অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে হামলার অভিযোগ ঘিরে শনিবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত কলকাতা। ঘটনার প্রতিবাদে বিজেপির বিরুদ্ধে ‘দাদাগিরি’ এবং ‘হুলিগানিজম’-এর অভিযোগ তুললেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, গভীর রাতে এক দল দুষ্কৃতী এলাকায় ঢুকে কালীপুজোর আয়োজনেও বাধা দিয়েছে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
মমতা বলেন, কালীপুজো ও দীপাবলির আগে রাত ২টো নাগাদ অভিষেকের বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কালীঘাটে বহু বছর ধরে চলে আসা পুজোগুলির অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। অন্য দিকে নতুন করে একটি পুজোর অনুমতি দিয়ে সেটি মূল রাস্তার উপর বসানো হয়েছে। এর ফলে স্থানীয়দের পুজোয় যাতায়াতেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে দাবি তাঁর।
মমতার অভিযোগ, ‘‘রাত ২টো-৩টের সময় এক দল লোক এসে গোলমাল করছে।’’ তিনি আরও বলেন, স্থানীয় ক্লাবগুলিকে রাতভর কাজ করতে দেওয়া হয়নি। তাঁর কথায়, ‘‘বুলডোজার চালাতে চাইলে আমার শরীরের উপর দিয়ে চালাও।’’ একই সঙ্গে পুলিশ এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল নেত্রী।
অন্য দিকে, তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদও ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁর দাবি, গত ছ’মাসে অভিষেকের উপর সাতটি প্রাণঘাতী হামলার চেষ্টা হয়েছে। বিষয়টি জানিয়ে লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দেওয়ার কথাও জানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে।
কীর্তির দাবি, অভিষেকের জন্মদিনের রাতে রাত ২টো নাগাদ সিসিটিভিতে দেখা গিয়েছে, লাঠি ও পাথর নিয়ে এক দল লোক প্রায় ৩০-৪৫ মিনিট ধরে বাড়ির সামনে হামলা চালিয়েছে এবং সম্পত্তি ভাঙচুরের চেষ্টা করেছে। আশপাশের কয়েকটি ছোট দোকানও ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও কাউকে গ্রেফতার না করে হামলাকারীদের সরিয়ে দিয়েছে বলেও অভিযোগ কীর্তির। যদিও ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরণ এবং পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি।
রাজনৈতিক বিরোধকে ব্যক্তিগত আক্রমণে পরিণত না করার আবেদন জানিয়ে কীর্তি বলেন, ‘‘রাজনৈতিক লড়াই এক জিনিস, ব্যক্তিগত আক্রমণ অন্য।’’ ঘটনার তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন, তখন লালবাজারে ফের একবার পুলিশের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, “কালী মায়ের সামনে কেন মাফিয়াদের নাম নিচ্ছেন? এদের নাম নিয়ে কালীমন্দিরকে অপবিত্র করবেন না।”
এরপরই শুভেন্দু বলেন, দুটি বিষয়ে ছাড় দেওয়া আছে পুলিশকে। নেশা মুক্ত করতে ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় শাস্তি দিতে, যেটা ঠিক মনে হবে, সেটাই করতে পারে পুলিশ। তার জন্য পুলিশকে সবরকম সুরক্ষা দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।