স্মৃতি-পলাশের সম্পর্কে ভাঙনের সুর। ইনস্টাগ্রাম চ্যাট তুলে ধরে পলাশকে নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন এক মহিলা।

রিয়া দাস, সাংবাদিক : নেটদুনিয়ায় হঠাৎ করেই তোলপাড় শুরু হয়েছে সকলের প্রিয় স্মৃতি মান্ধানা ও পলাশ মুচ্ছলের জুটিকে ঘিরে। যা পালরিতি জুটি নামে খুবই খ্যাত তাঁদের বহু প্রতীক্ষিত বিয়েকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। তা যেন হঠাৎ করেই অস্বস্তি আর অনিশ্চয়তার রঙে কালো হয়ে উঠেছে। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধবের উপস্থিতিতে আনন্দমুখর সাজসজ্জা চলছিল ঠিকই কিন্তু সেই উচ্ছ্বাসের মধ্যেই আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন স্মৃতির বাবা। তাই স্মৃতি ও পলাশ সিদ্ধান্ত নেন বিয়ে আপাতত স্থগিত রাখবেন। মাঝে পলাশকেও ভাইরাল ইনফেকসনের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। মুহূর্তের মধ্যে আনন্দে ভরা বাড়িটা যেন নিস্তব্ধতায় ঢেকে যায়। বিরুষ্কার মতো পালরিতি জুটিকে অসংখ্য মানুষ কাপল গোলস বলে প্রথম সারিতেই রাখত। কিন্তু এই সম্পর্কে নাকি ভাঙনের সুর, এমনটাই দাবি নেটিজেনদের একাংশের।
এক মহিলা পলাশকে নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন। পরিচালক ও গীতিকারের সঙ্গে ইনস্টাগ্রামে কথোপকথনের প্রতিচ্ছবি প্রকাশ্যে এনেছেন সেই মহিলা। এখন প্রশ্ন উঠছে পলাশ কি সম্পর্কে প্রতারণা করেছেন ? বিভিন্ন চ্যাটের স্ক্রিনশট ঘুরে বেড়াচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেখানে অভিযোগ করা উঠছে স্মৃতি মান্ধানা ও পলাশ মুচ্ছলের সম্পর্কে নাকি তৃতীয় নারীর আগমন হয়েছে। এই চ্যাটের যার সত্যতা যাচাই করেনি আরপ্লাস নিউজ।

মেরি ডি কোস্টা নামে ওই মহিলার দাবি, পলাশ তাঁকে একটি হোটেলে একসঙ্গে সাঁতার কাটার জন্য ডেকেছিলেন
‘তখন ম্যারিই প্রশ্ন করেন, তুমি তো একটা সম্পর্কে আছো ?’
সেই প্রশ্নের জবাবে পলাশ লেখেন
‘কে বলেছে সম্পর্কে থাকলে একসঙ্গে সাঁতার কাটা যায় না ? ‘
‘খেলার জন্য ভিন্ন শহরে থাকার ফলে সম্পর্কে সেই টান নেই’
স্মৃতি মান্ধানার সঙ্গে লং ডিসট্যান্স সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেছে পলাশ
প্রশ্ন উঠছে, কে এই মেরি ডি কোস্টা?
লিঙ্কড ইন প্রোফাইল ঘেঁটে জানা গিয়েছে
মেরি ডি কোস্টা থানের বাসিন্দা, পেশায় কোরিওগ্রাফার নেটদুনিয়ায় জল্পনা ছড়াতেই নিজের সোশাল মিডিয়া থেকে যাবতীয় ছবি মুছে ফেলেছেন মেরি। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্তও ইনস্টাগ্রামে তাঁর প্রচুর ছবি ছিল। ওই মহিলার সঙ্গে দেখা করার জন্য বেশ উদ্বিগ্ন দেখা গিয়েছে পলাশকে। এমনকি আশেপাশের লোকজন চিনতে পারলে সমস্যা হতে পারে এই আশঙ্কার কথাও বলেছিলেন মেরি। সেই বিষয় নিয়ে আশ্বস্ত করেছিলেন পলাশ নিজে। তবে এই বিষয়টি নিয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেননি স্মৃতি ও পলাশ। সবকিছু ঠিক থাকলে গত রবিবারই সাতপাকে বাঁধা পড়তেন ক্রিকেটার স্মৃতি এবং গায়ক পলাশ। জানা গিয়েছে, স্মৃতির বাবা অসুস্থ হওয়ার পরেই সাংলির বিবাহবাসর ছেড়ে চলে আসে গোটা মুচ্ছল পরিবার। বিয়ের অনুষ্ঠানের সমস্ত ছবি নিজের ইনস্টাগ্রাম থেকে সরিয়ে দেন স্মৃতি। এমনকি জেমাইমা রডরিগেজ, শ্রেয়াঙ্কা পাটিলের মতো ক্রিকেটাররা, যাঁরা স্মৃতির বিয়েতে আনন্দ করছিলেন, তাঁরাও বিয়ের সমস্ত ছবি সোশাল মিডিয়া থেকে সরিয়ে ফেলেছেন। সোমবার গায়িকা তথা পলাশের দিদি পলাকও জানিয়েছেন বিয়ে আপাতত স্থগিত। এই বিয়েটা নিয়ে যেন জল্পনা বেড়েই চলেছে।

কথায় আছে নজর ইস রিয়েল। সেই কথাই যেন সত্যিই হল। আদৌ কি বিয়েটা হবে ? না কি অতীতে বহু বিখ্যাত সম্পর্কের মতো এই জুটিও তৃতীয় ব্যক্তির আগমনে সম্পর্কে ইতি টানবে। তবে সবটাই এখনো আলোচনার পর্যায়ে। আসল সত্যিটা কী তা সময়ই বলে দেবে।