স্বচ্ছ হাওড়া গড়ার নতুন উদ্যোগ পুরসভার

“সাফাই কর্মীদের বাড়ি থেকেই বর্জ্য পৃথকীকরণ”

রণজিৎ রায়, নিজস্ব সংবাদদাতা : শহরকে আরও পরিচ্ছন্ন ও বর্জ্যমুক্ত করে তোলার লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ নিল হাওড়া পুরসভা। এতদিন সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে বর্জ্য পৃথকীকরণে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হলেও, এ বার সেই কর্মসূচির সূচনা হল পুরসভার সাফাই কর্মীদের পরিবার থেকেই। ‘স্বচ্ছতা সে স্বাগত, স্বচ্ছতা ই সেবা’ অভিযানের আওতায় সাফাই কর্মীদের হাতে বর্জ্য পৃথকীকরণের বিশেষ পাত্র তুলে দেওয়া হল।

সোমবার এক অনুষ্ঠানে হাওড়া পুরসভার নবনিযুক্ত কমিশনার তেজস্বী রানা এই কর্মসূচির সূচনা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সরকারের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই এবং বিধায়ক সঞ্জয় সিং-সহ পুরসভার একাধিক আধিকারিক।

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে প্রতিটি বাড়িতে শুকনো ও ভিজে আবর্জনা আলাদা করে রাখার ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে পরিচ্ছন্নতার কাজে যুক্ত থাকা বহু সাফাই কর্মীর বাড়িতেই বর্জ্য পৃথকীকরণের উপযুক্ত পরিকাঠামো নেই। সেই অভাব দূর করতেই প্রথম পর্যায়ে তাঁদের হাতে পৃথকীকরণ পাত্র তুলে দেওয়া হচ্ছে।

পুর কমিশনার তেজস্বী রানা বলেন, ‘‘হাওড়াকে দ্রুত একটি পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলতে গেলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। তার জন্য শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ। সেই কারণেই আমরা সাফাই কর্মীদের বাড়ি থেকেই এই অভিযানের সূচনা করেছি।’’

তাঁর মতে, যাঁরা প্রতিদিন শহর পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব পালন করেন, তাঁদের পরিবার যদি বর্জ্য পৃথকীকরণের ক্ষেত্রে উদাহরণ তৈরি করে, তবে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। ফলে শহরজুড়ে বর্জ্য নিয়ন্ত্রণের কাজ আরও সহজ হবে।

রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর হাওড়া পুরসভা এলাকায় নাগরিক পরিষেবার উন্নয়নে একাধিক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পুরসভা সূত্রের দাবি, প্রায় ৪,৭০০ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। রাস্তা, নিকাশি, পানীয় জল ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার পাশাপাশি শহরকে পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক রূপ দেওয়ার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

পুরকর্তাদের একাংশের মতে, বর্জ্য পৃথকীকরণকে অভ্যাসে পরিণত করা গেলে শহরে আবর্জনার পরিমাণ কমবে, পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য সহজে চিহ্নিত করা যাবে এবং পরিবেশ দূষণও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। সেই লক্ষ্যেই হাওড়া পুরসভার এই নতুন উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।