‘আল্টিমেট তৃণমূল’ মমতাই! মদনের ডিগবাজি

সকালে এক সুর, রাতেই বদলে গেল কথা। কখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আল্টিমেট তৃণমূল বলে স্বীকার করছেন, আবার কখনও সেই মমতাকেই বলছেন, একদিন আমার নেত্রী ছিলেন। রাজনীতির মঞ্চে মদন মিত্রের এই অবস্থান বদল কি শুধুই কথার কথা? নাকি এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ? আর শুধু মদন মিত্র নন, কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহার গলাতেও কি একইসঙ্গে শোনা যাচ্ছে অভিমান আর মমতা-স্তুতি?

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

বিধানসভা ভোটে পালাবদলের পর রাজ্য রাজনীতিতে বদলেছে ক্ষমতার সমীকরণ। আর সেই বদলের আবহেই বারবার আলোচনায় কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। বৃহস্পতিবার নিজের বিধানসভা এলাকায় যেতে না পারার অভিযোগ তুলে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তিনি। আবেগতাড়িত মদনের চোখে এসেছিল জল। প্রশ্ন তুলেছিলেন, যাঁরা তাঁকে জিতিয়েছেন, তাঁদের কাছেই যদি যেতে না পারেন, তাহলে জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর ভূমিকা কী?

শুক্রবার দুপুরে অবশ্য মদন মিত্রের মুখে শোনা যায় অন্য সুর। স্পষ্ট ভাষায় তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হলেন আল্টিমেট তৃণমূল। তাঁর বক্তব্য, প্রতীক যেই পাক না কেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেস সমার্থক। অর্থাৎ, রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলালেও তৃণমূলের পরিচয়ের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্ক যে অবিচ্ছেদ্য, সেই বার্তাই দিতে চেয়েছিলেন কামারহাটির বিধায়ক।

কিন্তু দুপুরের সেই মন্তব্যের প্রায় ১২ ঘণ্টার মধ্যেই ফের অন্য সুর মদন মিত্রের গলায়। শুক্রবার রাতের একটি ভিডিয়োয় তাঁকে বলতে শোনা যায়, আপনাদের নেত্রী, একদিন আমার নেত্রী ছিলেন। এই জায়গাটা ভালো করে স্পষ্ট করে নিন।

শুধু তাই নয়, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বের পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি। তাঁর দাবি, শুভেন্দু অধিকারী নিজের মর্যাদা আদায় করে নিয়েছেন। এমনকী আগামী ২০ বছর শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন বলেও মন্তব্য করেন মদন। ফলে প্রশ্ন উঠছে, মদন মিত্র কি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করছেন?

মদনের এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। মদন মিত্রের পর এবার কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহার গলাতেও শোনা গেল একই ধরনের অভিমান। তিনিও অভিযোগ করেছেন, বিধায়ক হয়েও নিজের এলাকায় যেতে পারছেন না। শুক্রবার তিনি বলেন, কেন বিধায়ক হিসাবে এলাকায় যেতে পারছেন না? তাঁর আরও বক্তব্য, মদন মিত্র যা বলেছেন, তা ঠিকই বলেছেন। নন্দীগ্রামে অঞ্জলি দিলেও নিজের এলাকায় যেতে না পারার আক্ষেপও প্রকাশ করেন শিউলি।

পুজোর পর এবার রাজ্য রাজনীতির নজর পুরভোটের দিকে। নভেম্বরের শেষে কলকাতা ও হাওড়ায় পুরভোট হওয়ার সম্ভাবনা ঘিরে প্রস্তুতি শুরু করেছে বিজেপি। প্রার্থী বাছাইয়ে জয়ের সম্ভাবনা, ভাবমূর্তি এবং সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান সুকান্ত মজুমদার। অন্যদিকে, বিজেপিকে আটকাতে বিরোধী শিবিরেও চলছে রাজনৈতিক হিসেবনিকেশ। এই পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কদের ক্ষোভ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তাঁদের মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

রাজনীতিতে সমীকরণ বদলায়, বদলায় ক্ষমতার কেন্দ্রও। কিন্তু মদন মিত্রের কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই ধরনের মন্তব্য আর শিউলি সাহার অভিমানের সুর। সব মিলিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে কি ক্রমশ বাড়ছে অসন্তোষ? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আবেগ কি শুধুই ব্যক্তিগত আনুগত্য, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও রাজনৈতিক বার্তা? পুরভোটের আগে এই ক্ষোভ কি নতুন কোনও সমীকরণের জন্ম দেবে? নাকি মমতাকে ঘিরে আবেগই শেষ পর্যন্ত ফের কাছাকাছি আনবে দূরে সরে যাওয়া নেতাদের? উত্তর দেবে সময়।