ভক্তদের মনে একটাই প্রশ্ন বিশ্বকাপে কি দেখা যাবে মেসিকে?

রিয়া দাস, সাংবাদিক : গত বছরের বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি এখনও টাটকা। কাতারে কোটি কোটি সমর্থকের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে লিওনেল মেসি তুলে নিয়েছিলেন ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ট্রফি। সেই মুহূর্ত শুধু আর্জেন্তিনার জন্য নয় গোটা ফুটবল বিশ্বের জন্যই ছিল এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। আর এবার বিশ্বকাপের আগে আবারও খবরের শিরোনামে মেসি। কারণ চোট নিয়ে নানা আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন আর্জেন্তিনার ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত বিশ্বকাপ দলে। গত কয়েক মাস ধরে মেসিকে নিয়ে জল্পনার শেষ ছিল না। একসময় আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। পরে ফিরে এসে দেশকে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ দেন। কিন্তু গত বছরের শেষ দিক থেকেই নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে আর কি বিশ্বকাপ খেলবেন মেসি। নাকি কাতারেই শেষ হয়ে গিয়েছে তাঁর বিশ্বকাপ অধ্যায়। সেই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনও দেননি এই ফুটবল তারকা। ফলে রহস্য ছিল। এর মাঝেই ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলতে গিয়ে হ্যামস্ট্রিংয়ে অস্বস্তি অনুভব করে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। ভক্তদের মন তখন একটাই প্রশ্ন বিশ্বকাপে কি দেখা যাবে মেসিকে?
সেই সমস্ত জল্পনা ও আশঙ্কার অবসান ঘটিয়ে আর্জেন্তিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি ঘোষণা করেছেন বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড। সেখানে যথারীতি রয়েছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। চিকিৎসক ও ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর চোট গুরুতর নয় ও বিশ্বকাপ শুরুর আগেই তিনি সম্পূর্ণ ফিট হয়ে উঠবেন। ফলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন আর্জেন্তিনা সমর্থকরা। এই বিশ্বকাপ মেসির কেরিয়ারের আরও একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সাক্ষী হতে চলেছে। কারণ এবার তিনি টানা ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিতে চলেছেন। এর মাধ্যমে তিনি সিআর সেভেনের বিশ্বরেকর্ড স্পর্শ করবেন। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে খুব কম খেলোয়াড়ই এমন ধারাবাহিকতার নজির গড়তে পেরেছেন। মাঠে নামলেই আরও একটি অনন্য রেকর্ড নিজের নামে লিখে নেবেন মেসি। এর আগে মেসি ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিলেন।

কাতার বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিকাংশ ফুটবলারই রয়েছেন স্কালোনির পরিকল্পনায়। গোলপোস্টে ভরসার নাম এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। যিনি কাতারের ফাইনালে অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য নায়ক হয়ে উঠেছিলেন। রয়েছেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, নিকোলাস ওটামেন্দি, লিসান্দ্রো মার্টিনেজদের মতো নির্ভরযোগ্য নাম। মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি’পল, এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার এবং জিওভানি লো সেলসো দলকে শক্তিশালী করেছে। মেসির পাশাপাশি রয়েছেন লাইতারো মার্টিনেজ, জুলিয়ান আলভারেজ, থিয়াগো আলমাদা ও নিকোলাস গঞ্জালেজ। তবে কয়েকটি নতুন মুখও নজর কেড়েছে। ভ্যালেন্তিন বারকো, নিকোলাস পাজ ও গিলিয়ানো সিমিওনেকে ভবিষ্যতের তারকা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্কালোনি দল গঠনের সময় বিকল্প পরিকল্পনার দিকেও বিশেষ নজর দিয়েছেন। যাতে কার্ড সমস্যা বা চোটের কারণে কোনও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সমস্যায় পড়তে না হয়।
আগামী ১৬ জুন বিশ্বকাপে নিজেদের অভিযান শুরু করবে আর্জেন্তিনা। প্রথম ম্যাচ তাদের প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া। একই গ্রুপে রয়েছে জর্ডান ও অস্ট্রিয়াও। তাঁদের লক্ষ্য একটাই শিরোপা ধরে রাখা। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে কোনও ম্যাচই সহজ নয়। তাই শুরু থেকেই সতর্ক থাকতে হবে স্কালোনির দলকে। কিন্তু কিছু খেলোয়াড় শুধু সংখ্যার গণ্ডিতে আটকে থাকেন না। লিওনেল মেসি সেই বিরলদের মধ্যে একজন। যাঁর উপস্থিতিই কোটি কোটি মানুষের আবেগকে অন্য মাত্রা দেয়। তাই বিশ্বকাপ, নীল-সাদা জার্সি যেন এক আবেগ। শেষ পর্যন্ত ট্রফি কার হাতে উঠবে সেটা তো সময়ই বলবে।