ধুরন্ধরের মুক্তি স্থগিত, মামলা দায়ের মেজর মোহিত পরিবারের

রিয়া হালদার, নিজস্ব সংবাদদাতা: সম্প্রতি বলিউডের ধুরন্ধর সিনেমা নিয়ে দারুণ চর্চা চলছে। রণবীর সিং অভিনীত যে সিনেমা মুক্তি ৫ই ডিসেম্বর শুক্রবার। তার আগেই ধুরন্ধর ঘিরে বিতর্কের ঝড়। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে শহিদ মেজর মোহিত শর্মা। রণবীর সিং অভিনীত ‘ধুরন্ধর’ সিনেমা মুক্তি স্থগিত করতে মামলা দায়ের মেজর মোহিত পরিবারের। অশোক চক্র এবং সেনা পদকপ্রাপ্ত শহিদ মেজর মোহিত শর্মার বাবা-মায়ের দাবি, সিনেমার গল্পটি শহিদ মেজর মোহিতের জীবন এবং গোপন অভিযান থেকে অনুপ্রাণিত। এবং এই সিনেমা তৈরির জন্য শহীদ মেজর মোহিত শর্মার পরিবারের কাছ থেকে কোনও অনুমতি না নিয়ে তৈরি করা হয়েছে সিনেমাটি। অভিযোগ করছেন শহীদ মোহিত শর্মার বাবা-মা। তাঁরা ২৮ নভেম্বর দিল্লি হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। তাদের দাবি, গল্পটি তাঁদের শহীদ ছেলের বাস্তব জীবনের উপর ভিত্তি করে নির্মিত। অথচ নির্মাতারা, শহীত মোহিত শর্মার পরিবার কিংবা ভারতীয় সেনাবাহিনী কারও থেকে অনুমতি নেননি। তবে শহীত মোহিত শর্মার বাবা-মায়ের আবেদন আগেই খারিজ করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। ১ ডিসেম্বর সোমবার বিচারপতি শচীন দত্তের এজলাসে মামলার শুনানি হয়। আদালত জানায়, ছবি মুক্তি নিয়ে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। যথাসময়ে মুক্তি পাবে ধুরন্ধর। শুধু তাই নয়, শহীদ মোহিত শর্মার পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করে ছবির পরিচালক আদিত্য ধর সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন। তাঁর দাবি, সিনেমাটি মেজর শর্মার জীবন থেকে অনুপ্রাণিত নয়। ধুরন্ধর সম্পূর্ণ মৌলিক গল্প নিয়ে তৈরি। যদি কখনও তাঁরা মেজর শর্মার জীবন নিয়ে বায়োপিক বানান, তবে তা পরিবারের পূর্ণ সম্মতি এবং পরামর্শ নিয়েই করা হবে। এবং তাঁর ত্যাগ ও উত্তরাধিকারকে সর্বোচ্চ মর্যাদায় উপস্থাপন করা হবে। কিন্তু বিতর্কের মাঝেই আরও একটি প্রশ্ন জোরালো হতে শুরু করে। আসল মোহিত শর্মা কে ছিলেন?

জানা যায়, ১৯৭৮ সালে হরিয়ানার রোহতকে জন্মগ্রহণ করেছিলেন মেজর মোহিত শর্মা। ভারতীয় সেনাবাহিনীর ১ প্যারা স্পেশাল ফোর্সেস (প্যারা এসএফ)-এর অফিসার ছিলেন তিনি। গোপন এবং বিপজ্জনক মিশন পরিচালনা করে এই প্যারা এসএফ। মেজর মোহিত ১৯৯৫ সালে ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি অর্থাৎ এনডিএ-তে যোগদান করেন। ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমি থেকে পাশ করার পর তিনি ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বরে মাদ্রাজ রেজিমেন্টের ৫ম ব্যাটালিয়নে কমিশন লাভ করেন। নিজের চাকরি জীবনে মেজর মোহিত বেশ কয়েকটি বিপজ্জনক বিদ্রোহ দমন অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন। ২০০৪ সালে মেজর মোহিত শর্মা গোপনে হিজবুল মুজাহিদিন গোষ্ঠীতে যোগদান করেছিলেন। আর এই সমগ্র অপারেশনটির জন্য মেজর মোহিত শর্মা ‘ইফতিকার ভাট’ নাম গ্রহণ করেছিলেন। মাথার চুল লম্বা করেছিলেন। জঙ্গিদের আস্থাভাজন হতে তাদের কাছে মিথ্যে গল্প সাজিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন তাঁর ভাইকে ভারতীয় সেনা মেরে ফেলেছিল তাই তিনি ভারতের সেনাকে ঘৃণা করেন। এভাবেই হিজবুলের গোপন তথ্য সংগ্রহ করতেন মোহিত। এই কাজের জন্য তিনি বীরত্বের জন্য সেনা পদকও পেয়েছিলেন। এরপর পেরিয়েছে পাঁচটা বছর।  ২০০৯ সালের মার্চ মাসে মেজর মোহিত শর্মা কাশ্মীরের কুপওয়ারা জেলায় একটি অভিযানে নেমেছিলেন। একটি ঘন বনাঞ্চলে মিশনের সময় জঙ্গিদের গুলিতে জখম হয়েছিলেন তিনি। চোট নিয়েও অভিযান চালিয়ে গিয়েছিলেন মেজর মোহিত শর্মা। সেই অভিযানে ৪ জঙ্গি খতম হয়েছিল। পরে মৃত্যু হয়েছিল মেজর মোহিতের। তাঁকে মরণোত্তর অশোক চক্রে ভূষিত করা হয়েছিল। শান্তিকালে এটাই দেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান।

একটা লম্বা সময়ের পরে রণবীর সিংহের ছবি নিয়ে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে দর্শকমহলে। এটি রণবীরের প্রথম সিনেম যা ‘এ’ সার্টিফিকেট অর্জন করেছে। অগ্রিম টিকিট বুকিং থেকে এই ছবি মুক্তির আগেই আয় করে নিয়েছে ১ কোটি টাকা।