কালীপুজোর আগের রাতেই গড়িয়ায় ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা। লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা সার্থক সরকার নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর প্রেমিকার বিরুদ্ধে। ঘটনার তদন্তে নেমে অভিযুক্ত তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই খুনের ঘটনায় তরুণীর মায়েরও যোগ থাকতে পারে বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। সেই সন্দেহে তাঁকেও আটক করা হয়েছে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, মৃত সার্থক সরকারের বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে। তবে কাজের সূত্রে নয়, প্রেমিকার সঙ্গে থাকার জন্য গড়িয়ার ফরতাবাদ এলাকায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই সঞ্চালিকা বসু নামে ওই তরুণীর সঙ্গে একত্রে থাকতেন সার্থক। তাঁদের মধ্যে প্রায়ই অশান্তি হত বলে জানা গিয়েছে। শনিবার রাতেও দু’জনের মধ্যে ফের বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, কথা কাটাকাটির মাঝেই ধারালো ছুরি দিয়ে সার্থকের ঘাড়ে আঘাত করেন সঞ্চালিকা। ফলে গুরুতর জখম হন ওই যুবক।
ছুরির আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সার্থক। মুহূর্তের মধ্যে রক্তে ভেসে যায় ঘরের মেঝে। ঘটনার কথা জানতে পেরে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে পৌঁছনোর পর চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে হাসপাতালে এবং ফরতাবাদের ওই ফ্ল্যাটে পৌঁছয় গড়িয়া থানার পুলিশ। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, খুনে ব্যবহৃত ধারালো ছুরিটিও উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। এই ঘটনায় সঞ্চালিকা বসুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি, খুনের ঘটনায় তাঁর মা মৌমিতা বসুরও যোগ থাকতে পারে বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। সেই সূত্রে তাঁকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা চলছে।
ইতিমধ্যেই সার্থকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের দাবি, সার্থক ও সঞ্চালিকার মধ্যে প্রায়ই ঝামেলা হত। তবে শুধুমাত্র সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকেই কি এই খুন, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও কারণ, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এই ঘটনায় সঞ্চালিকার মায়ের ঠিক কী ভূমিকা ছিল, সেটিও জানার চেষ্টা চলছে। মা ও মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করে খুনের নেপথ্যের আসল কারণ খুঁজে বের করতে চাইছে পুলিশ।