গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখলেন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা।

গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৬-এর প্রস্তুতি বুধবার খতিয়ে দেখলেন মন্ত্রী; মুড়িগঙ্গা নদীতে ৩০ কোটি টাকা বাজেটে ড্রেজিংয়ে নয়া দিশা

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব প্রতিনিধি : আসন্ন গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৬-এর প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। আগামী ৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে চলা এই মেলায় এবার ভিড়ের সমস্ত রেকর্ড ভাঙার আশঙ্কা করছে প্রশাসন। যেহেতু এবছর কুম্ভ মেলা নেই, তাই গত বছরের ১ কোটি ১০ লক্ষ পুণ্যার্থীকে ছাপিয়ে এই সংখ্যাটি অনায়াসে দেড় কোটি ছুঁতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই নজিরবিহীন জনপ্লাবন সামাল দিতে রাজ্য সরকার ও জেলা প্রশাসনের তৎপরতা এখন চরমে। এই প্রস্তুতির কাজ সরোজমিনে দাঁড়িয়ে থেকে খতিয়ে দেখলেন সাগরের বিধায়ক এবং সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা। মেলা গ্রাউন্ড থেকে মুড়িগঙ্গা নদী পর্যন্ত সমস্ত কাজ তিনি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।
প্রস্তুতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল মুড়িগঙ্গা নদীতে ড্রেজিংয়ের কাজ। মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা স্বয়ং এই এলাকার কাজ পরিদর্শন করে সেচ দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, পুণ্যার্থী পারাপার সহজ ও নিরাপদ করতে রাজ্য সরকারের সেচ দপ্তরের প্রায় ৩০ কোটি টাকা বাজেটে এই গুরুত্বপূর্ণ ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু করা হয়েছে মুড়িগঙ্গা নদী এবং বেনুবন ঘাট সংলগ্ন এলাকায়।

ড্রেজিংয়ের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভেঙে যাওয়া ১ থেকে ৬ নম্বর পারাপার ঘাটগুলির মেরামতির পাশাপাশি মুড়িগঙ্গায় গভীরতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। এই গভীরতা বৃদ্ধির ফলে জলপথে ভেসেল চলাচল আরও মসৃণ ও দ্রুত হবে, যা বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থীকে দ্রুত এবং নিরাপদে পারাপার করতে সাহায্য করবে। মন্ত্রী তাঁর পরিদর্শনের সময় জোর দেন পুণ্যার্থীদের জন্য উন্নত যাত্রী পরিষেবার উপর। তিনি নিশ্চিত করেন যে, জলপথে ভেসেল পরিষেবা এবং স্থলপথে বাস পরিষেবা এবার বহুগুণ বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি, পুণ্যার্থীদের থাকার সুবিধার জন্য অতিরিক্ত যাত্রী নিবাস ও বাফার জোন তৈরি করা হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই নবান্নে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং জল ও বিদ্যুতের মতো জরুরি পরিষেবা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। মেলা শুরুর আগেই কপিল মুনির আশ্রমে পুণ্যার্থীদের আগাম আগমন ইঙ্গিত দিচ্ছে, এই বছর সাগরসঙ্গম এক নতুন ইতিহাস গড়তে চলেছে। বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করতে নেওয়া বিশেষ উদ্যোগগুলিও খতিয়ে দেখেন। মেলা প্রাঙ্গণে একাধিক অস্থায়ী হাসপাতাল, প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে পুণ্যার্থীরা দ্রুত চিকিৎসা পান। অন্যান্য বছরের মতো এবারও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে আসার কথা রয়েছে।

গঙ্গাসাগর মেলা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি স্থানীয় অর্থনীতির জন্য একটি বড় সুযোগ। এই বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থীর আগমন স্থানীয় হস্তশিল্প, হোটেল এবং পরিবহণ ব্যবসায়ীদের জন্য সুদিন নিয়ে এসেছে। মন্ত্রী হাজরার নেতৃত্বে জেলা প্রশাসন নজিরবিহীন তৎপরতা শুরু করেছে। সব মিলিয়ে, মন্ত্রীর সরাসরি তদারকিতে একটু একটু করে নতুন সাজে সেজে উঠছে গঙ্গাসাগর, যা এই বছর এক ঐতিহাসিক মেলার সাক্ষী হতে চলেছে।