I4C-র সাইবারক্রাইম পোর্টালে সরাসরি জানানো হবে অভিযোগ।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : অনলাইনে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে চাপের মুখে এ বার আরও এক ধাপ এগোল মেটা। শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়গুলি সরাসরি ভারতীয় সাইবারক্রাইম কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (I4C)-এর অধীন সাইবারক্রাইম পোর্টালে জানানো হবে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপের মূল সংস্থা মেটা। সংস্থার দাবি, অনলাইনে শিশুদের উপর অত্যাচার এবং তাঁদের শোষণ সংক্রান্ত অপরাধ রুখতে ভারতীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার করাই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য।
মেটার এক মুখপাত্র বলেন, ‘‘আমাদের প্ল্যাটফর্মে শিশুদের সুরক্ষা অগ্রাধিকার। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’’ একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য, শিশুদের বিরুদ্ধে এই ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় যৌথ প্রচেষ্টা আরও শক্তিশালী করতে এ বার থেকে শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত বিষয় সরাসরি I4C-র সাইবারক্রাইম পোর্টালে রিপোর্ট করবে মেটা।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন I4C দেশের সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় তৈরি করে। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করাও তাদের অন্যতম দায়িত্ব।
মেটার এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে সাম্প্রতিক বিতর্কও রয়েছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন (NCPCR)-এর দফতরে হাজির হয় মেটা ইন্ডিয়ার প্রতিনিধিদল। শিশুদের যৌন শোষণ ও নির্যাতন সংক্রান্ত উপাদান (CSEAM) নিয়ে মেটার প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন দেওয়ার অভিযোগের তদন্তে সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং হেড অফ মেটা ইন্ডিয়াকে তলব করেছিল কমিশন।
৩ জুলাই একটি সংবাদ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে NCPCR। মেটা-কে নোটিস পাঠিয়ে অভিযোগের ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছিল। পরে সেই নোটিসের জবাব দেয় সংস্থা।
এর আগে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনও (NHRC) মেটার মালিকানাধীন ইনস্টাগ্রামে অর্থের বিনিময়ে শিশুদের যৌন নির্যাতনের উপাদান প্রচারের অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল দিল্লি পুলিশকে। একই সঙ্গে POCSO আইনে বাধ্যতামূলক রিপোর্টিংয়ের নিয়ম মেটা-সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি মেনেছে কি না, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, ভারতে কাজ করা যে কোনও সামাজিক মাধ্যমের জন্য শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মৌলিক শর্ত— এ ক্ষেত্রে কোনও আপসের প্রশ্নই নেই।