রাজ্যে স্থগিত এমবিবিএস কাউন্সেলিং, অনিশ্চিত ১১ হাজার পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ

সোমবার রাতে জারি হওয়া এক বিজ্ঞপ্তি আর তার জেরে এই মুহূর্তে অনিশ্চিত রাজ্যের ১১ হাজার পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ- রাজ্যে এমবিবিএসে প্রথম বর্ষে ভর্তি প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে গেল। সোমবার রাতে এমনই বিজ্ঞপ্তি জারি করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা। আর এই বিজ্ঞপ্তির ফলে আটকে গেল ডেন্টালের ভর্তি প্রক্রিয়াও। দেড় সপ্তাহ আগেই এমবিবিএস ও বিডিএস মানে ডেন্টালের কাউন্সেলিং শুরু হয়েছিল। প্রাথমিক ভাবে পছন্দের কলেজে নাম দাখিলের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছিল। আগামীকাল ফল প্রকাশের কথা ছিল। তবে এই বিজ্ঞপ্তির ফলে ১১হাজার পড়ুয়ার ভবিষ্যত অনিশ্চিত। ওবিসি জটের কারণেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে।

এই বিজ্ঞপ্তির জেরে আপাতত এই ১১ হাজার পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ ঘিরে তৈরি হয়েছে এক তীব্র অনিশ্চিয়তা, এমনটাই মনে করছেন অনেকে কারণ, ডাক্তারি পড়ুয়াদের ভর্তি থেকে বার্ষিক পরীক্ষা, সমস্তটাই গোটা দেশজুড়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা এন‌এমসি’র গাইডলাইন মেনে প্রায় একই সময়ে হয়ে থাকে। কিন্তু স্বাস্থ্য ভবনের এই একটা সিদ্ধান্তের জন্য গোটা প্রক্রিয়া থেকে দেশের অন্যান্য রাজ্য়গুলির তুলনায় পিছিয়ে পড়বে বাংলার মেডিক্যাল পড়ুয়ারা। এছাড়াও, একাংশের মেধাবী পড়ুয়া রাজ্যের বাইরে পাড়ি দিয়ে দেবে এই নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

এই প্রসঙ্গে রাজ্য মেডিকেল ইউনিটের আহ্বায়ক ডাঃ সামস মুসাফির বলেছেন “যেভাবে স্বাস্থ্য ভবন একটি নোটিশ জারি করে এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে দিয়েছে তার ফলে নিট-ইউজি উত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রীরা চূড়ান্ত অনিশ্চয়তার মুখে পড়লেন। এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি প্রক্রিয়া স্থগিত করে দেওয়া বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। যেভাবে আইনি জটিলতা তৈরি করে সেটাকে অজুহাত করে উচ্চশিক্ষার সমস্ত ক্ষেত্রে ভর্তি প্রক্রিয়া বানচাল করে রাজ্য সরকার ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে তা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ভর্তি প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে গেলে ছাত্র-ছাত্রীদের পঠন-পাঠনের সময় সংকুচিত হবে, যার প্রভাব কেবল ডাক্তারি ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার ওপর নয়, স্বাস্থ্য পরিষেবার মানের উপরও পড়বে। তাই আমরা দাবি করছি, অবিলম্বে সমস্ত রকম সমস্যা তৎপরতার সাথে সমাধান করে ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তি প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে হবে এবং ক্লাস চালু করতে হবে। অবিলম্বে এই পদক্ষেপ না নিলে রাজ্যজুড়ে ছাত্র সমাজ বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে”।