বাজারে এবার এলআইসির নতুন জীবনবিমা

LIC new policy

ভারতের বৃহত্তম বিমা সংস্থা, লাইফ এলআইসি সাধারণ মানুষের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার লক্ষ্যে বাজারে নিয়ে এল দুটি নতুন জীবনবিমা প্ল্যান- ‘প্রোটেকশন প্লাস’ এবং ‘বিমা কবচ’

সূচনা পল্যে, নিজস্ব সংবাদদাতা: বর্তমান অনিশ্চিত সময়ের কথা মাথায় রেখেই এই দুটি প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে, যেখানে একদিকে যেমন রয়েছে জীবনবীমার পূর্ণ সুরক্ষা, তেমনই রয়েছে ভবিষ্যতের সঞ্চয় ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা।

প্রোটেকশন প্লাস

এলআইসি জানিয়েছে, প্রোটেকশন প্লাস একটি নন-পার, ইউনিট-লিঙ্কড, ব্যক্তিগত সেভিংস কাম লাইফ ইন্স্যুরেন্স প্ল্যান। অর্থাৎ এই পরিকল্পনার মাধ্যমে একজন গ্রাহক শুধু জীবনবীমাই পাবেন না, বরং সেই সঙ্গে নিজের পছন্দ মতো বিভিন্ন বিনিয়োগ ফান্ড বেছে নিয়ে সঞ্চয় করার সুযোগও পাবেন।

এই প্ল্যানের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এর ফ্লেক্সিবিলিটি বা নমনীয়তা। গ্রাহক নিজের আর্থিক সক্ষমতা অনুযায়ী প্রিমিয়ামের পরিমাণ নির্ধারণ করতে পারবেন। সেই প্রিমিয়ামের ভিত্তিতেই ঠিক হবে তাঁর বেসিক সাম অ্যাসিওরড বা মূল বিমা অঙ্ক। শুধু তাই নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী সাম অ্যাসিওরড বাড়ানো বা কমানোর সুবিধাও থাকছে।

যারা ভবিষ্যতে অতিরিক্ত টাকা জমা করতে চান তাঁদের জন্য রয়েছে ‘টপ-আপ প্রিমিয়াম’-এর অপশন। অর্থাৎ সাধারণ প্রিমিয়ামের পাশাপাশি অতিরিক্ত টাকা জমা দিয়ে বিনিয়োগ আরও বাড়ানো যাবে।

এই প্ল্যানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হল পার্শিয়াল উইথড্রয়াল বা আংশিক টাকা তোলার সুযোগ। পলিসি শুরু হওয়ার পাঁচ বছর পর, প্রয়োজন হলে গ্রাহক আংশিকভাবে টাকা তুলতে পারবেন। ফলে জরুরি অবস্থায় আর্থিক সহায়তা মিলবে নিজেরই বিনিয়োগ থেকে।

প্রোটেকশন প্লাসের প্রিমিয়াম পেমেন্টও রাখা হয়েছে সহজ। গ্রাহক চাইলে নিয়মিতভাবে প্রিমিয়াম দিতে পারেন। কিংবা নির্দিষ্ট কয়েক বছর পর্যন্ত প্রিমিয়াম দিয়ে পলিসি চালু রাখতে পারেন যাকে বলা হচ্ছে ‘লিমিটেড পে’ অপশন।

সবমিলিয়ে বলা যেতে পারে, এই প্ল্যানটি মূলত তাঁদের জন্য, যাঁরা একসাথে জীবনবিমা ও বিনিয়োগের সুবিধা নিতে চান এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্ত আর্থিক ভিত গড়ে তুলতে চান।

বিমা কবচ কী?

