প্রেমানন্দ-শিষ্যের রহস্যমৃত্যু, সিসিটিভিতে হাড়হিম দৃশ্য!

একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে প্রাণ শেষের ঠিক আগের দৃশ্য। কিন্তু সেই দৃশ্য দেখেও যেন পুরো ঘটনাটা বোঝা যাচ্ছে না। বরং যতই তদন্ত এগোচ্ছে ততই সামনে আসছে নতুন নতুন প্রশ্ন। মাত্র ১১ মিনিট একজন মানুষ নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে ছাদে পৌঁছলেন। কিছুক্ষণ সেখানে থাকলেন, আর তারপরই ঘটে গেল মর্মান্তিক ঘটনা। এই ১১ মিনিটের মধ্যেই কি লুকিয়ে রয়েছে মৃত্যুর আসল রহস্য? বৃন্দাবনে প্রেমানন্দ মহারাজের শিষ্য রসিক দুলারি শরণ ওরফে দীপক লোধির মৃত্যু ঘিরে এখন এই প্রশ্নই সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহ*ত্যা বলে মনে করলেও তদন্তকারীরা মৃত্যুর আগে ঠিক কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখছেন। কারণ সিসিটিভির ফুটেজ, ময়নাতদন্তে পাওয়া আঘাত ও তাঁর ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া একটি গ্রাইন্ডার। সব মিলিয়ে তদন্তে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

ঘটনাটি ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে। উত্তরপ্রদেশের বৃন্দাবনের গুরু কৃপা কুঞ্জ আশ্রমে থাকতেন দীপক লোধি। দীক্ষা নেওয়ার পর তিনি রসিক দুলারি শরণ নামে পরিচিত হন। পুলিশ জানিয়েছে, ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ আশ্রমের চারতলার ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। আশ্রমের লোকজন তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই রসিক দুলারি শরণ শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। প্রথমে ঘটনাটিকে আত্মহ*ত্যার ঘটনা বলেই মনে করেছিল পুলিশ। ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফরেন্সিক দলও প্রমাণ সংগ্রহ করে। কিন্তু তদন্ত যত এগোয়, ততই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে রসিক দুলারি শরণ প্রাণ শেষ করার ঠিক আগে কী হয়েছিল?

পুলিশের হাতে থাকা সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের ছবি পাওয়া গিয়েছে। সকাল ১০টা ২৫ মিনিট নাগাদ রসিক দুলারি শরণ তাঁর ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। তাঁর পোশাকে রক্তের দাগ দেখা গিয়েছিল বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি। ঘর থেকে বেরোনোর পর কিছুক্ষণ তিনি বাইরে ছিলেন। এরপর তাঁকে উপরের দিকে যেতে দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত তিনি চারতলার ছাদে পৌঁছন। সেখানে কিছুক্ষণ বসে থাকার পর তাঁকে মাটিতে শুয়ে পড়তেও দেখা যায়। প্রায় ১০ সেকেন্ড পর তিনি উঠে দাঁড়ান। আর সকাল ১০টা ৩৬ মিনিট নাগাদ তিনি ছাদ থেকে নীচে পড়ে যান। অর্থাৎ, ঘর থেকে বেরোনো ও ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার মাঝের প্রায় ১১ মিনিট এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময়।

এই ১১ মিনিটের মধ্যেই আসলে কী ঘটেছিল সেটাই এখন তদন্তকারীদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কারণ ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার দৃশ্য সিসিটিভিতে ধরা পড়লেও তার আগে তাঁর ঘরে বা আশ্রমের অন্য কোনও জায়গায় কী ঘটেছিল তার সম্পূর্ণ ছবি এখনও পরিষ্কার নয়। তিনি কারও সঙ্গে দেখা করেছিলেন কি না, কারও সঙ্গে কথা বলেছিলেন কি না, অথবা তাঁর শারীরিক অবস্থায় ওই সময় কোনও পরিবর্তন হয়েছিল কি না। এই সবকিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ তাঁর মোবাইল ফোনের তথ্য, চ্যাট, ভিডিও ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্যও পরীক্ষা করছে বলে রিপোর্টে জানা গিয়েছে। এর মধ্যেই তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসে। দীপকের ঘর থেকে একটি গ্রাইন্ডার উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই গ্রাইন্ডারে রক্তের দাগ ছিল। ময়নাতদন্তেও তাঁর শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর গোপ*নাঙ্গে গুরুতর আঘাত বা কাটার চিহ্নের কথাও সামনে এসেছে। এই আঘাতগুলির সঙ্গে গ্রাইন্ডারের কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না সেটি তদন্তের বিষয়। গ্রাইন্ডারটি ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ফলে এই মুহূর্তে শুধু যন্ত্রটি উদ্ধার হয়েছে বা তাতে রক্তের দাগ ছিল। ফরেন্সিক রিপোর্টই এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

দীপকের পরিবারের বক্তব্যও এই ঘটনায় নতুন প্রশ্ন তুলেছে। পরিবারের দাবি, দীক্ষা নেওয়ার পর থেকেই দীপকের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ অনেকটাই কমে গিয়েছিল। তাঁরা নাকি একাধিকবার আশ্রমে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেছিলেন। এমনকি ঘটনার আগে কয়েক দিন ধরে তাঁরা আশ্রমে গেলেও দীপকের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের আরও দাবি, দীপক নিজেকে শেষ করতে পারেন না। ময়নাতদন্তে পাওয়া আঘাত, গ্রাইন্ডার, রক্তের দাগ, সিসিটিভি ফুটেজ ও পরিবারের অভিযোগ প্রতিটি তথ্যকে প্রমাণের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার পরই প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব হবে।

যে আশ্রমে আধ্যাত্মিকতার টানে বিরাট কোহলি ও অনুষ্কা শর্মার মতো তারকারাও প্রেমানন্দ মহারাজের সঙ্গে দেখা করতে আসেন প্রায়ই। আর সেই আশ্রমেই এক শিষ্যের প্রাণহানির ঘটনা ঘিরে এখন উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। রসিক দুলারি শরণের প্রাণ শেষ করার ঠিক আগে কী ঘটেছিল তা এখনও তদন্তের বিষয়।