জল্পনার অবসান, মমতার দেওয়া সব পদ থেকে ইস্তফা মদনের! ঋতব্রতের পাশেই বসে ঘোষণা কামারহাটির বিধায়কের। ইডির তলবের পর শিবির বদল ?

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : এক দিনের জল্পনার পর অবশেষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। বুধবার বিধানসভায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে তাঁর পাশেই বসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফার ঘোষণা করলেন তিনি। তবে একই সঙ্গে জানিয়ে দিলেন, তিনি তৃণমূল ছাড়ছেন না। তাঁর কথায়, “তৃণমূলে ছিলাম, তৃণমূলেই আছি। শুধু এ ঘর থেকে ও ঘরে গেলাম।” পাশাপাশি এ-ও ঘোষণা করেন, আগামী ২১ জুলাই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের শহিদ দিবসের কর্মসূচিতে তিনি উপস্থিত থাকবেন।
মঙ্গলবার রাত থেকেই মদনকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়। পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রয়োগকারী সংস্থা (ইডি) তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করার পর তিনি যান এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহার বাড়িতে। সন্দীপন বর্তমানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের অন্যতম মুখ। তাঁর বাবা তথা প্রাক্তন বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহার সঙ্গেও দীর্ঘ বৈঠক করেন মদন। সেই বৈঠকের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছিল, তবে কি শিবির বদলাতে চলেছেন কামারহাটির বিধায়ক?
বুধবারের ঘোষণায় সেই জল্পনারই কার্যত অবসান ঘটল। যদিও দল ছাড়ার কথা অস্বীকার করেছেন মদন, তবু তাঁর সাংগঠনিক পদ ছেড়ে ঋতব্রতের ঘনিষ্ঠ শিবিরে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়া রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন স্বর্ণকমল সাহা। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এন্টালি কেন্দ্র থেকে জয়ীও হয়েছিলেন তিনি। পরে দল তাঁর পরিবর্তে ছেলে সন্দীপন সাহাকে প্রার্থী করে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই দলের অন্দরে বিভাজন প্রকট হয়ে ওঠে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা শিবিরে একের পর এক তৃণমূলের প্রথম সারির নেতা যোগ দেন। ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ বিশ্বাস, অনুব্রত মণ্ডলের মতো নেতারাও সেই শিবিরে নাম লেখান।

এই পরিস্থিতিতেও এতদিন মদন মিত্র নিজেকে মমতা শিবিরের সঙ্গেই রেখেছিলেন। কিন্তু ইডির তলবের আবহে তাঁর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তৎপরতা এবং বুধবারের ঘোষণা নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে। তৃণমূলের জন্মলগ্নের অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবে মদনের এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে রাজ্যের রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।