ওয়াইসিকে পাল্টা নিশানা রমেশ্বরের, ‘জঙ্গিঘাঁটি থাকলে ক্ষেপণাস্ত্র চলবেই’, ইউসিসি নিয়েও সওয়াল বিজেপি বিধায়কের।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : ভোপালের কাজি ক্যাম্পে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কথিত মন্তব্য ঘিরে বিজেপি বিধায়ক রমেশ্বর শর্মা এবং এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসির মধ্যে সংঘাত চরমে। মঙ্গলবার এক জনসভা থেকে মধ্যপ্রদেশের বিজেপি বিধায়ককে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন হায়দরাবাদের সাংসদ। ওয়াইসির বক্তব্য, সত্যিই যদি কাজি ক্যাম্পে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর সাহস থাকে, তা হলে দিনক্ষণ জানানো হোক। তিনি একাই সেখানে দাঁড়িয়ে হামলার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।
সমাজমাধ্যমে এআইএমআইএমের প্রকাশিত একটি ভিডিয়ো বার্তায় ওয়াইসিকে বলতে শোনা যায়, ‘‘বিজেপি বিধায়ক রমেশ্বর শর্মা, যদি সত্যিই মায়ের সন্তান হন, তা হলে বলুন কবে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়বেন? আমি একাই কাজি ক্যাম্পে এসে দাঁড়াব। শহিদ হতে প্রস্তুত, মরতেও প্রস্তুত। কিন্তু আপনাদের মতো মানুষের সামনে মাথা নত করব না।’’
গত ৬ সেপ্টেম্বর ভোপালের করোন্দ এলাকায় একটি ‘মটকি ফোড়’ প্রতিযোগিতায় রমেশ্বরের বক্তব্য ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ, তিনি করোন্দ স্কোয়্যার থেকে ভোপালের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কাজি ক্যাম্পের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কথা বলেছিলেন। যদিও পরে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে বিজেপি বিধায়ক জানান, তিনি ভোপালের কাজি ক্যাম্পের কথা বলেননি। তাঁর নিশানা ছিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের কাজি ক্যাম্প।
বুধবার ওয়াইসির মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে রমেশ্বর শর্মা বলেন, ভারতীয় সেনা, বিজ্ঞানী এবং দেশবাসীর তৈরি ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্য সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো ধ্বংস করা। তাঁর দাবি, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় পাকিস্তানের ভূখণ্ডে সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে ভারত নিজের সামরিক ক্ষমতা দেখিয়েছে। সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে বলে জানান তিনি।
রামেশ্বর শর্মার কথায়, ‘‘যেখানে সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি রয়েছে, যেখানে ভারতবিরোধী শিবির রয়েছে, ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র সেখানে পৌঁছতে প্রস্তুত। গতকাল যে বক্তব্য রেখেছিলাম, আজও সেই কথায় অটল আছি।’’
ওয়াইসির আপত্তি থাকলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, কোনও বক্তব্য নিয়ে সমস্যা থাকলে আইনি পথে তার মোকাবিলা করা যেতে পারে।
এর পরেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে সরব হন রামেশ্বর শর্মা। দেশের সব নাগরিকের জন্য এক ধরনের দেওয়ানি আইন চালু করার পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘‘ইউসিসি নিয়ে এত আপত্তি কেন?’’ তাঁর দাবি, দেশের অধিকাংশ মানুষ যখন অভিন্ন দেওয়ানি আইনের আওতায় রয়েছেন, তখন তা সর্বত্র কার্যকর করতে সমস্যা কোথায়?
বহুবিবাহ, ‘হালাল’ এবং তিন তালাকের মতো প্রথা নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। রামেশ্বর শর্মার বক্তব্য, প্রতিটি শিশুর শিক্ষা, চাকরি, বাসস্থান এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। নারী ও শিশুর অধিকার রক্ষায় অভিন্ন আইন গুরুত্বপূর্ণ বলেও দাবি করেন তিনি।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর ঘোষিত পরিকল্পনার উল্লেখ করে রামেশ্বর শর্মা জানান, ২০২৯ সালের আগেই বিভিন্ন রাজ্যে ইউসিসি কার্যকরের লক্ষ্যে এগোনো হচ্ছে। সংবিধান প্রণেতা বি আর অম্বেডকরের ভাবনার সঙ্গে এই উদ্যোগের সামঞ্জস্য রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে ইউসিসি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে মতপার্থক্য রয়েছে। বিভিন্ন বিরোধী দল ও সংগঠন ব্যক্তিগত আইন এবং ধর্মীয় অধিকারের প্রশ্নে আপত্তি জানিয়ে এসেছে। ফলে রামেশ্বর শর্মার মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক যে বাড়ছে তা বলাই বাহুল্য।