কপাল ফিরল বলে বিক্রমের। মোদী, মমতার কৃপাদৃষ্টি যে এসে পড়েছে তাই লক্ষ্মীর ঝাঁপি খুলল বলে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কল্যাণে মিলেছে দোকান করার জমি সেই দোকানেই ঝাল মুড়ি খেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাতারাতি প্রচারে আলোয় ঝালমুড়ি বিক্রেতা বিক্রম সাউ। মোদীর কুশল বিনিময়ের ছলে ঝাল মুড়ি চাওয়া ও তার মূল্য দেওয়া দেখে মন গলেছে বিক্রমের। সংবাদপত্র থেকে টিভির পর্দা, মোবাইলে সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়েছে বিক্রম ও তাঁর ঝালমুড়ির দোকানের ছবি। এবার কি রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে যাওয়া বিক্রমের ঝালমুড়ির দোকানে দাম বাড়বে নাকি। যতই হোক, মোদী ঝালমুড়ি খেয়েছেন বলে কথা। এখন তো বিক্রমের দোকানের পাশ দিয়ে যেই যাবে সেই বলবে, ওই দেখ প্রধানমন্ত্রী মোদী এখানে ঝাল মুড়ি খেয়েছেন। এবার হয়তো ল্যান্ডমার্কই হয়ে যাবে বিক্রম সাউয়ের ঝালমুড়ি দোকান। কপাল ফিরল বলে বিক্রমের। মোদী, মমতার কৃপাদৃষ্টি যে এসে পড়েছে তাই লক্ষ্মীর ঝাঁপি খুলল বলে। কিন্তু হঠাত করে চায়ে পে চর্চা থেকে ঝালমুড়ির রাজনীতি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুড়ি খেতে ভালোবাসেন তা সবাই জানে। আর সেই মুড়ির প্রেমেই পড়লেন কিনা মোদী। তবে কি বাঙালি প্রীতি দেখাতে গিয়ে বঙ্গ রাজনীতিতে এবার সোজা ঢুকে পড়ল মুড়ি। বাংলা চা, চপ শিল্প দেখেছে এবার দেখবে মুড়ি শিল্প। তবে কি মাছ, মাংস আমিষ নিরামিশ বিতর্ক ঠেকাতে মোদী ঢাল করলেন মুড়িকেই।
চায়ে পে চর্চা , বাংলায় যাকে বলে চায়ের ঠেকে আলোচনা। তৃণমূল স্তরে রাজনীতিতে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে মোদীর এই কর্মসূচি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়। মনে আছে ২১ বিধানসভা ভোটে অমিত শাহ থেকে নাড্ডা বিজেপির তাবড় নেতারা বাংলার মাটির ঘরে দাওয়ায় বসে পাতপেড়ে খাওয়া। যা নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। যদিও বাঙালি আবেগে শান দিতে এই পাতপেড়ে খাওয়া খুব একটা কাজে আসে নি। ২১ এ ভোটে গেরুয়া শিবিরের ঝুলিতে উঠেছিল ৭৭ টি আসন। একশোর গণ্ডিও ছাড়াতে পারেনি। এবার আবার বাংলা দখলের ডাক দিয়েছে বিজেপি। ভোট আবহে প্রধানমন্ত্রী মোদী থেকে অমিত শাহ, যোগীর মতো হেভিওয়েট বিজেপির নেতারা বাংলা চষে ফেলছেন। নরেন্দ্র মোদী একদিনে চার চারটে জনসভা করে বাংলার মানুষকে বোঝাতে কসুর করছেন না কেন পাল্টানো দরকার। বাংলার ভোটাররা কী ভাবছেন তা তো ভোটবাক্স খুললেই টের পাওয়া যাবে। কিন্তু চেষ্টার কসুর নেই বিজেপির। বাঙালি অস্মিতায় হাওয়া দিতে শেষে কিনা মোদীকে ছুটতে হল ঝালমুড়ি দোকানে। অনেকেই বলছেন বিজেপির বিরুদ্ধে মাছ মাংস খেতে না দেওয়ার যে অভিযোগে বাংলায় সুর চড়িয়েছে তৃণমূল। আর সেই ধুঁয়ো ঢাকতেই নাকি মোদীর ঢাল মুড়ি। থুরি ওই মুড়ি দিয়ে মাছ ঢাকার গল্প আরকি। নিন্দুকেরা যে যাই বলুক প্রধানমন্ত্রী বাংলায় এসে মুড়ি খেয়েছেন তা নিয়ে প্রশংসা থেকে বিতর্ক কম হচ্ছে না বাংলার ভোট আবহে। হবে নাই বা কেন বাঙালিদের মুড়ি প্রীতি যে কতটা তা বোঝা যায় স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে।
অনেকে মুড়ি নিয়েও রাজনীতি। আরে মুড়ি যে কবেই রাজনীতির অলিন্দে প্রবেশ করে নিঃশব্দে বিপ্লব ঘটিয়ে দিয়েছে তার খোঁজ কেউ রাখেন। মনে আছে বাবুল সুপ্রিয় বিজেপিতে থাকাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর মুড়ি খাওয়ার বিতর্ক। যার কারণেই তো আজ তৃণমূলের ঘরের ছেলে বাবুল। ২০১৫ সালে স্বচ্ছ ভারত প্রকল্পের উদ্বোধনে কলকাতায় এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নজরুল মঞ্চে সেই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন তৎকালীয় বিজেপির কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। নিরাপত্তার কারণে এলাকায় গাড়ি রাখতে দেওয়া হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বেরিয়ে যাওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি এসেছিল। মুখ্যমন্ত্রী নাকি বাবুল সুপ্রিয়কে বলেছিলেন, তুমি তো রাজভবনেই যাচ্ছ। ওখানে নৈশভোজ আছে। আমার গাড়িতে বসো। গাড়িতে যাওয়ার সময় উনি ভিক্টোরিয়ার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। বাবুল সুপ্রিয়কে ঝালমুড়ি খেতে বলেছিলেন।আর সেই ছবি নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। আর তারপরের গল্প তো সবার জানা। বাবুল সুপ্রিয় এখন তৃণমূলের বিধায়ক থেকে সাংসদ। অতএব বাংলার রাজনীতির অলিন্দে মুড়ি অনেক আগেই ইন। তবে প্রধানমন্ত্রীর মুড়ি খাওয়ার দৃশ্য এই প্রথম দেখলো বাংলা। শুধু মুড়ি খাওয়া নয় সকলের সঙ্গে ভাগ করে খাওয়া। অনেককে আবার মোদীর দেওয়া মুড়ি প্রসাদ স্বরূপ মাথায় ঠেকিয়ে খেতেও দেখা গেল। ওই যে ইংরেজিতে একটা কথা আছে না শেয়ারিং ইজ কেয়ারিং। অর্থাৎ বাংলায় নরেন্দ্র মোদীর ইমেজ বিল্ড আপে এতটুকুও খামতি রইলো না।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ঝালমুড়ির দোকানে পায়ের ধূলি দিয়েছেন। আবার বিক্রমের হাতে বানানো মুড়িও খেয়েছেন যেন ঘোর কাটছে না বিক্রমের। বিজেবি শাসিত বিহারের গয়ায় বিক্রম সাউয়ের বাড়ি। বাংলায় ঝালমুড়ি বিক্রি করে চলে সংসার। দিনে হাজার টাকা আয়। তা দিয়েই চলে সংসার। তবে তাঁর দোকানে মোদীর আগমনে মানুষের কাছে হঠাৎ পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন বিক্রম। এবার যদি তাঁর ভাগ্য খোলে। মোদী যে ১০ টাকা দিয়েছেন তা আর্শীবাদ স্বরুপ তুলে রাখবেন বলে জানিয়েছেন বিক্রম।
বিক্রম সাউ প্রথমে ভাবতেই পারেন নি তাঁর দোকানে মোদী মুড়ি খাবেন। তাই তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাও করেন সত্যি মুড়ি খাবেন। আবার মুড়িতে পেঁয়াজ মেশানোর কথাও জিজ্ঞাসা করে নেন বিক্রম। পেঁয়াজ খেতে আপত্তি নেই বলে জানান মোদী। অনেকেই বছেন বাঙালিরা পেঁয়াজকে আমিশ হিসাবে মানেন। আর তাই মোদী মুড়িতে পেঁয়াজ খেয়ে আমিষ-নিরামিশের বিতর্কে ইতি টানার চেষ্টা করলেন। সেই চেষ্টা কতটা জনপ্রিয় হবে তা সময় বলবে।