এটি একটি নন-পার, ইউনিট-লিঙ্কড, পিওর রিস্ক লাইফ ইন্স্যুরেন্স প্ল্যান। অর্থাৎ এটি মূলত শুধুমাত্র জীবনবিমার সুরক্ষা প্রদান করার উদ্দেশ্যে তৈরি। কোনও সেভিংস বা ম্যাচিউরিটি বেনিফিট নয়, বরং পলিসির মেয়াদের মধ্যে বিমাধারীর অকাল মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকে আর্থিক সুরক্ষা দিতে এই প্ল্যান কার্যকর হবে।

এই প্ল্যানে মূলত দুই ধরনের ডেথ বেনেফিট অপশন থাকছে। ‘লেভেল সাম অ্যাসিওরড’ এবং ‘ইনক্রিসিং সাম অ্যাসিওরড’। অর্থাৎ প্রথম অপশনে পুরো পলিসি মেয়াদে একই পরিমাণ সাম অ্যাসিওরড থাকবে, আর দ্বিতীয় অপশনে বছর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাম অ্যাসিওরডও ধীরে ধীরে বাড়তে থাকবে। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের নিরাপত্তাও আরও শক্তিশালী হবে।

এই প্ল্যানেও রাখা হয়েছে একাধিক প্রিমিয়াম পেমেন্ট অপশন। কেউ চাইলে একবারে পুরো প্রিমিয়াম দিয়ে দিতে পারেন, যাকে বলা হচ্ছে সিঙ্গল পে। আবার কেউ চাইলে কয়েক বছর ধরে সীমিত সময় পর্যন্ত প্রিমিয়াম দিতে পারেন – যাকে বলা হয় লিমিটেড পে। অথবা নিয়মিতভাবে প্রতি মাস বা বছরে প্রিমিয়াম দেওয়ার অপশন তো থাকছেই।

সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হল এই প্ল্যানের দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা ব্যবস্থা। বিমাধারী চাইলে এমন একটি পলিসি টার্ম বেছে নিতে পারেন, যা ১০০ বছর বয়স পর্যন্ত চলতে পারে। অর্থাৎ সারাজীবনের প্রায় পুরো সময়জুড়ে তিনি ও তাঁর পরিবার একটি আর্থিক নিরাপত্তার বলয়ে থাকবেন। এখানেই শেষ নয়। ‘বিমা কবচ’ প্ল্যানে রয়েছে বিশেষ ‘লাইফ-স্টেজ বেনিফিট’। এলআইসি জানিয়েছে, বিমাধারীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু সময়ে যেমন বিয়ে বা সন্তানের জন্মের সময়। তিনি চাইলে তাঁর লাইফ কভার বা সাম অ্যাসিওরড বাড়াতে পারবেন।

এই সুবিধা পাওয়া যাবে ‘লেভেল সাম অ্যাসিওরড’ অপশন এবং নিয়মিত প্রিমিয়াম পেমেন্ট পদ্ধতির ক্ষেত্রে। তাছাড়া, কেউ চাইলে বেনিফিটের টাকা একসাথে না নিয়ে কিস্তিতে বা ইনস্টলমেন্টের মাধ্যমে গ্রহণ করতে পারবেন। ফলে পরিবার হঠাৎ করে অনেক টাকা খরচ করে ফেলার ঝুঁকি থেকে বাঁচবে এবং দীর্ঘ সময় ধরে আর্থিক সহায়তা পাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান যুগে জীবন অনিশ্চিত। প্রতিদিনই বাড়ছে রোগ-ব্যাধি, দুর্ঘটনা এবং আর্থিক ঝুঁকি। এই পরিস্থিতিতে এমন দুটি পরিকল্পনা সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একদিকে যারা সেভিংস ও ইনভেস্টমেন্টের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ গড়তে চান, তাঁরা বেছে নিতে পারেন ‘প্রোটেকশন প্লাস’, আর যারা শুধুমাত্র পরিবারের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে চান, তাঁদের জন্য আদর্শ হতে পারে ‘বিমা কবচ’।

সবশেষে বলা যায়, এলআইসি-র এই নতুন দুটি উদ্যোগ দেশের বীমা ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করবে এবং সাধারণ মানুষকে এক নতুন ভরসার জায়গা দেবে। জীবন ও সঞ্চয়ের এই যুগল সুরক্ষাই হতে পারে একটি স্থির ও নিরাপদ ভবিষ্যতের চাবিকাঠি। ব্য়ুরো রিপোর্ট আর প্লাস নিউজ।