বন্যা দুর্গতদের সাহায্যের হাত মন্ত্রীর

গঙ্গাসাগর থেকে উত্তরবঙ্গের বন্যা দুর্গতদের জন্য এক লক্ষ টাকা পাঠালেন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা: উত্তরবঙ্গে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানবিকতার নজির গড়লেন মন্ত্রী। এক লক্ষ টাকার সাহায্য পাঠালেন রাজ্যের সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী এবং গঙ্গাসাগরের বিধায়ক বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা। সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকা গঙ্গাসাগর থেকেই বন্যা কবলিত এলাকার মানুষদের ত্রাণ তহবিলে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এক লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য পাঠালেন তিনি।

মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা জানান,  প্রাকৃতিক দুর্যোগে উত্তরবঙ্গের মানুষের চরম দুর্গতিতে তিনি গভীরভাবে ব্যথিত। ভৌগোলিকভাবে দূরে থাকলেও, তিনি এবং গঙ্গাসাগরের মানুষজন দুর্গতদের পাশে আছেন। সুন্দরবনের মতো উপকূলীয় এলাকাও প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়।  তাই উত্তরবঙ্গের মানুষের কষ্ট তারা উপলব্ধি করতে পারছেন।

​মন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা জানি এই সামান্য অর্থ বিশাল ক্ষতির মোকাবিলা করতে যথেষ্ট নয়। তবে এই সাহায্য সহানুভূতি ও সংহতির বার্তা বহন করে। আমাদের এই সামান্য উদ্যোগ যদি একজন বন্যা দুর্গত মানুষের মুখেও হাসি ফোটাতে পারে, তবে সেটাই বড় পাওনা।” মন্ত্রীর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষজন।

​এই অর্থ দ্রুত উত্তরবঙ্গের বন্যা দুর্গতদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে মন্ত্রীর দফতর সূত্রে জানা যাচ্ছে। রাজ্যের দুই প্রান্তের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও সংহতির বার্তা নিয়ে মন্ত্রীর এই মানবিক পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।

আমরা দেখেছি উত্তরবঙ্গের দুর্গতদের সাহায্যের স্বার্থে দুবার সেখানে ছুটে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ বিলির পাশাপাশি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মৃতদের পরিবারের একজন করে সদস্যের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন। এছাড়া তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও ১ লক্ষ টাকার চেক পাঠিয়েছেন রাজ্য সরকারের ত্রাণ তহবিলে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের এই ত্রাণ তহবিলে আরও যদি কেউ সাহায্য করতে চান, তাদের জন্য ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ড ডিটেইলস শেয়ার করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর্থিক সাহায্যের পর নিজের স্যোশাল মিডিয়াতে সেই কথা জানিয়ে তিনি রাজ্য সরকারের দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ বা ডাব্লিউবিএসএমডিএ-র পাশে থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। এরই পাশাপাশি এই বিপর্যয়কে ম্যানমেড বলেও চিহ্নিত করেছেন তিনি।

এই প্রথম নয়, প্রত্যেকবছরই রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতির জন্য ডিভিসিকে দায়ী করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারও তার অন্যথা হয়নি। পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও ডিভিসির ভূমিকায় প্রশ্ন তুলেছেন।