হরমুজে আটকে ২০ হাজার নাবিকের কাতর আর্তি। বোমার পাশাপাশি অনাহারে মৃত্যুর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : গত একমাস ধরে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আবহে প্রবল আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা নাবিকরা। সেই জাহাজে ২০ হাজার নাবিক রয়েছেন। প্রত্যেক সেকেন্ডে মৃত্যুর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা। খাদ্য জল ইতিমধ্যে শেষের পথে। নাবিকদের জন্য হেল্পলাইন চালানোর সংস্থার বক্তব্য সেখানে ফেঁসে থাকা জাহাজের নাবিকের সঙ্গে তাঁরা যোগাযোগ রাখছেন। উপসাগরে আটকে পড়া জাহাজগুলোর নাবিকদের দেশে ফেরা, ক্ষতিপূরণ, তাদের জাহাজে প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া জন্য যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
ইন্টারন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (ITF) নিজেদের নাবিক সহায়তাকারী দল সমুদ্রে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রীর জোগান দিচ্ছে। এই দলের এক নাবিক এক সপ্তাহ আগে ২৪ মার্চ একটি মেইল পাঠিয়েছিলেন, তাতে লেখা ছিল, আমাদের জাহাজে এইসময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। ক্রু সদস্যদের স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। তাদের জীবিত ও সুস্থ রাখার জন্য দ্রুত খাবার, পানের যোগ্য জল এবং জরুরী সামগ্রী পাঠানোর প্রয়োজন।
সংবাদসংস্থা এএফপির রিপোর্ট অনুযায়ী আইটিএফ থেকে কিছু নাবিক জানাচ্ছেন, যুদ্ধ বিধ্বস্ত এলাকায় জাহাজের উপর বোমা পড়তে দেখেছেন তাঁরা। ফেডারেশনের কাছে জাহাজ থেকে উদ্ধারের আবেদন করা হয়েছে। আরব দুনিয়া এবং ইরানের জন্য আইটিএফের নেটওয়ার্ক কোঅর্ডিনেটর মহম্মদ অররাচেদি এএফপিকে জানিয়েছে, পরিস্থিতি একটুও স্বাভাবিক নয়। চারদিকে আতঙ্কের পরিবেশ।
হামলার ভিডিও পাঠাচ্ছেন নাবিকরা
অররাচেদি জানিয়েছেন, রাত দুটো তিনটের সময়েও নাবিকদের ফোন আসছে। ইন্টারনেট পেলেই কল করছেন তাঁরা। একজন নাবিক তো ফোন করে বলছিলেন বোমা পড়ছে, তার মধ্যেই ফেঁসে রয়েছি। আমরা মরতে চাই না। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। দয়া করে এখান থেকে বের করুন আমাদের।
যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গ্যানাইজেশনের (আইএমও) বক্তব্য অনুযায়ী, এইসময় উপসাগরীয় এলাকায় প্রায় ২০ হাজার নাবিক ফেঁসে রয়েছেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই এলাকায় বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত ৮জন নাবিক বা বন্দরকর্মী নিহত হয়েছেন।
প্রতিদিন মাত্র ১৬ ডলার রোজগার
বেতনও অন্যতম বড় দুশ্চিন্তা। আইটিএফের সাপোর্ট টিম এএফপিকে জানিয়েছে আমাদের যে ইমেল পাঠানো হয়েছে, তার প্রায় ৫০ শতাংশ বেতন সংক্রান্ত। জাহাজে থাকার সিদ্ধান্ত তাঁরা নেন কারণ জাহাজ ছাড়ার খরচ করতে অপারগ। এএফপি একটি রিপোর্ট দেখেছে, যাতে একজন নাবিক জিজ্ঞাসা করছেন, তাঁর বেতন কি ১৬ ডলার প্রতিদিন থেকে বাড়িয়ে ৩২ ডলার করা যাবে? কারণ তাঁরা এখন ঘোষিত যুদ্ধক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছেন। ১৬ ডলার ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৫০০ টাকার কাছাকাছি।
আইটিএফের বক্তব্য, এত কম বেতনের অর্থ স্পষ্ট, জাহাজ মালিকরা লেবার এগ্রিমেন্ট করেননি। তাতে করে তাঁদের সঠিক বেতন নিশ্চিত করা যেত। এই ধরণের চুক্তির অধীনে কর্মরত নাবিকরা বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকেন। তাদের চুক্তিতে প্রায়শই যুদ্ধক্ষেত্রে কাজ করার বিধান থাকে না। জাহাজ মালিকরাও প্রায়শই আটিএফের মতো সংস্থাগুলোর অনুরোধে সাড়া দেন না। নাবিকরা মূলত ফিলিপিন্স, ভারত, বাংলাদেশ, মায়ানমার, ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলির নাগরিক।