হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে পথে মমতা

বুলডোজার নীতির বিরুদ্ধে সরব তৃণমূল। ধর্মতলায় মিছিলেল হাঁটলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নেত্রীর পাশে দোলা সেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: হকার উচ্ছেদ অভিযানের প্রতিবাদে এবার পথে নামলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বুধবার কোনও পূর্বঘোষণা ছাড়াই কলকাতার ধর্মতলায় হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে পদযাত্রায় সামিল হলেন তিনি। আচমকা এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রাস্তায় নামেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের একাধিক শীর্ষ নেতা-নেত্রী। মিছিল থেকে বুলডোজার অভিযানের বিরুদ্ধেও সরব হতে দেখা যায় আন্দোলনকারীদের।

তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিনের কর্মসূচি সম্পর্কে আগে থেকে দলের নেতা বা প্রশাসনের কাছে কোনও আনুষ্ঠানিক বার্তা ছিল না। সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ কয়েক জন নেতাকে জানান, বিভিন্ন জায়গায় হকার উচ্ছেদের ঘটনায় তিনি উদ্বিগ্ন এবং প্রতিবাদ জানাতে সরাসরি রাস্তায় নামবেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হকারদের সঙ্গে কথা বলারও ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে ধর্মতলায় পৌঁছনোর ক্ষেত্রেও ছিল চমক। নির্ধারিত বা প্রচলিত রুট এড়িয়ে অন্য পথ ধরে শহরের কেন্দ্রস্থলে পৌঁছন তৃণমূল নেত্রী। সেখানে পৌঁছে হঠাৎই পদযাত্রা শুরু করেন। জানা গিয়েছে, টিপু সুলতান শাহি মসজিদ সংলগ্ন এলাকা থেকে শুরু হওয়া এই মিছিল এগিয়ে যায় রাজা সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার পর্যন্ত।

মিছিলের সামনের সারিতেই ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এক পাশে হাঁটতে দেখা যায় তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেনকেও। অন্য পাশে ছিলেন দক্ষিণ কলকাতা জেলা তৃণমূলের সভাপতি শূর। পরে মিছিলে যোগ দেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ সহ দলের আরও বহু কর্মী-সমর্থক।

রাজনৈতিক মহলের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রেল স্টেশন, বাজার এলাকা এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় হকার উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তারই প্রতিবাদে সরাসরি মাঠে নামলেন তৃণমূল নেত্রী। মিছিল চলাকালীন বিক্ষোভকারীদের মুখে শোনা যায় ‘বুলডোজার রাজনীতি চলবে না’ এবং ‘জীবিকার অধিকার কেড়ে নেওয়া চলবে না’ স্লোগান।

যেহেতু কর্মসূচির বিষয়ে আগে থেকে কোনও প্রশাসনিক প্রস্তুতি ছিল না, তাই ধর্মতলা চত্বরে মমতার আকস্মিক পদযাত্রা ঘিরে কিছুটা ব্যস্ততা তৈরি হয় পুলিশ ও প্রশাসনের মধ্যেও। তবে শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবেই মিছিল সম্পন্ন হয়।