মেয়েরা আরও বেশি করে ক্রিকেটে আসুক : রিচা

শিলিগুড়িতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি বিশ্বজয়ী ক্রিকেটার রিচা ঘোষ। “শিলিগুড়িতে স্টেডিয়ামের প্রয়োজন”, জানাচ্ছেন রিচা।

সুপ্রিয় বসাক, নিজস্ব সংবাদদাতা: দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিল ওম্যান্স ইন্ডিয়ান ক্রিকেট টিম। গোটা দেশ কুর্নিশ জানিয়েছিল এই মহিলা দলকে। বিশ্বজয়ীদের অভ্যর্থনা জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। তাঁর বাসভবনে গিয়েছিলেন হরমনপ্রীত কৌর-রিচারা। প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছেন ইন্ডিয়ান টিমের জার্সি। তাতে লেখা ছিল নমো।

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ছক্কা এসেছে রিচা ঘোষের ব্যাট থেকেই। মোট ১২টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন রিচা। তাঁর ধারেকাছে নেই কোনও ভারতীয় ক্রিকেটার। সেমিফাইনাল ও ফাইনালে দ্রুত রান করে দলকে ভাল জায়গায় পৌঁছে দিয়েছিলেন রিচা। বিশ্বজয় করে প্রশংসা কুড়িয়ে শুক্রবার নিজের জন্মস্থান শিলিগুড়িতে ফিরেছেন রিচা ঘোষ। ঘরে ফিরতেই রিচাকে ঘিরে মেতে উঠেছেন শিলিগুড়িবাসী। প্রবল উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে উত্তরবঙ্গে। প্রথমে মালা পরিয়ে রিচাকে স্বাগত জানানো হয়। সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দরে তাঁকে দেখতে বিপুল মানুষের সমাগম হয়। এরপর হুডখোলা জিপে করে বিমানবন্দর থেকে শিলিগুড়িতে ফিরেছেন রিচা। ঢাকঢোল বাজিয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান শহরবাসী। শুক্রবার দিনভর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন রিচা। তারপর সন্ধেয় সাংবাদিক বৈঠকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বাংলার বিশ্বজয়ী ক্রিকেটার রিচা।

সবাই যেভাবে ভালোবাসা দেখিয়েছেন, আমার খুব ভালো লাগছে জানালেন রিচা ঘোষ।

মেয়েদের ক্রিকেট খেলার পক্ষে সওয়াল করেন তিনি। ২২বছরের রিচা বলেন,  ‘‘মেয়েদেরকে আরও বেশি করে ক্রিকেটে আসতে হবে। আজকাল মেয়েরা পুলিশ হচ্ছে, ফুটবল খেলছে, ক্রিকেটও খেলছে। সেক্ষেত্রে শিলিগুড়িতে স্টেডিয়ামের প্রয়োজন“ – জানাচ্ছেন তিনি।

রিচা ঘোষ আরও বলেন, ‘‘অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ, ডব্লিউপিএল, এশিয়ান গেমস তারপর সিনিয়র জিতে ভালো লাগছে।‘‘

ঝুলন গোস্বামী অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন এককথায় স্বীকার করে নিলেন রিচা ঘোষ। তারপরই রিচা বলেন, ‘‘এই সাফল্যের পিছনে নিজের পরিবারের অবদান সবথেকে বেশি। শিলিগুড়িতে প্র্যাক্টিস হত, ঠিক কখা। কিন্তু বাবার হাত ধরে কলকাতায় এসে না খেললে এই সাফল্য আসতো না।‘‘

গোটা বিশ্বের সামনে ভারতের হয়ে খেলা এবং জেতার পিছনে কি কখনও কোনও নেতিবাচক ভাবনা আসেনি?  সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে রিচা বলেন, প্রথম থেকেই আমরা ভেবে নিয়েছিলাম চ্যাম্পিয়ন হতেই হবে। ছোট থেকেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু আগে কখনও হেরে গেলেও সর্বদা ভেবে এসেছি, পরেরবার ভালো হবে।“

আগামীদিনে রিচার লক্ষ্য টি-২০, তা নিজেই জানালেন তিনি।

একসময় মহিলা ক্রিকেটারদের ১হাজার টাকা করে বেতন দেওয়া হত। এখন মহিলা ও পুরুষদের ক্রিকেটে বেতন সমান করে দেওয়া হয়েছে। সেজন্য বিসিসিআই এবং জয় শাহকেও ধন্যবাদ দিলেন তিনি।

একদিন মেয়েদের বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে ছোট করা হত। কিন্তু মেয়েদের বিশ্বকাপে জয়ের পর সেই ছবিটা অনেকটাই বদলেছে বলে মনে করছেন ক্রিকেটা রিচা ঘোষ।

 ‘‘স্বপ্ন ছিল ভারতের হয়ে খেলার। ট্রফি জেতার স্বপ্ন নিয়ে খেলেছি। আমার সাফল্যে আমার মা-বাবার অবদান সবচেয়ে বেশি। এর আগেও আমরা ভাল খেলেছি। কিন্তু একাধিক বার বিশ্বকাপ হাতছাড়া হয়েছে। কিন্তু এ বার আমরা জিতলাম। ঝুলন গোস্বামীরাই আমাদের অনুপ্রেরণা।’’