আরজি কর থেকে কর্মসংস্থানে ভাটা, তৃণমূলকে বিঁধলেন মোদী

“সন্দেশখালি থেকে শুরু করে আরজিকরের ঘটনা তৃণমূল কীভাবে অপরাধীদের পাশে থেকেছে, বাংলার মানুষ ভুলে যায়নি।”

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : “এবারের ভোট শুধুমাত্র সরকার বদলের নয়, বাংলার আত্মাকে বাঁচানোর ভোট। ব্যবস্থা বদলের ভোট। কাটমানি থেকে রেহাই পাওয়া এবং ভয় থেকে মুক্তি পাওয়ার ভোট।”- ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের সভা থেকে এমনই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

শুরুতেই বাংলায় বক্তৃতা শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন. “আমার প্রিয় পশ্চিমবঙ্গবাসী ভাই ও বোনেরা। আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে সশ্রদ্ধ প্রণাম।”

মোদীর দাবি ব্রিগেডের ভিড় প্রমাণ করছে বাংলায় বদল আসন্ন। তিনি বলেন, “বাংলার ঐতিহাসিক মাটি এই ব্রিগেডের ঐতিহাসিক ময়দান এবং বাংলার মানুষের এই ভিড়। যতদূর চোখ যাচ্ছে মানুষের মাথা দেখছি। আপনার উৎসাহ চোখে পড়ছে। বাংলার মনে কী চলছে, সেটা জানতে চাইলে এই ছবিটা দেখুন। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের ইতিহাস সাক্ষী। যখনই বাংলা দেশকে দিশা দেখায়, তখনই এই ব্রিগেড ময়দান বাংলার স্বর হয়ে ওঠে। এই ময়দান থেকেই ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে আওয়াজ উঠেছিল। সেই আওয়াজ গোটা ভারতবর্ষে বিপ্লব এনেছিল। এর ফলে পাততারি গুটিয়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিল ইংরেজ শাসক। আজ আরও একবার ব্রিগেড গ্রাউন্ড থেকে নতুন বাংলা গড়ে তোলার আওয়াজ উঠছে। বাংলায় বদল হবে। বাংলার মানুষের মনেও ফুটে উঠছে একই কথা- বাংলায় নির্মম সরকারের শেষ হবে। বাংলা থেকে মহা জঙ্গলরাজ শেষ হবে। এজন্যই বাংলার প্রত্যেক কোনা থেকে আওয়াজ উঠছে- চাই বিজেপি সরকার।”

মোদীর অভিযোগ, “ মিছিলে যারা এসেছেন, তাদেরকে চোর বলে গালিগালাজ করেছিল তৃণমূল। আসল চোর কে, বাংলার মানুষ জানেন। নিজের আসন টলমল বুঝেই প্রলাপ বলছে এখানকার নির্মম সরকার। আজকের সভায় সমর্থকদের আটকানোর যথাসম্ভব চেষ্টা করেছিল তৃণমূল সরকার। ব্রিজ বন্ধ করে দিয়েছে, গাড়ি আটকে দিয়েছে, ট্রাফিক জ্যাম করে দিয়েছে, বিজেপির পতাকা উপড়ে ফেলেছে, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছে। কিন্তু নির্মম সরকার দেখে নিক, জনসমুদ্র ঠেকানো যায়নি। বাংলায় জঙ্গলরাজ শেষের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। সেই দিন দূরে নেই যখন বাংলায় আবার আইনের শাসন হবে। যে আইন ভাঙবে, অত্যাচার করবে, শাস্তি পাবে। তৃণমূলের কোনও অত্যাচারীকে ছাড়া হবে না। বেছে বেছে হিসেব নেওয়া হবে। এখানকার নির্মম সরকার যতই গায়ের জোর লাগাক, পরিবর্তনের আগুনকে আটকাতে পারবে না।”

প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, “বিজেপির সঙ্গে, এনডিএর সঙ্গে মহিশাসুর মর্দিনীর আশীর্বাদ আছে। শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস, স্বামী বিবেকানন্দ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বাঘাযতীন ক্ষুদিরাম বসু, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, রানী রাসমনির মতো মহিষীরা যে বাংলার পরিকল্পনা করেছিলেন, বিজেপি সেই বাংলার নবনির্মাণ করবে। বাংলার বিকাশ সঠিক উদ্দেশ্য নিয়ে সঠিক নীতি নিয়ে হবে। বাংলায় আমাদের সরকার নেই। তাও কেন্দ্রীয় রকারের মাধ্যমে বাংলার বিকাশের চেষ্টা করছে বিজেপি। এখনও ১৮ হাজার কোটির বেশি টাকা খরচ করে প্রকল্পকে মঞ্জুর করেছে কেন্দ্র। এই প্রোজেক্ট বাংলার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে। এর ফল হাতেনাতে পাবেন বাংলার সাধারণ মানুষ, কৃষক, ব্যবসায়ী এবং পড়ুয়ারা।”

