‘মমতার পা ভাঙেনি’, নন্দীগ্রামে বিস্ফোরক শুভেন্দু!

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে চোট লাগার ঘটনাকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই পুরনো প্রসঙ্গই ফের সামনে এনে এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দুর দাবি, সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পা ভাঙার যে কথা বলা হয়েছিল, তা আদতে সঠিক নয়। শনিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে এই দাবির সমর্থনে বাঙ্গুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরো সায়েন্সেসের রিপোর্টের কথাও উল্লেখ করা হয়। এর পাশাপাশি নন্দীগ্রামের প্রচারসভা থেকেও বিষয়টি নিয়ে মমতাকে কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, ১০ মার্চকে যদি ‘মিথ্যা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়, তাহলে কেমন হয় এই মন্তব্য করে তিনি তৃণমূল নেত্রীকে নিশানা করেন।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

আগামী ৬ তারিখ ভোটগ্রহণ। এদিকে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের প্রচারের শেষ দিন রবিবার। এদিন সকাল থেকেই বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের সমর্থনে প্রচারে নামেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রাম ১ ব্লকের টেঙ্গুয়া থেকে থানা মোড় পর্যন্ত মিছিল করেন তিনি। মিছিলের সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন শুভেন্দু। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, মিছিলে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। প্রচারের শেষ লগ্নে জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশের পাশাপাশি ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

উল্লেখ্য ২০২১ সালের ১০ মার্চ ভোটের প্রচারে গিয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পায়ে আঘাত পেয়েছিলেন।মুখ্যমন্ত্রীর পা ঘটনায় ভেঙে যায়, সেই দাবিও করা হয়েছিল। অভিযোগ করা হয়েছিল, তাঁর উপর বিজেপি নন্দীগ্রামে হামলা চালিয়েছে এরপর পায়ে প্লাস্টার করে হুইল চেয়ারে বসে মমতা ভোটের প্রচার করেছিলেন। ‘ভাঙা পায়েই খেলা হবে’ স্লোগান দিয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

কিন্তু সেদিনের ওই পা ভাঙার ঘটনাকে এবার মিথ্যা বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি আরও বলেন, উপনির্বাচন মিটলেই ওই ঘটনার তদন্ত হবে। এদিন মিছিল থেকে সেই প্রসঙ্গেই তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মার্চের ১০ তারিখ “পশ্চিমবঙ্গ মিথ্যা দিবস’ পালন করলে কেমন হয়?” সেই প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। ৬ তারিখ নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। জয়ের ব্যাপারে এখন থেকেই আত্মবিশ্বাসী মুখ্যমন্ত্রী। এদিন তিনি বলেন, “যত বেশি ভোট পড়বে, তত জয়ের ব্যবধান বাড়বে। নন্দীগ্রামে ৭২ হাজার সংখ্যালঘু রয়েছে। হাজারের বেশি সংখ্যালঘু মানুষ এদিনও মিছিলে হাঁটছেন।” সংখ্যালঘুরা এবার নন্দীগ্রামে বিজেপিকেই সমর্থন করবেন। এই বিষয়ে আশাবাদী তিনি।জয়ের ব্যাপারে এখন থেকেই আত্মবিশ্বাসী মুখ্যমন্ত্রী।