সীমা খান্নার বিরুদ্ধে FIR চেয়ে থানায় মহুয়া, SIR বিতর্কে নতুন মোড়!

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পর সীমা খান্না। ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্য়েই এবার নির্বাচন কমিশনের অন্দরমহলের আইটি ব্যবস্থাকে ঘিরে বড় অভিযোগ। নির্বাচন কমিশনের ডিরেক্টর জেনারেল সীমা খান্নার বিরুদ্ধে সরাসরি থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় গিয়ে সীমা খান্নার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার আবেদন জানিয়েছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্কঃ

মহুয়া জানিয়েছেন, পুলিশ তাঁর অভিযোগ খতিয়ে দেখছে। পুলিশ প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখা হবে এফআইআর করার মতো প্রাথমিক ভিত্তি রয়েছে কিনা। মহুয়ার দাবি ৬ অক্টোবর তিনি ফের থানায় গিয়ে এই বিষয়ে খোঁজ নেবেন।সীমা খান্নার বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ তুলেছেন মহুয়া মৈত্র? এবং কেনই বা নির্বাচন কমিশনের IT ব্যবস্থাই এখন SIR বিতর্কের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু? সীমা খান্না নির্বাচন কমিশনের ডিরেক্টর জেনারেল ইনফরমেশন টেকনোলজি। অর্থাৎ নির্বাচন কমিশনের ডিজিটাল এবং IT পরিকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তাঁর দফতরের হাতে। নির্বাচন কমিশনের অফিসার ডিরেক্টরিতেও সীমা খান্নাকে DG IT হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।আর

আর এখানেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে ECINET এবং ERONET। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে নির্বাচন কমিশন ইসিআইনেট নামে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করে। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, একাধিক অ্যাপ্লিকেশন ও ডেটাবেসকে একটি ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্যেই এই প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু বিরোধীদের অভিযোগ, এই ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোটার ডেটাবেসে নিয়ন্ত্রণের কাঠামো বদলে গিয়েছে। আর সেই অভিযোগেরই একটি অংশ এবার পুলিশের কাছে নিয়ে গেলেন মহুয়া মৈত্র।

মহুয়া মৈত্রের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু ভোটার তালিকা এবং নির্বাচন কমিশনের সফটওয়্যার ব্যবস্থা। তাঁর দাবি, বুথ স্তর এবং স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনী আধিকারিকরা কোনও ভোটারের নথি যাচাই করে তাঁর নাম বৈধ বলে চিহ্নিত করার পরেও সফটওয়্যারের পিছনের ব্যবস্থার মাধ্যমে সেই তথ্য বদলে দেওয়া বা ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ আরও নির্দিষ্ট। তাঁদের দাবি, স্থানীয় পর্যায়ের ELECTORAL REGISTRATION OFFICER এবং ব্লক স্তরের আধিকারিকদের অন্ধকারে রেখে সফটওয়্যারের BACK END থেকে ভোটার তালিকায় পরিবর্তন করা হয়েছে। মহুয়া বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুতর বলে দেখছেন এবং সেই কারণেই FIR চেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন।

জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সীমা খান্নার নাম কেন আসছে?এই অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধেও পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন মহুয়া মৈত্র। সেই অভিযোগে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং SIR প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি।এবার একই থানায় নির্বাচন কমিশনের IT বিভাগের প্রধানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করলেন তৃণমূল সাংসদ।মহুয়ার অভিযোগ অনুযায়ী, সীমা খান্নার নেতৃত্বাধীন IT ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোটার ডেটাবেসে এমন কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে, যার ফলে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন জানুয়ারিতে ECINET চালু করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল কমিশনের বিভিন্ন অ্যাপ এবং ডেটাবেসকে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা। প্রযুক্তির দিক থেকে এই ধরনের ব্যবস্থা নির্বাচনী কাজকে আরও সমন্বিত করার উদ্দেশ্যেই তৈরি করা হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে।কিন্তু বিরোধীদের অভিযোগ, এর ফলে ভোটার তালিকার ডেটা ব্যবস্থাপনায় দিল্লির IT বিভাগের নিয়ন্ত্রণ বেড়েছে। এবং এই নিয়ন্ত্রণই এখন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে। অন্যদিকে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বিতর্কের আঁচ পৌঁছেচে সুপ্রিম কোর্টেও। এসআইআর ইস্যুতে বাকি দুই নির্বাচন কমিশনারকে না জানিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে। আর এই ধরনের সিদ্ধান্ত খারজি চেয়েই সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে।