দেশের জ্বালানি সরবরাহে যাতে বড় ধরনের প্রভাব না পড়ে, সেই লক্ষ্যেই এই আলোচনা।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান–ইজরায়েল–আমেরিকার সংঘাতের জেরে তৈরি হওয়া এলপিজি সঙ্কট মোকাবিলায় তৎপর কেন্দ্র। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে মঙ্গলবার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এবং বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। দেশের জ্বালানি সরবরাহে যাতে বড় ধরনের প্রভাব না পড়ে, সেই লক্ষ্যেই এই আলোচনা বলে সূত্রের খবর।
বর্তমান সঙ্কটের মূল কারণ হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা। সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার পর এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। অথচ ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই পথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৬২ শতাংশ আমদানি করতে হয় বিদেশ থেকে। তার মধ্যে ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশই সৌদি আরব-সহ পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে হরমুজ প্রণালী হয়ে ভারতে আসে। ফলে এই রুট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প উৎস থেকে এলপিজি আমদানির চেষ্টা করছে কেন্দ্র। তবে আপাতত সীমিত মজুতকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৩১.৩ মিলিয়ন টন এলপিজি ব্যবহার হয়। এর মধ্যে প্রায় ৮৭ শতাংশ যায় গৃহস্থালির রান্নার গ্যাস হিসেবে। বাকি ১৩ শতাংশ ব্যবহার করে বাণিজ্যিক ক্ষেত্র—যেমন হোটেল, রেস্তরাঁ ও বিভিন্ন শিল্প।

এই পরিস্থিতিতে সাধারণ পরিবারগুলিকে সুরক্ষিত রাখতে গৃহস্থালি এলপিজি সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ফলে বাজারদরে পাওয়া বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই মুম্বই, বেঙ্গালুরু-সহ কয়েকটি বড় শহরে হোটেল ও রেস্তরাঁ শিল্পে তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হোটেল ও রেস্তরাঁ সংগঠনগুলিও।
সঙ্কট মোকাবিলায় জরুরি কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। তেল শোধনাগারগুলিকে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এজন্য কিছু পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদন সাময়িকভাবে কমিয়ে সেই কাঁচামাল এলপিজি উৎপাদনে ব্যবহার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া গৃহস্থালি সিলিন্ডারের বুকিংয়ের ব্যবধান ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে, যাতে মজুতদারি ও কালোবাজারি রোখা যায়। গৃহস্থালির পাশাপাশি আমদানি করা এলপিজির একটি অংশ হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো জরুরি পরিষেবার জন্য বরাদ্দ রাখা হচ্ছে।
অন্যদিকে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে এলপিজি বণ্টনের জন্য তেল বিপণন সংস্থাগুলির তিন জন এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টরকে নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। হোটেল, রেস্তরাঁ ও শিল্পক্ষেত্রের আবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজন ও উপলব্ধতার বিচার করে এই কমিটি গ্যাস সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেবে।
সরকারি মহলের দাবি, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল হলেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সবরকম পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।