সাগরের দুই স্কুলে আধুনিক পরিকাঠামোর উদ্বোধন

শিক্ষার মানোন্নয়নে উপস্থিত মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা ও সাংসদ বাপি হালদার।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা:  ​দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সুন্দরবন উপকূলবর্তী এলাকায় শিক্ষার প্রসারে এক বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হল। সম্প্রতি সাগরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান— সুন্দরবন জনকল্যাণ সংঘ বিদ্যানিকেতন এবং রুদ্রনগর দেবেন্দ্র বিদ্যাপীঠ স্কুলে নবনির্মিত অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ ও সাইকেল স্ট্যান্ডের আনুষ্ঠানিক দ্বারোদঘাটন সম্পন্ন হল। গ্রামীণ শিক্ষার মানোন্নয়ন ও পড়ুয়াদের সুবিধার্থে এই উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। গঙ্গাসাগর উপকূলবর্তী সুন্দরবন জনকল্যাণ সংঘ বিদ্যানিকেতনে এদিন ছিল উৎসবের মেজাজ। বিদ্যালয়ের ক্রমবর্ধমান ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যার কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে নতুন অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ। ফিতে কেটে ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে এই কক্ষগুলির উদ্বোধন করেন মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ বাপি হালদার এবং সুন্দরবন উন্নয়ন পর্ষদের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা।

​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাগর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সাবিনা বিবি, সহ-সভাপতি স্বপন কুমার প্রধান এবং জেলা পরিষদের সদস্য সন্দীপ কুমার পাত্র। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অতিথিদের বরণ করে নেওয়া হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষের মতে, এই নতুন পরিকাঠামো পঠন-পাঠনের পরিবেশে এক নতুন গতি আনবে। অন্যদিকে, সাগর ব্লকের অন্যতম প্রাচীন ও প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রুদ্রনগর দেবেন্দ্র বিদ্যাপীঠ স্কুলেও এক বিশেষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। সাংসদ ও মন্ত্রীর হাত ধরে এদিন এখানেও অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষের পাশাপাশি একটি আধুনিক সাইকেল স্ট্যান্ডের শুভ উদ্বোধন করা হয়। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা সাইকেল আরোহী পড়ুয়াদের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে এই সাইকেল স্ট্যান্ডটি বিশেষ ভূমিকা নেবে। এই অনুষ্ঠানে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, পরিচালন সমিতির সদস্য এবং কয়েক হাজার ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুন্দরবন উন্নয়ন পর্ষদের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা বলেন, “সুন্দরবনের প্রত্যন্ত প্রান্তের প্রতিটি শিশুর কাছে আধুনিক শিক্ষা পৌঁছে দিতে রাজ্য সরকার দায়বদ্ধ। কেবল ভবন নয়, শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নে আমরা কাজ করে চলেছি।” অন্যদিকে, সাংসদ বাপি হালদার ছাত্র-ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে জানান, গ্রামীণ এলাকার স্কুলগুলোর পরিকাঠামো শক্তিশালী হলে তবেই গ্রাম ও শহরের শিক্ষার ব্যবধান দূর হবে। উপকূলবর্তী এলাকার এই দুই স্কুলে নতুন পরিকাঠামো যুক্ত হওয়ায় স্থানীয় অভিভাবক ও পড়ুয়াদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। শিক্ষাক্ষেত্রে এই ধরণের ধারাবাহিক উন্নয়ন আগামী দিনে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার প্রান্তিক পড়ুয়াদের শিক্ষার মূল স্রোতে আরও দৃঢ়ভাবে যুক্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।