ্ট সাংসদরা বর্তমান দলীয় অবস্থান থেকে নিজেদের আলাদা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে সূত্রের দাবি। পাশাপাশি, তাঁরা সংসদে পৃথক ভাবে বসার অনুমতি চেয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে। যদিও স্পিকারের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে লোকসভায় তৃণমূলের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, স্পিকারের স্বীকৃতি মিললে সংসদে দলের শক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে বর্তমান নেতৃত্বের অবস্থানের উপরও।
এ দিকে বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম মুখ শর্মিলা সরকার দাবি করেছেন, এটি হঠাৎ নেওয়া কোনও সিদ্ধান্ত নয়। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই দলের অভ্যন্তরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, সাংগঠনিক অসংগতি এবং উন্নয়নমূলক কাজের ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাঁকে। জেলা স্তরে দুর্নীতি ও অভিযোগের যথাযথ তদন্ত না হওয়া নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
তবে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখনও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া দেয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে বিরোধী জোটের বৈঠকে ব্যস্ত থাকাকালীনই এই রাজনৈতিক নাটকীয়তা নতুন মাত্রা পেয়েছে। এখন নজর স্পিকারের সিদ্ধান্ত এবং আগামী দিনে এই টানাপড়েন কোন দিকে গড়ায়, তার দিকে।