সোনারপুর দক্ষিণে ‘মহাভারত’ ফ্যাক্টর: রূপার মুখে পাণ্ডব জয়ের হুঙ্কার

“আমি এই এলাকার মানুষকে চিনি, এলাকার সমস্যাগুলো জানি। এটা আমার কাছে কেবল নির্বাচন নয়, দীর্ঘদিনের সম্পর্কের মর্যাদা রক্ষা করার লড়াই।”

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : ​সোনারপুর মোড়ে দাঁড়িয়ে দলীয় কর্মীদের ভিড়ে আত্মবিশ্বাসী রূপা গাঙ্গুলি এক ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “এবার পাণ্ডবের জয় হবেই।” তাঁর এই মন্তব্যের নেপথ্যে যেমন পৌরাণিক অনুষঙ্গ রয়েছে, তেমনই রয়েছে শাসকদলকে প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি। রাজনৈতিক মহলের মতে, নিজেকে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে ‘পাণ্ডব’ হিসেবে তুলে ধরে তিনি এই লড়াইকে ধর্মযুদ্ধের রূপ দিতে চাইছেন।

​পুরানো স্মৃতির টানে সোনারপুরের ঘরের মেয়ে:-
​রূপা কেবল রাজনীতিক হিসেবে নয়, বরং এলাকার ‘ঘরের মেয়ে’ হিসেবে নিজেকে তুলে ধরছেন। তাঁর বক্তৃতায় উঠে এসেছে

আবেগঘন দাবি রূপার :-
​দীর্ঘ ৩০ বছরের সম্পর্ক। সোনারপুরের সঙ্গে তাঁর নাড়ির টান দীর্ঘ তিন দশকের।

​পারিবারিক যোগসূত্র:-

রাজপুর সোনারপুর পুরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে তাঁর বাবা-মা দীর্ঘকাল বসবাস করেছেন। সেই সুবাদে এই অলিগলি তাঁর পরিচিত।
​আন্দোলনের জমি:

অতীতেও একাধিকবার রাজনৈতিক কর্মসূচী ও সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে তিনি সোনারপুরের রাজপথে শামিল হয়েছেন।


​কর্মী-সমর্থকদের উন্মাদনা ও রণকৌশল

প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম সিলমোহর হওয়ার পর থেকেই গেরুয়া শিবিরের অন্দরে নতুন করে প্রাণসঞ্চার হয়েছে।

​আলাপচারিতা:-

প্রার্থী হওয়ার পরেই তিনি কোনো সময় নষ্ট না করে সরাসরি কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বুথ স্তরের সংগঠন মজবুত করতে তিনি জনসংযোগের ওপর জোর দিচ্ছেন।

​উন্মাদনা:-

সোনারপুর মোড় সংলগ্ন এলাকায় এদিন দলীয় কর্মীদের মধ্যে যে উল্লাস দেখা গিয়েছে, তা রুপার জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

​সরাসরি লড়াই:-

রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে অভিজ্ঞতা থাকলেও, এবার সরাসরি বিধানসভা নির্বাচনের লড়াই তাঁর কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সোনারপুরের মাটিতে দাঁড়িয়েই তিনি এই ‘জোরদার’ লড়াইয়ের শেষ দেখে ছাড়বেন।

​রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:-
​সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্রটি গত কয়েক বছরে রাজ্যের রাজনীতির অন্যতম চর্চিত কেন্দ্র। শাসকদলের দুর্গে থাবা বসাতে রূপা গাঙ্গুলির মতো পরিচিত মুখকে নামিয়ে বিজেপি যে বড়সড় চমক দিয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। একদিকে দীর্ঘদিনের পরিচিতি আর অন্যদিকে ‘সেলিব্রিটি’ ইমেজ—এই দুই অস্ত্রকে হাতিয়ার করেই নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চাইছেন তিনি।

রূপা গাঙ্গুলি জানান- ​”আমি এই এলাকার মানুষকে চিনি, এলাকার সমস্যাগুলো জানি। এটা আমার কাছে কেবল নির্বাচন নয়, দীর্ঘদিনের সম্পর্কের মর্যাদা রক্ষা করার লড়াই।”
​নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই সোনারপুর দক্ষিণে এখন টানটান উত্তেজনা। রুপার ‘পাণ্ডব’ বনাম বিপক্ষের লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।