“মহারাষ্ট্রের মতন অবস্থা হলো তৃণমূলের। বিধানসভার স্পিকার এর কাছে প্রায় ৫০ জন টিএমসির বিধায়ক নিয়ে পৌঁছে গেছে ঋতব্রত।”

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পর আরও টালমাটাল তৃণমূল কংগ্রেস। ইতিমধ্যে শাসক-বিরোধীর সংঘাতও চরম রূপ নিতে শুরু করেছে। ২ জুন রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে পুলিশি অনুমতি না মেলায় সোশ্যাল মিডিয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছে, “মঙ্গলবার আমি কর্মসূচিতে যাবো। অনুমতি না দিলে না দেবে। রাস্তায় বসবো। গ্রেফতার করার হলে করবে। “
তারপর দুপুর দুটোর পর রাস্তায় নেমেও পড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রানি রাসমণি নয়, ওয়াই চ্যানেলে পৌঁছে যান নেত্রী। হাতে গোনা কয়েকজন বিধায়ক, সাংসদ যোগ দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমোর কর্মসূচিতে। দোলা সেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, মদন মিত্র সহ কয়েকজন নেতানেত্রীরা ছিলেন।
এদিকে আশঙ্কা সত্যি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিষ্ঠিত তৃণমূল কংগ্রেস ভাঙনের পথে পৌঁছে গিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে রাজ্য রাজনীতিতে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, সেই জল্পনা কি বাস্তব হওয়ার পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে নতুন করে রাস্তায় নেমেছেন, তখনই ঋতব্রত কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে বিধানসভায় পৌঁছে গিয়েছেন। কী আছে ওই শোনা যাচ্ছে, ঋতব্রত ৫০ জন বিধায়কের সই সম্মিলিত একটি চিঠি নিয়ে বিধানসভার স্পিকারের দফতরে জমা দিতে চলেছেন। যদিও মঙ্গলবার স্পিকার নেই। তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দিল্লি যেতে হয়েছে। এদিকে স্পিকারের অনুপস্থিতিতে ঋতব্রত ওই চিঠি জমা দিতে পারেন বিধানসভার সচিবের কাছে। শোনা যাচ্ছে, ৫০ বিধায়কের সই সম্মিলিত চিঠিতে নতুন তৃণমূলের ভিত্তিপ্রস্তরের কথা বলা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও জোড়াফুল প্রতীকের আসল মালিক তাঁরাই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন।

এই জল্পনা আরও খানিকটা উসকে দিয়েছেন সদ্য শপথগ্রহণ করা রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়। সোশাল মিডিয়ায় ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, “তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে চুরমার। মহারাষ্ট্রের মতন অবস্থা হলো তৃণমূলের। বিধানসভার স্পিকার এর কাছে প্রায় ৫০ জন টিএমসির বিধায়ক নিয়ে পৌঁছে গেছে ঋতব্রত। খেলা হবে।”