এবার তিনি মিটু নিয়ে যা বললেন তা শুনে বেশিরভাগ মানুষই বলছেন কিভাবে পারেন একজন মেয়ে হয়ে আরেকটা মেয়েকে নিয়ে এভাবে অপমানজনকন কথা বলতে?

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংবাদিক : মমতা শঙ্করের নৃত্যশৈলী তার অভিনয় দক্ষতা নিয়ে কোনদিনও কোন প্রশ্ন কারর মনের মধ্যে জাগেনি কিন্তু শুধু মাত্র নৃত্য বা অভিনয় দক্ষতাই তো কোন মানুষের মনুষ্যত্বের বিচার করে না আর এর দিকে থেকে মমতা শঙ্কর পিছিয়ে গিয়েছেন অনেকটাই এইকথা বিশ্বাস করেন স্বয়ং নেটিজেনরাই। কখনও শাড়ি পরা নিয়ে, কখনও পিরিয়ড নিয়ে কখনও প্রকাশ্যে চুম্বন নিয়ে কখনও পোশাক নিয়ে তিনি বিভিন্ন সময়ে যাযা বলেছেন তাতে করে নেটিজেনদের রোষের মুখেই থাকেন তিনি অন্যথা হয়নি এবারেও। এবার তার বক্তব্যের বিষয় মিটু, যে মি টু মুভমেন্টের হাত ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় বহু মেয়ে কিভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ে হেনস্থার শিকার হয়েছেন কার্যত যে হ্যাশট্যাগ একটা আন্দলনে পরিণত হয়েছিল সেই মিটুকে নিয়ে যা মন্তব্য করেছেন তিনি তা শুনে নেটিজেনরা যে চটবেন তা তো বলাই বাহুল্য। তার এরকম মন্তব্যের শুরুটা হয়েছিল ২০২৪ সালের জুন জুলাই মাস নাগাদ । মমতা শঙ্কর সেই সময় বলেছিলেন আজকালকার মেয়েরা যেভাবে শাড়ি পরে সেদিকে তাকানো যায় না, এখানেই শেষ নয়, তিনি আরও বলেন আজকাল মেয়েরা যে ভাবে শাড়ি পরে, তাতে তাদের আঁচল ঠিক থাকে না। রাস্তার মেয়েরা ল্যাম্পপোস্টের নীচে যে ভাবে দাঁড়িয়ে থাকে সে ভাবে এখনকার মেয়েরা শাড়ি পরে। তারা তো পেশার তাগিদে পুরুষদের আকর্ষণ করার জন্য ও ভাবে শাড়ি পরে থাকেন। কিন্তু বাকি মেয়েরা বিনা কারণে সেটা কেন করছে? মেয়েরা ও ভাবে শাড়ি পরবে তার পরে ছেলেরা কিছু বললে রেগে যায়। বলবে, মেয়েদের অসম্মান করা হচ্ছে। তার এই মন্তব্যে রীতিমতো ঝড় উঠে যায়। একটি ছবি ভাইরাল হয় সেই সময় ঠিক মমতা শঙ্কর যেমন বর্ণনা দিয়েছেন শাড়ি পরার ঠিক ওভাবেই একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে ল্যাম্পপোস্টের নীচে।

যা শেয়ার করে অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় লেখেন আমিও এরকম একটা ছবি তুলব, ল্যামপোস্ট এর নিচে দাঁড়ানো খারাপ মেয়েগুলো কে উৎসর্গ করে। সরব হয়েছিলেন লেখিকা তসলিমা নাসরিনও। লেখিকা তসলিমা নাসরিন এই প্রসঙ্গে ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট করে লেখেন, ‘‘আমি কখনও শাড়ির আঁচল বুকের মাঝখান দিয়ে নিই না। বক্ষযুগলের ওপরেই থাকে আমার শাড়ির আঁচল। কিন্তু বক্ষযুগলকে আঁচল দিয়ে যারা আড়াল করতে না চায়, তাদের এই না-চাওয়াকে কেন অশালীন বলা হবে? কোন যুক্তিতে?’’ মমতা শঙ্করের বক্তব্য প্রসঙ্গে অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্র ফেসবুকে লেখেন, ‘‘ল্যাম্পপোস্ট বা খুঁটিগুলো এই শহর থেকে অনেক আগে তুলে দেওয়া উচিত ছিল বলে আমার মনে হয়। কারণ আবার প্রমাণিত হল যে ‘মেয়েরাই মেয়েদের চরম শত্রু।এর পর ডিসেম্বরের শেষ দিকে কালীঘাট মেট্রো স্টেশনে চুম্বনরত যুগলের ভাইরাল ভিডিও নিয়েও সুর চড়ান তিনি। এই প্রকাশ্য চুম্বন নিয়ে তিনি বলেন জন্তুরাও বোধহয় আমাদের থেকে অনেক ভালো। এই জন্যই তো আজকাল এসব হচ্ছে, এত রেপ হচ্ছে। বাচ্চাদের হাতে ফোন যাচ্ছে, ছোট থেকেই ওরা এসব দেখছে। ওদের মূল্যবোধ কোথায় যাবে বলাই বাহুল্য ফের শুরু হয় বিতর্ক, যদিও বেশীরভাগ মানুষই বলেন এটার মধ্যে ভুল তো কিছুই নেই, ভালোবাসার প্রকাশ। তার এই মন্তব্যের পাল্টা একটি পোস্ট করে অভিনেতা ঋদ্ধি সেন লেখেন ৭৮তম স্বাধীনতা দিবস পার করা এক দেশের মেট্রো স্টেশনে দুজন স্বাধীন নাগরিককে চুমু খেতে দেখে শ্রদ্ধেয় মমতা শঙ্করের মূল্যবোধে আঘাত লেগেছে l

