তারাতলার বিল্ডিংয়ে পার্মিশনের কাগজে সই ছিল ফিরহাদ হাকিমের। সেই সই থাকা ফিরহাদ কেন রেহাই পেলেন ?

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : তারাতলার ঘটনায় উঠছে একাধিক প্রশ্ন। কে দায়ী? কে দোষী? তৎকালীন কলকাতার পুরসভার মেয়রের কতটা দোষ ছিল? তা নিয়ে বারবার আঙুল তুলছে একাধিক নেতা-নেত্রীরা। আগেই সরব হয়েছিলেন তৃণমূলের কুণাল ঘোষ। যে দোষে কালীচরণ গ্রেফতার হলেন, সেই দোষে আসল মাথা কেন রেহাই পাবে। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী যে কাগজ দেখিয়েছিলেন। মানে তারাতলার ওই বিল্ডিংয়ে পার্মিশনের কাগজে সই ছিল ফিরহাদ হাকিমের। সেই সই থাকা ফিরহাদ কেন রেহাই পেলেন । এটা কি তাঁকে তাহলে শুধু ভয় পাওয়ানোর জন্য? প্রশ্ন কুণাল ঘোষের।
২৪ জুন তারাতলা এলাকায় নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ধসে পড়ে৷ ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়েন বহু শ্রমিক। ঘটনাস্থলে টানা উদ্ধার অভিযান চালায় দমকল, কলকাতা পুলিশ, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং ভারতীয় সেনা। ঘটনার পর থেকেই নির্মাণে অনিয়ম, অনুমোদন, নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে । পুলিশ ইতিমধ্যেই তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। তদন্তের পরিধি বাড়ানো হয়। নির্মাণ সংস্থা, ঠিকাদার এবং তদারকির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদও চলে ।
এই ঘটনায় আগেই জালে ধরা পড়েন কালীচরণ, এবার ববির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের। তারাতলা গুদাম-বিপর্যয়ে প্রাক্তন মেয়রের বিরুদ্ধে থানায় নালিশ। এফআইআর করতে চেয়ে আবেদন ভারতীয় জনতা মজদুর সেলের। প্রাক্তন মেয়র ছাড়াও ২ প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধেও নালিশ। ২ প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর আনোয়ার খান, শামস ইকবাল। ৮০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর আনোয়ার খান। অভিযোগ জমা ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর শামস ইকবালের বিরুদ্ধেও। অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেফতারির দাবি ভারতীয় জনতা মজদুর সেলের। তারাতলাকাণ্ডে ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জমা। অবিলম্বে ঘটনায় সঙ্গে যাঁরা জড়িত তাঁদের কড়া শাস্তির দাবি ভারতীয় জনতা মজদুর সেলের। ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জমা পড়তেই রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, তিনি আগেই বলেছিলেন কাউকে ছাড়া হবে না।
তারাতলা বিপর্যয়ের তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন অভিযোগ এবং পাল্টা অভিযোগ। দায় কার, গাফিলতি কোথায়, আর এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার নেপথ্যে কারা ছিলেন। সেই উত্তর খুঁজতেই তদন্তকারীরা একের পর এক পদক্ষেপ করছেন। অভিযোগের তির এবার প্রাক্তন মেয়রের দিকেও পৌঁছেছে। তবে অভিযোগ দায়ের হওয়া মানেই তা প্রমাণিত নয়। তদন্ত শেষে আদালতেই স্পষ্ট হবে কার ভূমিকা কতটা ছিল। কিন্তু নিহত শ্রমিকদের পরিবারের একটাই দাবি। দোষী যে-ই হোক, যেন কোনওভাবেই আইনের হাত থেকে রেহাই না পায়।