সোনমের অনশন নিয়ে জরুরি আর্জি দিল্লি হাইকোর্টে

১৮ দিনের অনশনে সোনম ওয়াংচুক, ‘আর দু’দিনের বেশি বাঁচবেন না’, দিল্লি হাই কোর্টে জরুরি আর্জি

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : ১৮ দিন ধরে টানা অনশনে বসে থাকা সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছে। তিনি এ ভাবে অনশন চালিয়ে গেলে আর দু’দিনের বেশি বাঁচতে পারবেন না— এই আশঙ্কা প্রকাশ করে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন আইনজীবী রাকেশ কুমার সাইনি। আদালতের কাছে তাঁর আবেদন, অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করে ওয়াংচুককে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হোক এবং প্রয়োজনে তরল পুষ্টিকর খাদ্য দিয়ে তাঁর জীবন রক্ষা করা হোক।

প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার মামলাটির প্রাথমিক শুনানি করে। তবে হাই কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের কর্মবিরতির কারণে কেন্দ্রের পক্ষে কোনও আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় বিস্তারিত শুনানি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, রেজিস্ট্রি যেন এ দিনের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে মামলার নথি পৌঁছে দেয়, যাতে তারা পরবর্তী শুনানিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশ নিয়ে হাজির হতে পারে।

আবেদনে দাবি করা হয়েছে, ৫৯ বছরের ওয়াংচুক ইতিমধ্যেই প্রায় সাড়ে আট কিলোগ্রাম ওজন হারিয়েছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আবেদনকারীর বক্তব্য, তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি, ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ তরল খাদ্য দেওয়া হলে প্রাণহানির আশঙ্কা অনেকটাই কমবে।

পিটিশনে আরও বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ করার অধিকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের নীরবতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আবেদনকারীর অভিযোগ, কেন্দ্র এবং দিল্লি সরকার ওয়াংচুকের জীবন নিয়ে কোনও রকম উদ্বেগ প্রকাশ করছে না। তাঁকে এমনভাবে উপেক্ষা করা হচ্ছে যেন তিনি কোনও ‘কঠোর অপরাধী, জঙ্গি বা রাষ্ট্রদ্রোহী’।

আবেদনকারীর মতে, সরকারের এই নিষ্ক্রিয়তা কার্যত আত্মহত্যায় প্ররোচনার সামিল। আদালতেরও উচিত নয়, একজন নাগরিককে প্রকাশ্যে অনশনে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যেতে দেওয়া।

উল্লেখ্য, গত ২৮ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের অনশনে বসেছেন সোনম ওয়াংচুক। তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন। অভিযোগ, নিট (NEET) পরীক্ষায় অনিয়মের ঘটনায় কেন্দ্র যথাযথ পদক্ষেপ করেনি। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে পরিচিত এক যুব সংগঠনের ডাকা আন্দোলনে যোগ দিয়েই তিনি এই অনশন শুরু করেন। পরিস্থিতির ক্রমেই অবনতি হতে থাকে। এই আবহে বৃহস্পতিবারের শুনানির দিকে এখন নজর রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে ছাত্রসমাজের একাংশের।