জেলা জুড়ে কুড়িটির বেশি কার্যালয়, তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক

বিশ্বজিত মন্ডল, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ বিধানসভা নির্বাচনের আগে মালদা জেলায় দাঁত ফোটাচ্ছে মিম। ইতিমধ্যে জেলা জুড়ে কুড়িটির বেশি কার্যালয় খুলেছে মিম।যা ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। সেই সঙ্গে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে, মালদা জেলা জুড়ে অধিকার যাত্রা করতে চলেছে মিম। জানুয়ারি মাসে মালদায় বেশ কয়েকটি সভা করবে আসাদউদ্দিন ওয়েসি। মিম বিজেপিকে সুবিধা করার জন্য বিহারের পর বাংলায় নেমেছে, একই সুরে সুর মিলিয়ে অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেসের। মালদা জেলার ১২ টি আসনের মধ্যে প্রায় ১০টি প্রার্থী দিতে চলেছে মিম।কয়েকদিন আগেইওয়াকফ নিয়ে মালদা জেলা শাসকের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়ে নজর কেড়েছে তারা। আর এবার অধিকার যাত্রা। মিমের জেলা সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, তারা জেলার প্রায় প্রতিটি আসনেই প্রার্থী দেবেন। মানুষের সাড়া ব্যাপক পাচ্ছেন তারা। বর্তমান শাসকদল মানুষকে ঠকিয়েছে।

কংগ্রেসের কোন অস্তিত্ব নেই।আইএসএফ সহ বেশ কিছু দলের সাথে কথা চলছে রাজ্য নেতৃত্বের।যদি জোট হয় তাহলে জোটবদ্ধভাবে লড়বে তা না হলে এককভাবে লড়াই করবে। সংখ্যালঘু এলাকার মানুষ তাদের পাশে রয়েছে। বিজেপির দোসর হিসেবে কাজ করছে এই মিম কটাক্ষ তৃণমূলের। মিম এর কোনও গুরুত্ব নেই। দাবি জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের। বিহারে বিজেপির এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছে মিম। তৃণমূল আসন পাবেনা মানুষ মালদা জেলায় কংগ্রেসের সাথে রয়েছে দাবি কংগ্রেস নেতৃত্বের। পাল্টা বিজেপির দাবি, গোটা ভারতবর্ষ জুড়ে লড়াই করতে বিজেপির নিজেদের ক্ষমতা রয়েছে। তার জন্য মিম এর প্রয়োজন নেই। মিমকে দেখে তৃণমূল আতঙ্কগ্রস্থ হয়েছে।

তবে কি সত্যিই এবার মিম কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলতে চলেছে সংখ্যালঘু অধ্যুসিত মালদা জেলায়? মালদা জেলায় মোট বারোটি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে, গত বিধানসভা ভোটে-এর মধ্যে কেবল মালতীপুর আসনের লড়াই করেছিল মিম। বারটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে, হিন্দু অধ্যুষিত গাজল, ইংরেজবাজার, পুরাতন মালদা, হবিবপুরের আসনগুলি যায় বিজেপির দখলে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হরিশ্চন্দ্রপুর, চাঁচল, মালতিপুর, সুজাপুর ও মোথাবাড়ি আসন দখল করে তৃণমূল। যেখানে জনসংখ্যার বিন্যাস আধা-আধি। সেইরকম বৈষ্ণবনগর ও মানিকচক ও রতুয়া আসনটি দখল করে তৃণমূল।জেলার মোট আটটি আসন তৃণমূল। চারটি পায় বিজেপি। গত, লোকসভা ভোটে, বিধানসভা অনুযায়ী ফলাফলে দেখা গিয়েছে একমাত্র চাঁচল বিধানসভা আসনটি ছাড়া বাকি সব কটি আসন থেকে এগিয়েছিল কংগ্রেস ও বিজেপি। মালদা উত্তর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত হবিবপুর, গাজোল, পুরাতন মালদহ অনেক ভোটে এগিয়েছিল বিজেপি। হরিশ্চন্দ্রপুর মালতিপুর রতুয়া আসনে এগিয়ে কংগ্রেস, একমাত্র চাচোল আসনে সামান্য এগিয়েছিল তৃণমূল। মালদা উত্তর লোকসভা আসনটি দখল করে বিজেপি। জয়ী হোন খগেন মুর্মু। পাশাপাশি মালদা দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বৈষ্ণবনগর, মানিকচক, ইংরেজবাজার আসনে এগিয়েছিল বিজেপি।বাকি সুজাপুর ,মোথাবাড়ি, পার্শ্ববর্তী মুশিদাবাদ জেলার সামশেরগঞ্জ ও ফারাক্কা আসনে এগিয়ে কংগ্রেস। কংগ্রেস প্রার্থী ইশা খান চৌধুরী জয়ী হন। সে ক্ষেত্রে মিম কতটা প্রভাব ফেলতে পারে সেটাই দেখার।