আরএসএসের শতবর্ষে স্বয়ংসেবকদের শুভেচ্ছা মোদীর

মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে সংগঠনের স্বয়ংসেবকদের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আরএসএসের ১০০ বছরের যাত্রাপথকে তিনি ‘সেবা, রাষ্ট্রগঠন এবং সামাজিক সম্প্রীতির এক অসাধারণ শতাব্দী’ বলে বর্ণনা করেছেন।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

সমাজমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী সংগঠনটিকে বছরের পর বছর ধরে যাঁরা এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন, সেই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি, আগামী দিনেও সেবার এই মনোভাব দেশের উন্নয়নকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী মোদী লেখেন, “আজ আরএসএস প্রতিষ্ঠা দিবসের বিশেষ উপলক্ষে সমস্ত স্বয়ংসেবককে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। বছরের পর বছর ধরে যাঁরা আরএসএসকে লালন করেছেন এবং এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন, সেই সমস্ত মহান ব্যক্তিত্বের প্রতিও জানাই শ্রদ্ধা।”

তিনি আরও লেখেন, “সেবা, রাষ্ট্রগঠন এবং সামাজিক সম্প্রীতির এক অসাধারণ শতাব্দী পূর্ণ করেছে আরএসএস। অসংখ্য স্বয়ংসেবক গভীর কর্তব্যবোধ এবং দেশকে সবার আগে রাখার মানসিকতা নিয়ে সমাজের জন্য কাজ করেছেন। আগামী দিনেও এই মনোভাব দেশের উন্নয়নকে আরও শক্তিশালী করে তুলুক।” উল্লেখ্য, ১৯২৫ সালে নাগপুরে প্রতিষ্ঠিত আরএসএসের ১০০ বছর পূর্ণ হয়েছে। বিজয়া দশমীর দিন কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার এই সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতি বছর বিজয়া দশমীর দিন সংগঠনের প্রতিষ্ঠা দিবস উদ্‌যাপন করা হয়। এ দিন সকালে নাগপুরের রেশিমবাগ ময়দানে আরএসএসের শতবর্ষ উদ্‌যাপনের সমাপনী বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত বিজয়া দশমীর অনুষ্ঠানে শস্ত্রপুজো করেন সঙ্ঘপ্রধান মোহন ভাগবত। পাশাপাশি, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের প্রতি পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করে শ্রদ্ধা জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ী, মহারাষ্ট্রের রাজস্বমন্ত্রী চন্দ্রশেখর বাওয়ানকুলে-সহ আরএসএসের একাধিক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল দৈনিক জাগরণের প্রধান সম্পাদক সঞ্জয় গুপ্তকে। পশ্চিম ভারতের দায়িত্বপ্রাপ্ত মুম্বইয়ে অবস্থিত ইজরায়েলের কনসাল জেনারেলও অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে হিমালয় অঞ্চলের উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন মোহন ভাগবত। তাঁর মতে, একতরফা উন্নয়নের প্রচেষ্টা ওই অঞ্চলে পরিবেশগত অস্থিরতা তৈরি করছে। এই অস্থিরতার জেরে গোটা অঞ্চলে ১,৪০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ৬,০০০-র বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানান তিনি। আরএসএস প্রধান এমন একটি সামগ্রিক উন্নয়ন মডেলের পক্ষে সওয়াল করেন, যেখানে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং মানুষের কল্যাণ উভয় বিষয়কেই গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি, ভারতের সভ্যতাগত দৃষ্টিভঙ্গি, সামাজিক সম্প্রীতি এবং সমাজমাধ্যমে তথ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে বিচার-বিবেচনা প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

মাদকাসক্তি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ভাগবত। একে দেশের একটি গুরুতর সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে এই সংকট মোকাবিলায় সরকার, প্রশাসন এবং সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানান তিনি। আরএসএসের চূড়ান্ত লক্ষ্য হল ভারতের ‘সর্বাঙ্গীণ উন্নতি’। গত এক শতাব্দী ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সমাজকল্যাণ এবং দুর্যোগ মোকাবিলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এই সংগঠন। বন্যা, ভূমিকম্প এবং ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় উদ্ধারকাজ, ত্রাণ এবং পুনর্বাসনের কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন সংগঠনের স্বয়ংসেবকেরা। এ ছাড়াও, আরএসএসের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন যুবসমাজ, মহিলা এবং কৃষকদের ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে কাজ করেছে। একই সঙ্গে জনসাধারণের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং স্থানীয় স্তরে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক বন্ধন আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও অবদান রেখেছে তারা।