সম্প্রতি ফরাসি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত যে, দলের সহকর্মী ওসমান ডেম্বেলে নাকি এমবাপের সঙ্গে ড্রেসিংরুমে কথা বলেছেন।

রিয়া দাস, সাংবাদিক : ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নামার আগেই ফ্রান্স শিবিরে অস্বস্তি। বিশ্বকাপের উন্মাদনা যখন তুঙ্গে তখন ফরাসি দলের সবচেয়ে বড় তারকা কিলিয়ান এমবাপেকে নিয়ে তৈরি হয়েছে একাধিক বিতর্ক। মাঠের পারফরম্যান্স নয়। দলের অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয় নিয়েই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা। এমবাপেকে নিয়ে অসন্তোষের প্রথম সূত্রপাত তাঁর নেতৃত্বের ভূমিকা এবং দলের প্রতি দায়িত্ববোধ নিয়ে। ২০২৩ সালে ফ্রান্সের অধিনায়ক হওয়ার পর থেকেই তাঁকে নিয়ে প্রত্যাশা অনেক বেড়ে গেছে। সমর্থকদের একাংশ মনে করছেন একজন অধিনায়ক হিসেবে শুধু গোল করা নয় দলের প্রতিটি মুহূর্তে আরও বেশি সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন। সম্প্রতি ফরাসি সংবাদমাধ্যমে এমন খবরও প্রকাশিত হয় যে দলের সহকর্মী ওসমান ডেম্বেলে নাকি এমবাপের সঙ্গে ড্রেসিংরুমে কথা বলেছেন। যদিও এই বিষয়টি নিয়ে কোনো বড় ধরনের প্রকাশ্যে সংঘাতের কথা সামনে আসেনি।
এর মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় আসে এমবাপে ও এনগোলো কান্তের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচের আগে টানেলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায় কান্তে একে একে সতীর্থদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করলেও এমবাপের সামনে এসে দুজনের মধ্যে কোনও কথা হয়নি। এই ছোটো মুহূর্ত থেকেই শুরু হয় জল্পনা। তবে ফরাসি সাংবাদিক সাবের দেসফারজেস এই গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন এই ভিডিও থেকে কোনো ব্যক্তিগত বিরোধের প্রমাণ পাওয়া যায় না এবং দুজনের মধ্যে বড় কোনো সমস্যা নেই। আরেকটি বিতর্ক তৈরি হয়েছে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের একটি বিজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে। আইভরি কোস্ট ম্যাচের আগে একটি বেটিং সংক্রান্ত প্রচারণায় এমবাপে, রায়ান চেরকি, মাইকেল ওলিসে, ওসমান ডেম্বেলে এবং দেজিরে দুয়ের ছবি ব্যবহার করা হয়। খেলোয়াড়দের অভিযোগ, ছবিগুলো কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে সে বিষয়ে তাঁদের যথেষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। বিশেষ করে এমবাপে এই ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল তারা এমন কোনো ব্রান্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে চান না যা বেটিংয়ের পণ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাঁর মতে, এসব বিষয়ের নেতিবাচক প্রভাব অনেক মানুষের জীবনে পড়তে পারে।

ফরাসি ফুটবলে ইমেজ রাইটস বা খেলোয়াড়দের ছবি ব্যবহারের অধিকার নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন হয়। ২০২৩ সালে ফুটবলারদের সঙ্গে ফেডারেশনের আলোচনার পর কিছু নিয়ম তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে সাম্প্রতিক বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে সেই নিয়ম পুরোপুরি মানা হয়নি। এর পাশাপাশি ফ্রান্সের রাজনীতির ক্ষেত্রেও এমবাপে আলোচনায় এসেছেন। দেশের নির্বাচনের সময় তিনি তরুণদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং উগ্র ডানপন্থী রাজনীতির সমালোচনা করেছিলেন। তাঁর এই অবস্থান নিয়েও ফ্রান্সে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়। এমবাপে বরাবরই সামাজিক বিষয় নিয়ে নিজের মত প্রকাশ করে এসেছেন আর সেটিও তাঁকে অনেক সময় রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
বিশ্বকাপের আগে এমবাপের একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়েও সমালোচনা হয়। উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচের পর ফেডারেশনের অনুমতি নিয়েই তিনি দলের ক্যাম্প ছেড়েছিলেন বক্তিগত কারণে। পরে তাঁকে বান্ধবী এস্টার এসপোসিতোর সঙ্গে মাদ্রিদে দেখা যাওয়ায় কিছু সমর্থক প্রশ্ন তোলেন বিশ্বকাপের ঠিক আগে দলের প্রতি তাঁর মনোযোগ কতটা রয়েছে। তবে সব বিতর্কের মাঝেও সতীর্থরা এমবাপের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ওসমান ডেম্বেলে বলেছেন, এমবাপেকে নিয়ে সমালোচনা অনেক সময় সীমা ছাড়িয়ে যায়। তাঁর মতে, এমবাপে একজন অসাধারণ ফুটবলার এবং দলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু মাঠের ছোটখাটো বিষয় নিয়েও তাঁকে অতিরিক্ত সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে।
ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশঁর জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই সমস্ত আলোচনা পেছনে ফেলে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা। ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং ২০২২ সালের রানার আপ ফ্রান্স। ২০২৬-এর ফিফা বিশ্বকাপেরও শিরোপার দাবিদার বলাই যায়। ১৬ জুন ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে ফ্রান্স। গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ে এমবাপেদের প্রতিপক্ষ হবে আফ্রিকার শক্তিশালী দল সেনেগাল। ফুটবলপ্রেমীদের নজর থাকবে এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের দিকে। ভারতীয় সময় অনুযায়ী ১২টা ৩০ এএমে শুরু হবে খেলা। এমবাপে নিঃসন্দেহে ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। এখন দেখার বিষয় মাঠের বাইরের এই বিতর্কগুলি ফরাসি দলের শক্তি কমিয়ে দেয় নাকি সমালোচনার জবার তাঁরা দেবেন মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে।