বাংলা ভাষাভাষী শ্রমিকদের ওপর দেশের বিভিন্ন রাজ্যে লাগাতার নির্যাতনের অভিযোগ তুলে বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি অভিযোগ করেছেন, হরিয়ানা ও রাজস্থানের মতো রাজ্যে বাংলা থেকে যাওয়া গরীব বাংলা ভাষাভাষী শ্রমিকদের আটক, নিগ্রহ এবং বাংলাদেশে অবৈধভাবে ঠেলে দেওয়ার মত মারাত্মক ঘটনা সামনে আসছে। বাঙালি নিগ্রহে মমতার সুরেই সুর মেলালেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংবাদিকঃ বাংলা ভাষার স্বার্থে যে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেই প্রতিবাদের সুরই শোনা গেল ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা মানিক সরকারের কন্ঠে। তিনি বলেছেন, বাংলা ভাষায় কথা বললেই এখন বাংলাদেশি বলা হচ্ছে। এসব করছে বিজেপি-আরএসএস। তারা একটি সম্প্রদায়ের মানুষকে টার্গেট করেছে। বাংলা যাঁদের মাতৃভাষা, তাঁরা সেই ভাষায় কথা বললেই বাংলাদেশি হয়ে গেল, এটা ঠিক নয়। মানিকের পর্যবেক্ষণ, বাংলাদেশের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপি-আরএসএস নতুন সংবিধান তৈরির নামে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, এটা তারমধ্যে একটি। সংখ্যালঘু, দলিত বিদ্বেষী মনোভাব দেখাচ্ছে বিজেপি।

মমতার সুরে সুর মিলিয়ে মানিক সরকার বলেছেন, মুসলিমদের একটা বড় অংশের ভাষা বাংলা। তারা বাংলায় কথা বললেই কি বাংলাদেশি হয়ে গেল? তাঁর আরও প্রশ্ন, “এটা কে স্থির করে দিল? আসলে এটা বিজেপি-আরএসএসের মুসলিম দলিত ও মহিলা বিদ্বেষী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন।” যেভাবে মমতা এই ইস্যুতে পথে নেমেছেন। বড় সমাবেশ করে সেই মঞ্চ থেকে বাঙালিদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন, সেটারও প্রশংসা করছেন মানিক।

এদিন তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশ থেকে ত্রিপুরায় অনুপ্রবেশ হচ্ছে না। বিজেপি সরকার এটা ভুল বলছে। আসলে, আরএসএস পরিচালিত বিজেপি সরকার বাংলা ভাষায় কথা বললেই তাঁদেরকে বাংলাদেশী বলছেন, বিশেষ করে মুসলিমদের। মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকদের মাতৃভাষাই হল বাংলা ভাষা। কিন্তু তাঁদেরকে বাংলাদেশী বলছে বিজেপি সরকার।গোটা দেশে মুসলিম, মহিলা এবং দলিত অংশের বিদ্বেষী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নতুন সংবিধান তৈরী করার চেষ্টা করছে আরএসএস পরিচালিত বিজেপি সরকার। এই সংবিধানকে কার্যকরী করার জন্য নতুন নতুন কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন তাঁরা। এর তীব্র বিরোধিতা করছে সিপিআইএম। ২১শে জুলাইয়ের প্রসঙ্গ টেনে মানিক সরকার বলেন, গত ২১ জুলাই বাৎসরিক কর্মসূচি করেছে মুখ্যমন্ত্রীর দল। বিরাট জমায়েত হয়েছিল কলকাতায়। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন গোটা বিষয়টি। বাংলা ভাষায় কথা বললেই বাংলাদেশি বলে তকমা দেওয়াকে তা আমরা সমর্থন করি না।
অন্যদিকে ভিনরাজ্যে বাঙালিদের আক্রান্ত হওয়া নিয়ে একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকেই সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শহিদ সমাবেশের মঞ্চ থেকে কেন্দ্রের জারি করা বাঙালি বিরোধী সার্কুলার তুলে ধরে মমতা দাবি করেন, ঘুরপথে কেন্দ্র এনআরসি করার চেষ্টা করছে।