সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বামীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে লিখলেন মেসির স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো।

শ্রেয়সী বল, সাংবাদিক : তিনি ফুটবল বিশ্বের জাদুকর।এবারও তাঁর জাদুকরি পারফরমেন্স মুগ্ধ করল ফুটবলপ্রেমীদের। বর্তমান ফুটবল বিশ্বের ভগবান হিসাবে মানেন তাঁর ফ্যানেরা। লিওনেল মেসি। নামটাই যথেষ্ট।
ভক্তদের প্রত্যাশা পূরণ করে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে হ্যাটট্রিক করে শুধু আর্জেন্টিনাকে উড়ন্ত সূচনাই এনে দেননি, ছুঁয়ে ফেলেছেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও। এমন এক স্মরণীয় রাতের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন তার স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো।কানসাস সিটির গ্যালারিতে বসে মেসির খেলা উপভোগ করেছেন আন্তোনেলা এবং তাদের তিন ছেলে থিয়াগো মেসি, মাতেও মেসি এবং সিরো মেসি। মাঠে মেসির প্রতিটি মুহূর্তের সাক্ষী ছিলেন তারা। ম্যাচ শেষে পরিবারের সঙ্গে তোলা কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে আর্জেন্টিনা অধিনায়কের প্রতি নিজের ভালোবাসা ও মুগ্ধতা প্রকাশ করেন আন্তোনেলা।সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বামীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে লিখেছেন , ‘চলো আর্জেন্টিনা! সবসময় তোমার সঙ্গে আছি, লিও মেসি! তুমি অবিশ্বাস্য!’
আন্তোনেলার এই সংক্ষিপ্ত বার্তাই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সমর্থকদের মধ্যে। কারণ এটি শুধু একজন সমর্থকের প্রশংসা নয়, বরং এমন একজন মানুষের অনুভূতি, যিনি মেসির পুরো ক্যারিয়ারজুড়ে সবচেয়ে কাছ থেকে তার সংগ্রাম, সাফল্য এবং আবেগের সাক্ষী হয়ে আছেন।বিশ্বকাপে মেসির পরিবারের উপস্থিতি এখন যেন এক পরিচিত দৃশ্য। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের মতো এবারও গ্যালারিতে আন্তোনেলা ও তাদের তিন সন্তান। ২০১৮ সালে জন্ম নেওয়া ছোট ছেলে সিরো প্রথমবারের মতো বাবার বিশ্বকাপ যাত্রা দেখেছিল কাতারে। এবার যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেও পরিবারের সমর্থন পেয়েই শুরু করলেন নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ।বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসির পরিবারের উপস্থিতি এখন অনেকটাই পরিচিত দৃশ্য।

বিশ্বের অগনিত ফুটবলপ্রেমীর এই ভালবাসার মানুষটির ভালবাসা আন্তোনেলা। যিনি বর্তমানে মেসির স্ত্রী ও সন্তানের মা।মাত্র ৫ বছর বয়স থেকে একে অপরকে চেনেন মেসি ও আন্তোনেলা। বন্ধুত্বের শুরুটা তখন থেকেই।দুজনেই রোজারিও শহরেই থাকতেন। ফলত, বাড়িতে হামেশাই লেগে থাকত আসা যাওয়া।মেসির এক বন্ধুর বোন আন্তোনেলা। তাই খুব সহজেই বন্ধুত্ব হয়ে যায় তাঁদের। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে ভালো লাগা। তাই একসময় নিয়ম করেই প্রেমিকার বাড়ি যেতেন লিও।২০০৭ সালে আন্তোনেলার এক মারাত্মক গাড়ি দুর্ঘটনা হয়। দুর্ঘটনাটির পরেই একে অপরের প্রতি ভালোবাসার কথা বুঝতে পেরেছিলেন তাঁরা।সেই সময় বার্সেলোনায় থাকতেন মেসি। আন্তোনেলার দুঃসংবাদ পাওয়া মাত্রই তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। তারপরে মেসিই তাঁকে সেবা করে সুস্থ করে তোলেন।আর প্রেমের শুরুটা তখন থেকেই। আন্তোনেলা হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্স নিয়ে স্নাতক ডিগ্রি পাস করেন। তারপরে দন্ত চিকিৎসার জন্য পড়াশোনাও করছিলেন।তবে, বছরের মাঝেই সেই পড়াশোনায় ইতি টানেন । ২০১৬ সালে মডেলিং শুরু করেন ।২০১৭ সালে নিজেদের ছোটবেলার ভালোবাসাকেই পরণতি দেন। রোজারিও শহরেই বিবাহ বন্ধনে জড়িয়েছিলেন তাঁরা।বর্তমানে তাঁদের তিন সন্তান রয়েছে। তাঁদের নাম থিয়াগো, মাতেও এবং সিরো।

রোকুজ্জো আন্তোনেল্লা ও লিওনেল মেসির সুখী দাম্পত্যের পিছনে রয়ে একে অপরের প্রতি অফুরন্ত ভালবাসা ও সম্মান। জীবনের সব মূহুর্তে একসাথে দেখা যায় গোটা পরিবারকে। আন্তোনেল্লা নিয়মিত মেসির ফুটবল ম্যাচে উপস্থিত থেকে তাকে উৎসাহ জোগান। অন্যদিকে মাঠের বাইরে একজন আদর্শ স্বামী ও দায়িত্বশীল বাবা হিসেবে মেসির সুনাম রয়েছে। আন্তোনেল্লা ও মেসির সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে প্রায়শই তাদের সুখী পারিবারিক মুহূর্তের ছবি দেখা যায়।