শুভেন্দুর কড়া হুঁশিয়ারির পর বারুইপুরে ‘মেগা পুলিশি অ্যাকশন’

রাতভর অভিযানে আরও ১২ গ্রেফতার, মোট ধৃত ৩০

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা: বারুইপুরে ১১ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর এবার বড়সড় পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া হুঁশিয়ারির পর বুধবার রাতভর বারুইপুরের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে আরও ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই নিয়ে গত দু’দিনে মোট গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩০।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে গণপিটুনিতে অংশ নেওয়া, পুলিশের উপর হামলা, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অভিযোগ রয়েছে। বুধবার রাতের অভিযানে এসটিএফ, এসওজি এবং জেলা পুলিশের যৌথ বাহিনী অংশ নেয়। বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়।
১১ বছরের নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল বারুইপুর। ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তা অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান। সেই সময় একাধিক সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। পুলিশের উপর হামলার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে ব্যাপক বেগ পেতে হয়।
এই অশান্তির মধ্যেই গণপিটুনিতে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, গণপিটুনিতে নিহত ব্যক্তি নির্দোষ ছিলেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কিংবা এলাকায় অশান্তি তৈরির চেষ্টা করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর সেই নির্দেশের পরই পুলিশের তৎপরতা আরও বাড়ে। মঙ্গলবার প্রথম দফার অভিযানে ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর বুধবার রাতভর নতুন করে অভিযান চালিয়ে আরও ১২ জনকে ধরা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ভাঙচুর ও হিংসার ঘটনায় জড়িত প্রায় ২০০ জনকে ইতিমধ্যেই শনাক্ত করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিও এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখে পর্যায়ক্রমে বাকিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঘটনাস্থলে একটি স্থায়ী পুলিশ আউটপোস্ট তৈরির কাজও শুরু হয়েছে। সেখানে সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি পুরো এলাকা সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে। প্রশাসনের আশা, এই ব্যবস্থার ফলে ভবিষ্যতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত এখনও চলছে। অভিযানে আরও গ্রেফতার হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তদন্তকারীরা। বারুইপুরে পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও গোটা এলাকা জুড়ে কড়া পুলিশি নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।