প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত-মলদ্বীপ সহযোগী হবে, মুইজ্জুকে আশ্বাস মোদীর

দু’দিনের মলদ্বীপ সফরে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানকার রাষ্ট্রপতি মুইজ্জুর আমন্ত্রণে তিনি মলদ্বীপের ৬০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে অতিথি হিসেবে যোগ দেন তিনি। শুক্রবার দেশটির রাজধানী মালের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে প্রধানমন্ত্রীর বিমান। তাঁকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুইজ্জু।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংবাদিকঃ মলদ্বীপ সফরে গিয়ে রাষ্ট্রপতি মুইজ্জুর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার মোদী-মুইজ্জু বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করলেন, প্রতিরক্ষাক্ষেত্রে মলদ্বীপকে সমস্তরকম সহযোগিতা করবে ভারত। প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ারও ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

২০২৩ সাল থেকে ২০২৫ সাল, মাত্র ২ বছরেই পরিস্থিতি একেবারে আমূল বদলে গিয়েছে। ২০২৩ সালে মলদ্বীপের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে বেড়িয়ে মহম্মদ মুইজ্জু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তাঁর দেশের উপর ‘ভারতের সামরিক প্রভাব’ খর্ব করার। নেপথ্যে ছিল চিনা উস্কানি। সেই নির্বাচনে জেতার পরেই মলদ্বীপ ফৌজকে প্রশিক্ষণে সহযোগিতার জন্য মোতায়েন ভারতীয় সেনাকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। শুক্রবার সেই মুইজজ্জুই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে গেলেন সে দেশের প্রতিরক্ষা দফতরের নতুন সদর দফতরের উদ্বোধনে। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের যে উত্তপ্ত আঁচ ছিল সেই আঁচ নিভল এমনটা বলাই যায়।

মলদ্বীপের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ মুইজ্জু ভারতকে একদিকে ‘বিশ্বস্ত বন্ধু’ বলে উল্লেখ করলেন, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বললেন, ‘আমাদের সম্পর্কের শিকড় ইতিহাসের চেয়েও পুরোনো এবং সমুদ্রের মতো গভীর।’ ক্ষমতায় আসার পরেই চিনের প্রতি ভালোবাসার সম্পর্ক বিচ্ছেদ ঘটেছিল। দায়িত্ব নেওয়ার অল্প কিছু দিনেই মুইজ্জু বুঝে গিয়েছিলেন চিনা-সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে। আর তার পরেই ভারতের মান ভাঙাতে তৎপর হয়েছিলেন মুইজ্জু। এবার মলদ্বীপের মাটিতে মোদীর পা পড়তেই তাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। আর মলদ্বীপ মাথা নত করতেই বড় দাদার মতো মলদ্বীপের পাশে দাঁড়াল ভারত।

বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতা জোরদার করার জন্য মলদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুর সঙ্গে ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিস্তারিত আলোচনা পর্ব সম্পন্ন হয়েছে। উভয় নেতা উভয় দেশের ঐতিহ্যবাহী নৌকার স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করেন এদিন। সেই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, ‘এটা বোঝায় যে আমরা কেবল প্রতিবেশী নই, সহযাত্রীও।