মাম্পি রায়, সাংবাদিক: যুব সমাজের আন্দোলনের চাপে ক্ষমতার পালাবদল যেন ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্রীলঙ্কা থেকে বাংলাদেশ, তারপর সাম্প্রতিককালে সেই তালিকায় যোগ হয়েছে নেপালের নাম। যুব নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের জেরে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটে যাওয়া সেইসব দেশের তালিকায় এবার জুড়ল দক্ষিণ পূর্ব আফ্রিকা। জেন জি-র হিংসাত্মক বিক্ষোভের জেরে পতন ঘটল আরও একটি দেশের সরকারের। টানা কয়েক দিনের বিক্ষোভের জেরে দ্বীপরাষ্ট্র মাদাগাস্কারের সরকারকে বরখাস্ত করেছেন দেশের প্রেসিডেন্ট। বিদ্যুৎ এবং পানীয় জলের সংকটের জেরে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মাদাগাস্কারের রাজধানী আন্তানানারিভোর বাসিন্দারা। রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভের আঁচ। মূলত প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রি রাজ়োয়েলিনা, প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী ক্রিশ্চিয়ান এনৎসে এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠ ধনকুবের মায়মি রাভাতোমাঙ্গার বিরুদ্ধে এই আন্দোলন শুরু হয়। জাপানি ‘অ্যানিমে ওয়ান পিস’ সিরিজ়ের পাইরেট পতাকা ব্যবহার করে পথে নামেন বিক্ষোভকারীরা। সম্প্রতি এই পতাকা নেপাল এবং ইন্দোনেশিয়ার যুব আন্দোলনেও ব্যবহার হয়েছে। বাংলাদেশ এবং নেপালের মতো একই ধাঁচে আন্দোলনকে প্রশমিত করতে নামানো হয় পুলিশ ও আধাসেনা। পুলিশ টিয়ার গ্যাস এবং রাবার বুলেট ছোঁড়ার ফলে আরও ক্ষেপে ওঠেন বিক্ষোভকারীরা। ফলে হিতে-বিপরীত হয়েছে। আরও দ্রুত হিংসা ছড়িয়ে পড়ে মাদাগাস্কারে। অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। জখম শতাধিক।

প্রথমে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল আন্তানানারিভোতে। তারপর বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে দেশের আটটি শহরে। বিক্ষোভ প্রথমে শান্তিপূর্ণই ছিল। পুলিশি অতিসক্রিয়তার পর সহিংস হয়ে ওঠে আন্দোলন। ধীরে ধীরে হিংসা, লুটপাটে পৌঁছে যায় সেই বিক্ষোভ। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে দফায় দফায় রাবার বুলেট এবং কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়তে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আন্তানানারিভোতে সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত কার্ফু জারি করা হয়।

পরিস্থিতি এতটাই ঘোরতর যে, উদ্বেগপ্রকাশ করেছে রাষ্ট্রসংঘ। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী এনৎসের সরকারকে বরখাস্ত করার কথা ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট রাজোয়েলিনা। জাতীর উদ্দেশে ভাষণে তিনি বলেন, তিন দিনের মধ্যে নতুন সরকার গঠন করা হবে। নতুন সরকার গঠনের আগে বর্তমান মন্ত্রীরা অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু তাতেও সন্তুষ্ট নয় যুব সমাজ। ইতিমধ্যেই প্রেসিডেন্টেরও ইস্তফা দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা।

বিদ্যুৎ ও জলের সংকটের বিরুদ্ধে প্রথমে পথে নেমেছিল জেন-জি। তারপর আন্দোলনে প্রাণহানি ও সহিংসতা যোগ হতেই সক্রিয় হয়ে ওঠে পুলিশ। দেশ সংস্কারের আওয়াজ তোলেন বিক্ষোভকারীরা। সবমিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে তো বরখাস্ত করা হল, এবার রাষ্ট্রপতি নিজের গদি বাঁচাতে পারবেন কি, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।