ফলতায় কেন্দ্রীয় জওয়ানের রহস্যমৃত্যু!

নির্বাচনী দায়িত্বে গিয়ে অস্বাভাবিক মৃত্যু। স্কুলের বারান্দা থেকে জওয়ানের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে তোলপাড়।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : নির্বাচনী দায়িত্বে এসে অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের দোস্তিপুর এলাকায়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক জওয়ানের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। মৃত জওয়ানের নাম কনক কোচ, তিনি আসামের বাসিন্দা এবং আইটিবিপি (ITBP)-র একজন হেড কনস্টেবল ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আসন্ন নির্বাচনের কাজের জন্য প্রায় ৮৬ জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান ফলতা এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছিল। তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করা হয় দোস্তিপুর হাইস্কুলে। অন্যান্য জওয়ানদের সঙ্গে কনক কোচও সেখানেই অবস্থান করছিলেন। মঙ্গলবার রাতে খাওয়া-দাওয়া সেরে সকলেই নিজেদের মতো বিশ্রামে যান।
বুধবার সকালে আচমকাই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে, যখন স্কুলের বারান্দা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় কনক কোচের দেহ। সহকর্মীরা প্রথমে বিষয়টি লক্ষ্য করেন এবং তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় ডায়মন্ড হারবার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। তবে সেখানকার চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর মধ্যে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ এবং শুরু হয় প্রাথমিক তদন্ত। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ডায়মন্ড হারবার পুলিশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে ওই জওয়ানের মৃত্যু হতে পারে। যদিও ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, এটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে।
নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে এসে এই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার জেরে নিরাপত্তা এবং জওয়ানদের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সহকর্মীরা শোকাহত, একইসঙ্গে ঘটনাটির সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারাও এই ঘটনায় স্তম্ভিত। একটি স্কুল চত্বরে, যেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা অবস্থান করছিলেন, সেখানে এই ধরনের অস্বাভাবিক মৃত্যু এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে।
সব মিলিয়ে, ফলতার দোস্তিপুরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের এই রহস্যমৃত্যু ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সামনে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।