দুই ছেলের নাম বাদ, আত্মহত্যা মায়ের !

“এমনিতেই নার্ভের সমস্যায় ভুগছিলেন রীনা দেবী। তার ওপর দোসর হয় এসআইআরে ছেলেদের নাম বাদ ও নিজের বিচারাধীন থাকার সমস্যা।”

শ্যাম বিশ্বাস, নিজস্ব সংবাদদাতা : ফের এসআইআর আতঙ্কে আত্মহত্যা!পরিবারের তরফে অন্তত এমনটাই অভিযোগ। নিজের নাম বিচারাধীন। তার ওপর এসআইআরে চূড়ান্ত তালিকায় নাম নেই দুই ছেলের।সবমিলিয়ে আশঙ্কা ও মানসিক চাপে ছিলেন বসিরহাটের বাদুড়িয়ার পশ্চিম চন্ডীপুর গ্রামের বাসিন্দা রিনা রানি কুণ্ডু।

রাজ্যে প্রকাশিত হয়েছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। সেই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে লক্ষাধিক মানুষের নাম। প্রতিবাদে ধর্মতলা ধর্না মঞ্চে বসেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন তিনি। অভিযোগ তোলেন এসআইরের নামে সধারণ মানুষকে হেনস্থা করা হচ্ছে।এমনকি এসআইআর চলাকালীন বেশকিছু আত্মহত্যার ঘটনা, জোড়ালো করে রাজ্যের তরফে ওঠা হেনস্থা ও মানসিক চাপের অভিযোগ। তার ওপর বসিরহাটের গৃহবধূর আত্মহননের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করল। পরিবারের তরফে জানানো হয় এমনিতেই নার্ভের সমস্যায় ভুগছিলেন রীনা দেবী। তার ওপর দোসর হয় এসআইআরে ছেলেদের নাম বাদ ও নিজের নাম বিচারাধীন থাকা।এইসবকিছু নিয়ে প্রবল মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তার ভার বহন করতে না পেরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি প্রকাশিত এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকায় দেখা যায় রীনাদেবীর দুই ছেলে শুভদীপ ও সৌমেনের নাম ভোটার তালিকা থেকে সম্পূর্ণ বাদ পড়েছে। অন্যদিকে খোদ রিনারানি কুন্ডুর নাম রাখা হয় বিচারাধীন তালিকায়। এলাকায় দীর্ঘদিনের বাস এবং যাবতীয় বৈধ নথি থাকার পরও কিভাবে এমন ঘটনা ঘটল , তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছিল পরিবারটি। পরিবারে দাবি ভোটার তালিকা প্রকাশের পর থেকেই ছেলেদের ভবিষ্যৎ এবং নিজেদের ভোটাধিকার হারানো নিয়ে চরম আতঙ্ক ও মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। বারবার একই প্রশ্ন করছিলেন ছেলেদের কি হবে ? তারা কি আর ভোট দিতে পারবেন না? সেই সমস্যা সমাধানে প্রামান্য নথি নিয়ে সোমবার দুপুরে বাদুরিয়া বিডিও দফতরে গিয়েছিলেন তার দুই ছেলে। সেই সময় তাদের কাছে খবর আসে, আত্মঘাতী হয়েছেন তার মা। তড়িঘড়ি বাড়িতে ফিরে দেখেন নিজের ঘরেই গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছেন তাদের মা।দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় বাদুরিয়া গ্রামীন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে ঘনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।বাবাকে হারিয়েছেন আগে।এবার মা কে হারিয়ে দিশাহারা ছেলেরা।

ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বাদুড়িয়া থানার পুলিশ। পরিবারের দাবি ও ঘটনার প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে প্রশ্ন একটা থেকেই যাচ্ছে বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও কেন বাদ গেল কুন্ডু পরিবারের দুই ছেলের নাম। সঠিক কারন এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এসআইআর নিয়ে সেভানে কারুর সমস্যা না থাকলেও, গোটা প্রক্রিয়াটি অল্প সময়ে দ্রুত শেষ করতে গিয়ে এই ধরনের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সাধারনকে। নির্বাচনী আবহে এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে অনিশ্চয়তায় ভুগছে লক্ষাধিক পরিবার।