ইরানের অভিযোগ, শুধু ওই স্কুলই নয়—দেশজুড়ে অসংখ্য অসামরিক প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়েছে। হাসপাতাল, অ্যাম্বুল্যান্স, আবাসস্থলও টার্গেট করা হয়েছে।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানাল ইরান। দক্ষিণ ইরানে একটি গার্লস স্কুলে ‘ইচ্ছাকৃত’ বিমান হামলার অভিযোগ তুলে এই ঘটনাকে “অবৈধ ও নৃশংস যুদ্ধ” বলে দাবি করল তেহরান। রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনে (Seyed Abbas Araghchi) এই অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী সঈদ আব্বাস আরাঘচি।
রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের (United Nations Human Rights Council) ৬১তম অধিবেশনের জরুরি বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আরাঘচি বলেন, “দুই পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল, ইরানের উপর জোর করে এক অবৈধ যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে। মিনাব শহরের শাজরেহ তাইয়্যেবেহ গার্লস স্কুলে হামলা কোনও ভুলবশত নয়, বরং তা ছিল সুপরিকল্পিত আঘাত।”
ইরানের তরফে জানানো হয়েছে, ওই হামলায় ১৭৫ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আরাঘচির কথায়, “এই নির্মম হামলা একটি বৃহত্তর চিত্রের অংশ। এটিকে কোনওভাবেই দুর্ঘটনা বলা যায় না।” তিনি এই ঘটনাকে একই সঙ্গে ‘যুদ্ধাপরাধ’ এবং ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর সাফ কথা, “এই অপরাধ লুকোনো যাবে না, এবং নীরব থেকেও এড়ানো যাবে না।”
ইরানের অভিযোগ, শুধু ওই স্কুলই নয়—দেশজুড়ে অসংখ্য অসামরিক প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়েছে। হাসপাতাল, অ্যাম্বুল্যান্স, আবাসস্থল —সবই নাকি টার্গেট করা হয়েছে। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই ৬০০-র বেশি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে এবং ১,০০০-এর বেশি পড়ুয়া ও শিক্ষক হতাহত হয়েছে।
এখানেই শেষ নয়, ইরানের বিদেশমন্ত্রীর আরও অভিযোগ, হামলার পর মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। এই ধরনের ‘বিরোধী মন্তব্য’ দায় এড়ানোর চেষ্টা বলেই দাবি তেহরানের।
ঘটনার পেছনে কূটনৈতিক বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগও তুলেছে ইরান। আরাঘচির দাবি, ২৮ ফেব্রুয়ারি যখন ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছিল, তখনই এই সংঘাতের সূচনা। তাঁর কথায়, “আলোচনার টেবিল ভেঙে দিয়ে কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে।”
পাশাপাশি, ফিলিস্তিন ও লেবাননের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির সঙ্গেও এই হামলার যোগসূত্র টানেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, এই সব ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ‘নির্বিচার বর্বরতা’ চালানো হচ্ছে।
শেষে আন্তর্জাতিক মহলের কাছেও কড়া বার্তা দেয় তেহরান। অভিযুক্তদের জবাবদিহি করতে হবে, এমন দাবি জানানো হয়েছে। যদিও একই সঙ্গে ইরানের দাবি, তারা যুদ্ধ চায় না। তবে প্রয়োজন হলে আত্মরক্ষা চালিয়ে যাওয়া হবে বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে এই ইসলামিক প্রজাতন্ত্র।