দিল্লির আবগারি দুর্নীতি মামলায় এবার নিজেই সওয়াল করবেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : দিল্লির আবগারি দুর্নীতি মামলাকে ঘিরে ফের চড়েছে রাজনৈতিক পারদ। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) দেখানো পথে হাঁটতে চলেছেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল (Arvind Kejriwal). সোমবার দিল্লি হাইকোর্টে (Delhi High Court) নিজের মামলায় নিজেই সওয়াল করবেন তিনি—রবিবার দলীয় বিবৃতিতে এমনটাই জানানো হয়েছে।
এই আবগারি দুর্নীতি মামলায় কেজরিওয়াল, মনীষ সিসোদিয়া সহ মোট ২৩ জন অভিযুক্তকে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি অব্যাহতি দিয়েছিল দিল্লির নিম্ন আদালত। কিন্তু সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (Central Bureau of Investigation) হাইকোর্টে যায়। মামলার শুনানিতে বিচারপতি স্বর্ণকান্ত শর্মা নিম্ন আদালতের নির্দেশকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেন এবং ১৬ মার্চ পর্যন্ত স্থগিতাদেশ দেন।
এর পরই বিচারপতি বদলের দাবি তোলে আপ। দলের অভিযোগ, বিচারপতি শর্মা পক্ষপাতদুষ্ট এবং নিরপেক্ষ ভাবে বিচার করতে পারবেন না। এই মর্মে দিল্লি হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিকে উপাধ্যায়ের কাছে আবেদন জানানো হলেও তা প্রাথমিকভাবে খারিজ হয়ে যায়। পাশাপাশি, সিবিআই-কে এই বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বলা হয়। ৬ এপ্রিল মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন খারিজ হওয়ার পর নতুন কৌশল নেয় আপ নেতৃত্ব। সরাসরি বিচারপতি শর্মার কাছেই মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর আবেদন জানানো হয়েছে। সেই আবেদনের পক্ষেই সোমবার আদালতে সওয়াল করবেন কেজরিওয়াল নিজে। আপের দাবি, বিচারপতির নিরপেক্ষতার অভাব রয়েছে এবং ন্যায্য বিচার পাওয়ার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ।
তবে এই সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। দলের দিল্লি মুখপাত্র প্রবীণ শঙ্কর কাপুর সোশ্যায় মিডিয়ায় লিখেছেন, এই পদক্ষেপ কেজরিওয়ালের আসল চেহারাটা সামনে এনে দিয়েছে। তাঁর দাবি, বেঞ্চ বদলের আবেদন খারিজ হওয়ার পর এখন সংশ্লিষ্ট বিচারকের কাছেই সরে দাঁড়ানোর আবেদন করা বিচারব্যবস্থার প্রতি অসম্মান।
উল্লেখ্য, এই আবগারি মামলাতেই সিবিআই এবং ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন কেজরিওয়াল। তিহার জেলেও কাটাতে হয়েছিল বেশ কিছু দিন। তবু মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেননি তিনি—যার ফলে পদে থাকা অবস্থায় জেল খাটা দেশের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হন কেজরিওয়াল। পরবর্তীতে দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে আপের পরাজয় হয় এবং ক্ষমতায় আসে বিজেপি।
ফেব্রুয়ারিতে এই মামলায় অব্যাহতি পাওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের সামনে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তবে নতুন আইনি লড়াইয়ে তিনি কতটা সফল হতে পারেন, সেটাই এখন দেখার।