ইডির স্ক্যানারে মিন্ত্রার বেনিয়ম, দায়ের ১৬৫৪ কোটির মামলা!

‘মিন্ত্রা’ এক অত্যন্ত প্রচলিত ই-কমার্স অ্যাপ। যার ওপর পড়েছে ইডির নজর। মিন্ত্রার বিরুদ্ধে দায়ের হল মামলাও।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়,নিজস্ব প্রতিনিধিঃ- জামাকাপড় হোক কিংবা কসমেটিক্স এই সময়ে দাঁড়িয়ে যাদের সম্ভারের ওপরে চোখ বন্ধ করে ভরসা করা যায় সেই শপিং সাইট হল মিন্ত্রা। সেই অ্যাপের বিরুদ্ধেই উঠল এক বড়সড় বেনিয়মের অভিযোগ!

এই মুহূর্তে ইডির স্ক্যানের মিন্ত্রা। মিন্ত্রার বিরুদ্ধে বিদেশি বিনিয়োগ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠছে আর এই কারণে ১৬৫৪ কোটি টাকার মামলা দায়ের করা হয়েছে মিন্ত্রা ডিজাইনস প্রাইভেট লিমিটেড ও সম্পর্কিত সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে। এই ১৫৬৪কোটি টাকার হিসাবেই দুর্নীতি খুঁজে পেয়েছে ইডি। এই মুহূর্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে ইডির ব্যবসা সংক্রান্ত নথিপত্র। ফরেন এক্সচেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট অর্থাৎ ফেমার অধীনে মিন্ত্রা এবং তার সহযোগী সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

ইডির বেঙ্গালুরু জোনাল অফিসের এক বিবৃতি থেকে জানা গেছে মিন্ত্রা এবং এর সহযোগী সংস্থাগুলি হোলসেল ক্যাশ অ্যান্ড ক্যারি কার্যক্রমের আড়ালে মাল্টি-ব্র্যান্ড রিটেল ট্রেডিং পরিচালনা করছিল, যা বর্তমান এফডিআই নীতি দ্বারা অনুমোদিত নয়। অর্থাৎ মিন্ত্রা মাল্টি-ব্র্যান্ড খুচরো বাণিজ্য তথা এমবিআরটি করে ‘হোলসেল ক্যাশ অ্যান্ড ক্যারি’ তথা পাইকারি পদ্ধতিতে ব্যবসা করছিল যেটি বিদেশি বিনিয়োগ আইনে অনুমোদিতই নয়।
ভারতের এফডিআই নীতিতেও এটি গুরুতর অপরাধ। এর জন্যই ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মটির বিরুদ্ধে মামলা করেছে ইডি। ভারতের আইন অনুযায়ী, কোনও সংস্থা মাল্টি ব্র্যান্ড রিটেল ট্রেডিংয়ের জন্য বিদেশি বিনিয়োগ পেতে পারে না। ইডির তরফে ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভারতের নতুন এফডিআই নীতি অনুযায়ী, হোলসেল মডেলে ব্যবসা করা কোনও সংস্থা তাদের পণ্যের সর্বাধিক ২৫% সংশ্লিষ্ট গ্রুপের কোনও সংস্থায় বেচতে পারে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, মিন্ত্রা তাঁদের পণ্যের ১০০ শতাংশ তাদের গ্রুপেরই ভেক্টর ই-কমার্সকে বেচেছে, যা বেআইনি। এই ভেক্টর ই-কমার্স একই গ্রুপের সংস্থা, যার অধীনে মিন্ত্রা রয়েছে। এর পরে ভেক্টর ই-কমার্স অনলাইনে খুচরো বিক্রি করে, এটিকে মাল্টি ব্র্যান্ড রিটেল ট্রেডিং বলা হয়ে থাকে।

মিন্ত্রার সদর দফতর কর্নাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুতে। ২০০৭ সাল নাগাদ এর যাত্রা শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে ক্রমশই বেড়েছে এর জনপ্রিয়তা। আগামী বছরে একাধিক পরিকল্পনা ছিল সংস্থাটির। কিন্তু তার আগেই এরকম বিতর্কে নাম জড়াল মিন্ত্রার।