“ইস্তফা কেন দেব?” – প্রশ্ন মমতার

“আমরা তো হারিনি। জোর করে মিথ্যা বলে, অত্যাচার করে হারিয়েছে। ” সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস-এর। ২০০-র বেশি আসন পেয়ে রাজ্যের ক্ষমতায় এসেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। তবে এই ফলাফল মানতে নারাজ তৃণমূলনেত্রী তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফল ঘোষণার পরের দিন, মঙ্গলবার কালীঘাটের তৃণমূল কার্যালয় থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সরাসরি ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুললেন তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “আমরা তো হারিনি। জোর করে মিথ্যা বলে, অত্যাচার করে হারিয়েছে। গণনাকেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে, ফর্ম ১৭সি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ওরা এমনি জিতলে আমার কিছু বলার থাকত না। নির্বাচনে হার-জিত থাকেই, কিন্তু আমরা হারিনি।” তাঁর আরও সংযোজন, “ইস্তফা কেন দেব? কেউ যদি জোর করে ইস্তফা দিতে বলে, আমি বলব—না, এটা হবে না। এখানে বিজেপির কথায় নির্বাচন কমিশন সরাসরি খেলেছে।”

নিজের শক্ত ঘাঁটি ভবানীপুর কেন্দ্রেই প্রায় ১৫ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে হারিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার রাত পর্যন্ত টানটান লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত ফল ঘোষণা হয়। গণনাকেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন মমতা নিজেও। সেখান থেকেই তিনি প্রথম কারচুপির অভিযোগ তোলেন।

মঙ্গলবারও সেই অভিযোগের সুর আরও চড়িয়ে তিনি বলেন, “৩-৪ রাউন্ড পর থেকেই আমাদের ছেলেদের উপর অত্যাচার শুরু হয়। মেরেছে, মেয়েদেরও ছাড়েনি। ১৭সি ফর্ম কেড়ে নেওয়া হয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, শুধু দলীয় কর্মীরাই নন, তিনিও শারীরিকভাবে হেনস্থার শিকার হয়েছেন। “আমি ভিতরে ঢুকলে আমার পেটে মারে, ম্যানহ্যান্ডেল করে। ধাক্কা দিয়ে মারতে মারতে বের করে দেয়। একজন মহিলা হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবে যে অপমান করা হয়েছে, তাতে বুঝেছি কর্মীদের সঙ্গে কী হয়েছে,” বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এই নির্বাচনকে ‘ইতিহাসের কালো অধ্যায়’ বলেও চিহ্নিত করেছেন তৃণমূলনেত্রী। তাঁর দাবি, সমস্ত প্রতিকূলতার মধ্যেও তাঁর দল “বাঘের মতো লড়াই” করেছে। তবে একইসঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির কথাও স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি। মমতার কথায়, “আমার দলের অনেক কর্মী হয়তো বিজেপিতে যোগ দেবে। কারণ তাঁদের বাঁচতে হবে।”

ফলাফল ঘোষণার পর একদিকে যখন গেরুয়া শিবিরে উচ্ছ্বাস, অন্যদিকে তৃণমূল বিজেপি থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলছে। এই আবহে রাজ্যের রাজনীতিতে সংঘাতের সুর আরও সপ্তমে উঠবে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।