এলপিজি সিলিন্ডার বুকিংয়ের সময়সীমা ৪৫ দিন !

প্যানিক বুকিং রোধে এলপিজি সিলিন্ডার বুকিং ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে। তবে গ্রামীন এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডার বুকিংয়ের সময়সীমা ২৫ দিন থেকে বাড়িয়ে ৪৫ দিন করা হয়েছে কেন্দ্রের তরফে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : রান্নার গ্যাসের ঘাটতি।গ্য়াস বুক করে মিলছে সঠিক সময়ে। কোথাও ,কোথাও তো গ্যাস বুক করার জন্য ফোন করা হলেও কেটে যাচ্ছে। বাধ্য হয়েই যেতে হচ্ছে গ্যাসের অফিসে। শহর কলকাতা সহ বিভিন্ন জেলা থেকে এরকমই বহু অভিযোগ উঠে আসছে।পশ্চিম এশিয়ার গোলা বারুদের যুদ্ধ আপাতত বাকযুদ্ধে রুপান্তরিত হয়েছে। কিন্তু এই যুদ্ধের রেশ ছড়িয়ে পড়েছে এদেশের হেঁসেলে। বাদ নেই এরাজ্যও। অভিযোগের কথা আগেই বললাম। অবশ্য় আলাদা করে কিছু বলার নেই। আপনারা সবাই কম-বেশি ভুক্তোভুগী। প্যানিক বুকিং রোধে এলপিজি সিলিন্ডার বুকিং ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে। তবে গ্রামীন এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডার বুকিংয়ের সময়সীমা ২৫ দিন থেকে বাড়িয়ে ৪৫ দিন করা হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। গ্রাম ও শহরের এই তফাৎ নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভা বাড়তে গ্রামীন এলাকার মানুষদের মধ্যে। যার সুযোগ নিচ্ছে কালোবাজারিরা। অসাধু ব্যবসায়ীরা চড়া দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছে। সবমিলিয়ে রান্নার গ্যাসের সমস্যায় জর্জরিত রাজ্যের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। এই বিষয়ে কয়েকটি জেলার সমস্যার কথা তুলে ধরবো। যা বর্তমানে কম-বেশি গোটা রাজ্যের চালচিত্র।

২৫ দিনের সময়সীমার জেরে সমস্যায় বারাসত মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যান্টিনের কর্মকর্তারা। প্রতিদিন প্রায় ২০০ জন ছাত্রছাত্রীর জন্য রান্না করা হয় । প্রতিদিন অন্তত একটি সিলিন্ডার তাদের লেগে যায়। কেন্দ্রের নির্দেশিকায় আশঙ্কিত তারা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ববাড়ি থেকে সিলিন্ডার নিয়ে এসে রান্না করছেন তারা। কিন্তু এভাবে কতদিন। সেটাই এখন প্রশ্ন।

গ্যাসের অভাবে বিপাকে পড়েছেন বারাসত শহরের হোটেল রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা। প্রতিদিন কম করে দেড়শো মানুষের খাবার বানানো হয়। গ্যাস বুক করেও পাওয়া যাচ্ছে না। গ্যাস না পেলে দোকান বন্ধ করে দেওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

বর্তমানে বিকল্প পথেও হাঁটতে চাইছেন না হোটেল রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা। কাঠের উনুন বা কয়লা দিয়ে রান্না করা যেমন সময় সাপেক্ষে তেমনই জ্বালানিরও দাম প্রচুর। তাই লাভের লাভ কিছুই হবে না। ইচ্ছা না থাকলেও বাধ্য হয়েই বন্ধ করতে হবে দোকান।

গ্যাসের সংকটের কারণে মিড ডে মিলের রান্না বন্ধ হয়ে গেল হাওড়ার দুটি প্রাইমারি স্কুলে। সিলিন্ডার না থাকায় শিবপুর হিন্দু গার্লস প্রাইমারি স্কুল ও ডোমজুর মহিষনালা প্রাইমারী স্কুলে মিড ডে মিলের কোন রান্না হলনা। অধিকাংশ স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে আগামী দু-একদিনের গ্যাসের স্টক আছে। স্টক শেষ হয়ে গেলে জেলার কমপক্ষে 50 টি প্রাইমারি স্কুলে রান্না হবে না। এমনটাই জানিয়েছেন ডিস্ট্রিক্ট প্রাইমারি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান কৃষ্ণ ঘোষ।

শিবপুরের শ্রী শান্তি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অঞ্জনি কুমার রাই জানিয়েছেন আজকে তাদের স্কুলে মিড ডে মিল রান্না হয়েছে। তবে আগামীকাল গ্যাস শেষ হয়ে যেতে পারে। নতুন করে গ্যাসের বুকিং নিচ্ছেন না ডিস্ট্রিবিউটার। ফলে সমস্যা আরো জটিল হয়ে উঠছে। যদি গ্যাস না পাওয়া যায় তাহলে স্কুলের মিড ডে মিল বন্ধ করে দিতে হবে বলে পরিস্কার জানান তিনি।


একদিকে যেমন গ্যাসের দাম বেড়েছে, অন্যদিকে ঠিকমতো গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।সার্ভার ডাউন হওয়ায় ডেলিভারিও বিলম্বিত হচ্ছে। ফলে জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়িতেও গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরদের অফিসে সকাল থেকেই লম্বা লাইন । গ্রাহকদের অভিযোগ, কয়েকদিন আগেই বুকিং করা হলেও এখনও গ্যাস মেলেনি। সার্ভার ডাউন থাকায় সমস্যায় পড়ছেন গ্রাহকরা। সমস্যা হচ্ছে গ্যাস বুকিং করতেও।

গ্যাস না পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এই সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা কালোবাজারি শুরু করে দিয়েছে। যদিও মুখ্যমন্ত্রী জেলা ও রাজ্য পুলিশকে এ বিষয়ে বিশেষ নজরদারির নির্দেশিকা দিয়েছেন।

গ্যাসের তীব্র সংকট,সার্ভার ডাউন, সময় মতো বুকিং করা যাচ্ছে না, বুকিং হলেও মিলছে না গ্যাস, বুকিং করা থাকলেও সময়মতো গ্যাস সিলিন্ডার মিলছে না বলে অভিযোগ গ্রাহকদের। তার ওপর মাথাচাড়া দিচ্ছে কালোবাজারি। কিভাবে রান্না হবে তা নিয়ে চিন্তায় গ্রাহকরা।সিলিন্ডারের অভাবে রান্না না হলে, বাইরে গিয়ে খাওয়ারও উপায় নেই। গ্য়াস সিলিন্ডার অমিলে বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরায় বেড়ে গেছে খাহারের দাম।সবমিলিয়ে নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত রাজ্যের গ্রাহকরা।
দ্রুত সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।