বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হিমাচল। গত ৩৬ ঘন্টায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫ জন। লাগাতার নামছে ধস। জাতীয় সড়ক সহ বন্ধ ৪০০ টি রাস্তা।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ- প্রবল বর্ষার জেরে বৃষ্টির তীব্রতা ক্রমেই বাড়ছে হিমাচল প্রদেশে। লাগাতার প্রবল ধসে বন্ধ তিনটি জাতীয় সড়ক-সহ ৩৯৮টি রাস্তা। গত ৩৬ ঘণ্টায় বৃষ্টি এবং ধসের কারণে দুই শিশু-সহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে হিমাচলের সঙ্গে।

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, উনা, হামিরপুর, সোলান এবং বিলাসপুরে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সোমবার ভারী বৃষ্টির জেরে শিলাই, কোটখাই এবং থুনাগে স্কুলগুলি বন্ধ রাখতে হয়েছে। মঙ্গলবার চার জেলায় কমলা এবং আট জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। চাম্বা, কাংরা, কুল্লু ও মান্ডি এই চারটি জেলাকে লাল সতর্কতার আওতায় আনা হয়েছে। বাকি রাজ্যের জন্য জারি করা হয়েছে কমলা সতর্কতা।

গত ২০ জুন থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টির জেরে ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে উত্তরের পাহাড়ি এই রাজ্যে। ধস এবং হড়পা বানে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রাণহানি। প্রবল বৃষ্টিতে ফুলেফেঁপে উঠেছে বিপাশা। মান্ডির পাশাপাশি খারাপ পরিস্থিতি সিমলা এবং কুল্লুরও। কুল্লুতে জাতীয় সড়কের উপর দিয়ে বইছে নদীর জল। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর একাধিক দল রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় মোতায়েন করা হয়েছে। জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে সেই উদ্ধারকাজও ব্যাহত হচ্ছে।

চাম্বা, কাংড়া, কুলু এবং মান্ডীতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হবে। মান্ডীতে ১৭০টি রাস্তা বন্ধ। চাম্বাতেও পরিস্থিতি বেশ খারাপ। সেখানে ধসে এক মহিলা এবং পুরুষের মৃত্যু হয়েছে। জেলারই চুড়হা অঞ্চলে পঙ্গোলার কাছে জলের স্রোতে একটি সেতু ভেসে গিয়েছে। জেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় হড়পা বানের সৃষ্টি হয়েছে। যার জেরে বেশ কয়েকটি রাস্তা ভেসে গিয়েছে। খুব প্রয়োজন ছাড়া এই দুর্যোগে বাড়ির বাইরে না বার হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ধসের জেরে বন্ধ হয়েছে গিয়েছে অতি গুরুত্বপূর্ণ এনএইচ ০২, এনএইচ ২১ এবং এনএইচ ১৫৪। বহু ক্ষেত্রে মাঝপথে ধস নেমে আটকে পড়েছেন যাত্রীরা। দুর্যোগের মধ্যেই তাঁদের উদ্ধারে ব্যবস্থা নিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। ধস নামায় মান্ডীতে ১৭০টি রাস্তা বন্ধ। কার্যত সেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

একাধিক এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। খালের জল উপচে চাষের জমি প্লাবিত হয়েছে, ধ্বংস হয়েছে দাঁড়িয়ে থাকা ভুট্টা ফসল। বহু অঞ্চল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে এবং জরুরি পরিষেবা সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।উত্তরাখণ্ডেও ছ’টি জেলায় অতিভারী বৃষ্টির জন্য কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দেরাদুন, টেহরি, পৌরি, নৈনিতাল, চম্পাবত ও উদ্যম সিংহ নগর জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎসহ ভারী বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।