তবে এত এত কথা তাকে নিয়ে হলেও তিনি কিন্তু কখনই নিজের মত প্রকাশে পিছপা হননি, এরপর তিনি মেন্সট্রুয়েশান নিয়ে মুখ খুলে বলেন ঋতুস্রাবের বিজ্ঞাপনে লাল রং ঢেলে বোঝানোর কোনও প্রয়োজন আছে ঋতুস্রাব কী বা কেমন? তাঁর সংযোজন, বাবা কিংবা ছেলের সঙ্গে এই বিষয়ে তিনি আলোচনা করতে পারবেন না, তার এই বক্তব্যকে সামনে রেখে ইমন চক্রবর্তী থেকে শুরু করে আরও একাধিক পরিচিত মুখ সাধারণ মানুষ সরব হন তারা বলেন এটা কি এমন ব্যাপার! সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবই পরিবর্তিত হয় আজকাল যেখানে অভিভাবকরাই ছেলে মেয়ে নির্বিশেষে এই বিষয়টা জানিয়ে রাখেন বাচ্চাদের সেখানে কিভাবে উনি এখনও এই মানসিকতায় বিশ্বাস রাখেন?স্লিভলেস ব্লাউজ পরা মানেও তার কাছে অকারণ শরির দেখানো অর্থাৎ বিভিন্ন সময়ে একের পর এক মন্তব্য তিনি করে গিয়েছেন যা কোথাও গিয়ে সমস্ত মেয়েদের জন্য অপমানজনক। আর এবার আরও একবার সেই একই ঘটনা ঘটালেন তিনি। তিনি বললেন মেয়েরা কাজ পাওয়ার জন্য নিজেরাই নিজেদের এগিয়ে দেয়! একজন নারী যেমন নিজেই নিজের সম্মান অর্জন করতে পারেন তেমনই নিজের কাজ দিয়ে তা হারাতেও পারেন। তার মনে হয়, অনৈতিক কোনও কাজে শুধু পুরুষরাই যুক্ত হন না, মহিলারাও থাকেন। একটা কিছু পাওয়ার জন্য মহিলারাও বিভিন্ন প্রস্তাব মেনে নেন। এরপর তা থেকে কোনও সুবিধা না পেলেই তাঁরা সোচ্চার হন।

তখন তা হয়ে যায় মি টু-র ঘটনা। এগুলো একেবারেই কাম্য নয়। দেখুন এটা অস্বীকার করার জায়গা নেই হয়ত কিছু মেয়ে এরকম কোন ঘটনা থেকে বেড়িয়ে আসতে পারে না কিন্তু বেশিরভাগ মেয়েই প্রতিবাদ করে নিজেকে কোন অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করায় না আর করায় না বলেই শুধুমাত্র বিনোদন জগত থেকেই কাস্টিং কাউচের ঘটনা নিয়ে কম কথা হয় না এই বক্তব্য ভাইরাল হতেই ফের সোশ্যলা মিডিয়ায় বিতর্ক চলছে তাকে নিয়ে। নেটিজেনরা প্রশ্ন তুলছেন কিভাবে একজন মেয়ে হয়ে এভাবে গোটা নারীজাতিকে অসম্মানের মুখে ফেলতে পারেন? যদিও এসব বিতর্ক একেবারেই গায়ে মাখেন না তিনি, তার মনে হওয়া তার কাছে খুব স্পষ্ট আর তাই তার যা মনে হয় তিনি সেটাই বলে ফেলেন। কিন্তু এই ধরনের কথা কি আদৌ বলা যায়? কি মনে হয় আপনাদের? জানাতে ভুলবেন না