এরপরই কর্মসংস্থান নিয়ে তৃণমূল সরকারকে তীব্র নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এখানকার নির্মম সরকার বাংলার যুবদের পালানোর অভিশাপ দিয়েছে। আপনারা সবাই জানেন, বাংলার যুবারা প্রতিভার দিক থেকে সবার থেকে এগিয়ে। তাঁরা পরিশ্রমের দিক থেকেও এগিয়ে। বাংলা একটা সময় গোটা ভারতের বিকাশকে এগিয়ে নিয়ে যেত। ব্যবসার দিক থেকেও এগিয়ে ছিল। কিন্তু বর্তমানে এখানকার যুব সম্প্রদায় না ডিগ্রি নিতে পারছে, না রোজগার পাচ্ছেন। আপনার ছেলেমেয়েদের কাজের জন্য অন্য রাজ্যে যেতে হচ্ছে। আগে কংগ্রেস, পরে কমিউনিস্ট এবার টিএমসি। এরা একের পর এসেছে এবং  নিজেদের পকেট ভরেছে। বাংলায় বিকাশের কাজ থামিয়ে দিয়েছে। পরিকাঠামোর দিক থেকেও পিছিয়ে গিয়েছে বাংলা। তৃণমূলের জমানায় চাকরি প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। নিয়োগে দুর্নীতি হচ্ছে। এবার সময় বদলাতে হবে। বাংলার যুবসম্প্রদায়কে বাংলায় কাজ দিতে হবে। যুবারা বাংলাকে নেতৃত্ব দিক। আপনার এই স্বপ্নই পূরণ করার গ্যারান্টি দিচ্ছে মোদী।”

প্রধানমন্ত্রীর তোপ, “তৃণমূল সরকার না কাজ করবে, না করতে দেবে। যতদিন এরা কাটমানি পাচ্ছে, এরা কোনও প্রকল্পকে গ্রামে গরিবদের কাছে পৌঁছতে দেবে না। সেজন্যই কেন্দ্রীয় প্রকল্পকে বন্ধ করে রাখে। যুবদের সাহায্যার্থে আমরা পিএম বিশ্বকর্মা প্রকল্প এনেছি। কিন্তু তাতে ব্রেক লাগিয়েছে নির্মম সরকার। কেন্দ্র সরকার টাকা দিচ্ছে। তা সত্বেও তৃণমূল যুবাদের বঞ্চিত করছে। দেশবাসীকে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পরিষেবা দিতে পিএম সূর্য ঘর মুফত বিজলি যোজনা শুরু করা হয়েছে। কেন্দ্র লাভ্যার্থীদের ৭৫-থেকে ৮০ হাজার টাকা দেয়। কিন্তু তাকেও কার্যকর হতে দেয়নি বাংলার সরকার। একইভাবে আয়ুষ্মান যোজনাকেও কার্যকর হতে দেয়নি। দেশবাসী ৫ লক্ষ টাকার বিমা পাচ্ছেন বিনামূল্যে। মোদী দিচ্ছে, কিন্তু বাংলার মানুষ তার থেকেও বঞ্চিত।”

মোদী বলেন, “টিএমসি গেলে ঘরে ঘরে পরিশ্রুত জল পৌঁছবে, সব গরিব পাকা বাড়ি পাবে, কারিগররা সুযোগ পাবেন, বিনামূল্যে চিকিৎসা পাবেন, টিএমসি গেলে বাংলায় সুশাসন আসবে। বাংলা বিভাজনের আগুন দেখেছে, অস্থিরতা দেখেছে, অনুপ্রবেশ দেখেছে। রক্তপাত দেখেছে। মহিলারা ভুক্তভোগী হয়েছেন। অপহরণ, ধর্ষণের অত্যাচার কাটাতে আপনারা টিএমসিকে ভরসা করেছেন, কিন্তু বামেদের গুন্ডা মাফিয়াদেরকেই পার্টিতে ভর্তি করে নিয়েছে টিএমসি। কলেজের ভিতর কুকর্ম থেকে শুরু করে শিশু কিশোরীদের উপর অত্যাচারে অভিযুক্তরা নয় তৃণমূলের নেতা, না হয় তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত। তৃণমূল অপরাধকে আশকারা দিচ্ছে। সন্দেশখালি থেকে শুরু করে আরজিকরের ঘটনা তৃণমূল কীভাবে অপরাধীদের পাশে থেকেছে, বাংলার মানুষ ভুলে যায়নি।”